ডেস্ক রিপোর্ট : দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল শেফিল্ড ইউনাইটেড। একজন কম নিয়ে খেলে ম্যাচে ফেরার পর জয়ের আশাও জেগেছিল।
কিন্তু শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হারতে হলো তাদের। দলের এই হারের চেয়েও বাংলাদেশের হামজা চৌধুরীকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত বেশি পোড়াচ্ছে ক্রিস ওয়াইল্ডারকে।
শেফিল্ড কোচের মতে, ওই পরিস্থিতিতে ফাউল এড়ানোর তেমন কোনো সুযোগই ছিল না হামজার।
ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে বুধবার রাতে পোর্টসমাউথের মাঠে ৩-২ গোলে হেরেছে শেফিল্ড ইউনাইটেড।
প্রথমার্ধে দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন হামজা। তার বিদায়ের পর ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল সফরকারীরা।
তবে ৮৯তম মিনিটে এবু অ্যাডামসের গোলে জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন হামজা। পোর্টসমাউথের রায়ান কাভুমা-ম্যাককুইনকে ফাউল করে সতর্কবার্তা পান বাংলাদেশের এই মিডফিল্ডার। নয় মিনিট পর একই ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষে আবারও কার্ড দেখতে হয় তাকে।
এবার হামজার দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল বের করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কাভুমা-ম্যাককুইন। সেই সময় হামজার পায়ের সঙ্গে লেগে পড়ে যান তিনি। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে বাংলাদেশি ফুটবলারকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি অলিভার ল্যাংফোর্ড।
এই সিদ্ধান্ত মোটেও মানতে পারছেন না ওয়াইল্ডার। ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে শেফিল্ড কোচ বলেন, ‘হামজা আর কোথায় যেতে পারত? আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না, ওই পরিস্থিতিতে হামজার কোথায় যাওয়ার কথা ছিল।’
হামজাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রেফারি ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন ওয়াইল্ডার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে হামজাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি ল্যাংফোর্ড। কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত বদলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান তিনি।
রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও কিছু বলতে চাইলেও সম্ভাব্য শাস্তির কথা মাথায় রেখে নিজেকে সংযত রাখেন শেফিল্ড কোচ, ‘আমাকে খুব সতর্ক থাকতে হচ্ছে। কারণ, আমি হয়তো যা বলতে চাই, তার সবকিছু বলতে পারছি না।’
শুধু হামজার লাল কার্ডই নয়, ম্যাচে রেফারির আরও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও অসন্তুষ্ট ওয়াইল্ডার। শেষ দিকে পোর্টসমাউথের বক্সের ভেতর শেফিল্ডের এক ফুটবলারের জার্সি টেনে ধরা হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।
এই ঘটনার সঙ্গে এক সপ্তাহ আগে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ওয়েস্ট হামের পাওয়া পেনাল্টির তুলনা টানেন ওয়াইল্ডার। ওই ম্যাচে ৯৩তম মিনিটে জার্সি টানার ঘটনায় পেনাল্টি পেয়েছিল ওয়েস্ট হাম।
শেফিল্ড কোচের দাবি, সেই ম্যাচে জার্সি টানার বিষয়টি চতুর্থ রেফারিও স্বীকার করেছিলেন। তাহলে একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত কেন দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, ‘এটা এমন অনেকগুলো সিদ্ধান্তের একটি, যেগুলো আমাকে ভীষণ হতাশ করেছে।’
রেফারিংয়ের মান ও সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওয়াইল্ডার, ‘আমাদের বিপক্ষে এই রেফারির পরিচালনা করা শেষ দুই ম্যাচেই তিনজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছে। চ্যাম্পিয়নশিপে উঠে আসার মতো তরুণ ও সম্ভাবনাময় রেফারিরা কোথায়?’
ম্যাচে অবশ্য শুরুতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি পোর্টসমাউথ। প্রথম ৪০ মিনিটে দুই দলের লড়াই ছিল অনেকটাই সমানে সমান।
৪১তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন জ্যাক সোয়ানসন। বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জালের ওপরের কোণায় পাঠান তিনি।
এর তিন মিনিট পরই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন হামজা। ফলে প্রথমার্ধের শেষ দিক থেকেই ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় শেফিল্ডকে। বিরতির পর ৫৪তম মিনিটে আদ্রিয়ান সেগেচিচের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পোর্টসমাউথ।
তবে একজন কম নিয়েও হাল ছাড়েনি শেফিল্ড।
৫৯তম মিনিটে জ্যাফেট টাঙ্গাঙ্গার গোলে ব্যবধান কমায় তারা। আট মিনিট পর টম ক্যাননের গোলে সমতায় ফেরে সফরকারীরা।
দারুণ প্রত্যাবর্তনের পর মনে হচ্ছিল, অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারবে শেফিল্ড।
কিন্তু ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আবারও ধাক্কা খায় ওয়াইল্ডারের দল। ৮৯তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা অ্যাডামসের গোলে জয় নিশ্চিত করে পোর্টসমাউথ।

নিজস্ব প্রতিবেদক 



























