জকিগঞ্জ(সিলেট)প্রতিনিধি:
সিলেটের জকিগঞ্জের এক প্রবাসীকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে অপহরণ করে হত্যার পরও ক্ষান্ত হয়নি ব্যবসায়ি নামধারী চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী আসাদ উদ্দিন। প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েল ও তার পরিবারের লোকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঈদুল আজহার দিন গত বুধবার(২৭ মে) দুপুরে আসাদ উদ্দিন বাহিনী তাদের বসত বাড়িতে উপস্থিত হয়।তবে, প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েল, তার বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক-সহ পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে না থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তারা মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েলের চাচা শামছুল হককে হুমকি দিয়ে বলেছে, তারা আবারও আসবে।জুয়েলকে না ফিরিয়ে আনলে তার পরিবারের সবাইকে খুন করবে। সে পৃথিবীর যেখানেই থাকে না কেন তাকে খোঁজে বের করা তাদের জন্য কঠিন নয়।
জানা গেছে, সিলেটের ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ আসাদ উদ্দিনের চাঁদা দাবী ও হত্যার হুমকিতে স্বামী মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েল প্রবাসে গিয়ে প্রাণরক্ষা করলেও চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বান্ধবীর বাসায় আত্মগোপন করেও জীবন রক্ষা করতে পারেননি স্ত্রী ইসরাত জাহান অপি। প্রতিপক্ষ তাকে অপহরণ করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। গত ৫ এপ্রিল রাতে রাঙ্গুনিয়া হেল্থ কেয়ার এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করেছে।
নিহত ইসরাত জাহান অপির স্বামী মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েল বর্তমানে প্রবাসী। তিনি সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার সরিষা গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল মালিক ও জামিলা আক্তারের ছেলে। অপির বাবা কামাল উদ্দিন হেনু মিয়া ও মা মোছাঃ শাহনা বেগম সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুচাই ইউনিয়নের শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
জানা গেছে, ইসরাত জাহান অপির স্বামী মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েলের বাবার সিলেট সিটির জিন্দাবাজারে ‘আলম মটরস’ নামে একটি দোকান ছিল। জুয়েল দোকানটি পরিচালনা করতেন। দিন দিন ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় পার্শবর্তী ব্যবসায়ি আসাদ উদ্দিন নানাভাবে তাকে ক্ষতিগ্রস্থ করার অপচেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে জুয়েল মার্কেট কমিটির কাছে বিচারপ্রার্থী হয় এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করতে যায়।একথা শুনে আসাদ উদ্দিন তার ওপর আরো ক্ষীপ্ত হয়।আসাদ উদ্দিন মুলত ব্যবসার আড়ালে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, জমিদখল, সন্ত্রাসীপনাসহ নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালাতো। ছদ্মবেশি ব্যবসায়ি আসাদ উদ্দিন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে সেই সরকারের আর্শীবাদপুষ্ট হয়ে অপকর্ম চালিয়ে যায়। ২০২৪ এর ৫ আগষ্টের পূর্বে আওয়ামী লীগের প্রভাবে সে বেপরোয়া হয়ে উঠে। এখন বর্তমান সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসানের সাথে হাত মিলিয়ে এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অবৈধভাবে জমানো বিরাট অর্থের পাহাড় দিয়ে নানা ধরনের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী অপকর্ম এবং পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে ।
স্ত্রী হত্যা ও ঈদের আগের দিন দুপুরে বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলার অপচেষ্টার ব্যাপারে মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েল ও তার পিতা-মাতার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।তবে জুয়েলের চাচা শামছুল হক-কে পাওয়া যায়।তিনি জানান, ‘ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষ আসাদ উদ্দিন আমার ভাতিজার কাছে চাঁদা দাবি করে। প্রাণভয়ে সে তাকে দুই লক্ষ টাকা চাঁদাও দিয়েছে। কিছুদিন পর আরো ৫০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে।বিরাট অঙ্কের এই চাঁদা না দেওয়ায় সে নানাভাবে জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন করতে থাকে। সে আমার ভাতিজাকে হত্যার হুমকি দেয় এবং কয়েকবার হত্যার চেষ্টাও করেছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে প্রাণরক্ষার্থে আমার ভাতিজা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেলে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই চলে যায়। পরবর্তীতে দেশে আসলে আবারো হামলার শিকার হয়। কিন্ত আমার ভাতিজাকে না পেয়ে আসাদ উদ্দিন ও তার ভাড়াটিয়া বাহিনী তার পরিবারকে হত্যার হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। অব্যাহত হত্যার হুমকিতে তার বাবা-মা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। সবচেয়ে বেশি প্রাণনাশের হুমকিতে ছিল মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েল স্ত্রী। যার কারণে সে তার স্ত্রীকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বান্ধবীর বাসায় পাঠিয়ে দেয়। কিন্ত সেখানেও রক্ষা পাযনি। তাকে অপহরণের পর হত্যা করে।ঈদুল আযহার একদিন আগে গত বুধবার ২৭ মে দুপুরে সন্ত্রাসী আসাদ উদ্দিনের নেতৃত্বে মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর ও তার বাবা-মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বসতবাড়িতে গিয়েছিল আসাদ উদ্দিনের বিশাল বটবাহিনী। তারা কেউ বাড়িতে না থাকায় বেঁচে যায়।
মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েলের চচা শামছুল হক আরো বলেন, এসময় আসাদ উদ্দিনের বটবাহিনী তাকে হুমকি দিয়ে গেছে, তারা আবারও আসবে। তখন মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর জুয়েলকে যেন বাড়িতে আনা হয়। পৃথিবীর যেখানে সে থাকুক না কেন, তাকে খোঁজে বের করতে তাদের সময় লাগবে না।জুয়েলার চাচা আরও জানান, তিনি তার বড় ভাইয়ের পরিবারের উপর সরাসরি হুমকির ঘটনায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন, আতংকিত ও খুব বেশি চিন্তিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















