আকরামুল রাজ্জাক চৌধুরী,কমলগঞ্জ: কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর বস্তি এলাকায় এক সৌদি প্রবাসী নারীর বসতবাড়ি জবরদখল, হামলা, ভাঙচুর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কমলগঞ্জ ইউনিট কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে একই এলাকার বশির মিয়া, আমজাদ মিয়া, আহমদ মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন সৌদি ফেরত পলি বেগম।
লিখিত বক্তব্যে পলি বেগম জানান, তার স্বামী মছব্বির মিয়াসহ পরিবারের পাঁচ ভাই ও তাদের পরিবার-পরিজন দীর্ঘদিন ধরে মৌরসী সূত্রে প্রাপ্ত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসছেন। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য তিনি সৌদি আরবে প্রবাসে গিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে আলীনগর বস্তিতে আধাপাকা বসতঘর নির্মাণ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী বশির মিয়া (৫০), আমজাদ মিয়া (৪৫), আহমদ মিয়া (৪৫), আহাদ মিয়া (৩০), রাজু মিয়া (২৩), কাঞ্চন বিবি (৪০), পপি বেগম (২৬)সহ আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের বসতবাড়ি ও সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের ষড়যন্ত্র করে আসছে। তারা হামলা, ভাঙচুর, নির্যাতন ও নানা ধরনের হয়রানি চালিয়ে পরিবারটিকে নিরাপত্তাহীনতায় ফেলেছে।
পলি বেগম জানান, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর বিকেলে অভিযুক্তরা অবৈধভাবে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে বসতঘর ভাঙচুর, বাঁশঝাড় বিনষ্ট এবং তার ভাসুর মোস্তফা মিয়াকে আহত করে। এর দুই দিন পর ১৪ ডিসেম্বর আবারও হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের পাশাপাশি তার ভাসুরের স্ত্রী রায়না বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।
এছাড়া আহম্মদ হোসেনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি পুনরায় বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার দেবর জহির আলীর স্ত্রী সীমা বেগমের পেটে লাথি মেরে চার মাসের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় কমলগঞ্জ থানা, পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শ্রীমঙ্গল সেনা ক্যাম্প এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু বিচার পাননি বলে দাবি করেন পলি বেগম।
তিনি আরও বলেন, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে সন্ত্রাসীচক্রটি আবারও অতর্কিত হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে তার পাকা বসতবাড়ির দেয়াল ভাঙচুর করে এবং ঘরের টিন খুলে নিয়ে যায়। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ৮৫ হাজার টাকা, ১ ভরি ওজনের কানের দুল এবং প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের একটি গলার হার লুট করে নেয়।
এই ঘটনায় তার ভাসুর মোস্তফা মিয়া বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলেও আসামিরা এখনো এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পলি বেগমের স্বামী মছব্বির মিয়া, ভাসুর মোস্তফা মিয়া, জহির মিয়ার স্ত্রী সীমা বেগম এবং মছব্বির মিয়ার দুই শিশু সন্তান।
অভিযুক্ত আহম্মদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আমির হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















