12:49 pm, Monday, 3 August 2026

সিলেটে যে কারণে ধীরে নামছে বন্যার পানি

সিলেট প্রতিনিধি :: স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট বিভাগ। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ দুই জেলা পড়েছে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য সময় বন্যার পানি দ্রুত নেমে গেলেও এবার একেবারে ধীরে নামছে পানি। এর পেছনে নদীর নাব্যতা সংকট, হাওরে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, হাওর ভরাট হয়ে যাওয়া প্রভৃতিকে কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে সদ্য গত হওয়া জুন মাসের ১৬ তারিখ থেকে বন্যার আঘাত শুরু হয়। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জেলা-উপজেলার অনেক জায়গা এখন নিমজ্জিত হয়ে আছে। বন্যার পানি এতো ধীর গতিতে নামার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর এবং পরিবেশকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক আহমদ বলছেন, সাধারণত সিলেটের পানি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালনী নদী দিয়ে ভৈরব হয়ে মেঘনায় গিয়ে মেশে। গত কয়েক দশকে কালনী ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহের পথ অনেকটা রুদ্ধ হয়েছে। ভরাট হয়েছে হাওরও। তাই এখন বৃষ্টিপাত কমে এলেও বন্যার পানি সহজে নামছে না।

হাওরের প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা লেখক-গবেষক পাভেল পার্থ মনে করেন, অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানি ধরে রাখার প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া এবং পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ করায় সিলেট অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, হাওরে যেভাবে আগে পানি নামতো, এখন সেভাবে নামছে না। সুনামগঞ্জের হাওরগুলোর যদি পানি ধারণের ক্ষমতা আগের মতো থাকতো, তবে সিলেটে পানি জমে থাকার সুযোগ পেত না।

তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বন্যা এড়াতে সিলেটে নদী খনন করা হবে।

তবে নদী খনন যাতে কার্যকর হয় এবং নদী খনন করে মাটি যাতে আবার নদীর তীরেই ফেলে রাখা না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। তিনি বলেন, ‘নদীর মাটি নদীতে ফেলে খনন নয়। কার্যকর নদী খননের উদ্যোগ নিতে হবে। এবার বন্যার ভয়াবহতা দেখে আমরা বুঝেছি, এমন বিপদ সামনে আরও আছে।’

 

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

৯বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

সিলেটে যে কারণে ধীরে নামছে বন্যার পানি

Update Time : 11:21:29 am, Friday, 1 July 2022

সিলেট প্রতিনিধি :: স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট বিভাগ। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এ দুই জেলা পড়েছে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কবলে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্যান্য সময় বন্যার পানি দ্রুত নেমে গেলেও এবার একেবারে ধীরে নামছে পানি। এর পেছনে নদীর নাব্যতা সংকট, হাওরে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, হাওর ভরাট হয়ে যাওয়া প্রভৃতিকে কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সিলেটে সদ্য গত হওয়া জুন মাসের ১৬ তারিখ থেকে বন্যার আঘাত শুরু হয়। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জেলা-উপজেলার অনেক জায়গা এখন নিমজ্জিত হয়ে আছে। বন্যার পানি এতো ধীর গতিতে নামার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর এবং পরিবেশকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক আহমদ বলছেন, সাধারণত সিলেটের পানি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কালনী নদী দিয়ে ভৈরব হয়ে মেঘনায় গিয়ে মেশে। গত কয়েক দশকে কালনী ভরাট হয়ে পানিপ্রবাহের পথ অনেকটা রুদ্ধ হয়েছে। ভরাট হয়েছে হাওরও। তাই এখন বৃষ্টিপাত কমে এলেও বন্যার পানি সহজে নামছে না।

হাওরের প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করা লেখক-গবেষক পাভেল পার্থ মনে করেন, অতিবৃষ্টি ও ঢলের পানি ধরে রাখার প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ভরাট ও দখল হয়ে যাওয়া এবং পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ করায় সিলেট অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমেদ বলেন, হাওরে যেভাবে আগে পানি নামতো, এখন সেভাবে নামছে না। সুনামগঞ্জের হাওরগুলোর যদি পানি ধারণের ক্ষমতা আগের মতো থাকতো, তবে সিলেটে পানি জমে থাকার সুযোগ পেত না।

তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বন্যা এড়াতে সিলেটে নদী খনন করা হবে।

তবে নদী খনন যাতে কার্যকর হয় এবং নদী খনন করে মাটি যাতে আবার নদীর তীরেই ফেলে রাখা না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন হাওর ও পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা। তিনি বলেন, ‘নদীর মাটি নদীতে ফেলে খনন নয়। কার্যকর নদী খননের উদ্যোগ নিতে হবে। এবার বন্যার ভয়াবহতা দেখে আমরা বুঝেছি, এমন বিপদ সামনে আরও আছে।’