8:24 am, Wednesday, 24 June 2026

আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না: জামায়াত আমির

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখানে তো আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না। এখানেই আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, ওঠাবসা-বসবাস করা লোকেরাই চাঁদাবাজি করে।

তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি। সংসদে আমি বলেছিলাম, সংসদ সদস্যরা যদি সিদ্ধান্ত নেন যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস করবে না।

আমরা চাই চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।
মঙ্গলবার মিরপুর-১ শাহ আলী পাইকারি বাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় ব্যবসায়ীরা নীরব চাঁদাবাজির অভিযোগ করলে তিনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রতিরোধ করতে হবে সম্মিলিতভাবে।
ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমরা এ দেশের নাগরিক। এ দেশে বর্তমানে একটা সরকার প্রতিষ্ঠিত আছে। একটা সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বিরোধী দলে, সরকারে বিএনপি। আগের থেকে বাজার অস্থির। ইদানিং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির। কেন অস্থির? এই যে একটা বিশাল মার্কেট রয়েছে। এখানে দোকানদার বলছেন নীরব চাঁদাবাজি আছে। কথা বলতে চান, তাঁদের চেপে রাখা হয়েছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। বিশেষ করে যারা স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের এখন বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের নাগরিক দায়িত্ব, জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা আজকে মহড়া দিতে আসিনি, বাজারটাকে বুঝতে এসেছি।’

এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে বাজারের সমস্যা জানতে চাইলে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক সমস্যা। যেমন এই ঘরগুলো সরকারিভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাড়া হলো ৫ হাজার টাকা। প্রতি স্কয়ার ফিটের ভাড়া ১৩ টাকা। ঘরগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে বিগত সরকারের আমলে। ঘরগুলো বরাদ্দ হয়েছে বিভিন্ন জনের নামে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা পেয়েছেন। ঘর যারা পেয়েছেন তারা ব্যবসা করেন না, ব্যবসা করি আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা। আগের সরকার নাই, কিন্তু ওই নিয়মই বহাল আছে। ঘরগুলো যারা পেয়েছেন অর্থাৎ মালিকরা ভাড়া দিচ্ছেন ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা। ১ লাখ, ৯০ হাজার, ৬০ হাজার টাকায়ও ভাড়া দেওয়া আছে।’ তিনি বলেন, ‘আরও কিছু আছে যেমন মাদকের একটা সমস্যা আছে। নীরব চাঁদাবাজি চলছে। আমরা এখানে ব্যবসা করেও চাঁদা দিতে হয়।’

বাজার পরিদর্শনকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে মৃত্যুদাবীর চেক হস্তান্তর করলো সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না: জামায়াত আমির

Update Time : 08:32:32 am, Wednesday, 13 May 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এখানে তো আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না। এখানেই আমাদের সঙ্গে চলাফেরা করে, ওঠাবসা-বসবাস করা লোকেরাই চাঁদাবাজি করে।

তাদের পরিচয় আমরা সবাই জানি। সংসদে আমি বলেছিলাম, সংসদ সদস্যরা যদি সিদ্ধান্ত নেন যে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস করবে না।

আমরা চাই চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।
মঙ্গলবার মিরপুর-১ শাহ আলী পাইকারি বাজার পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় ব্যবসায়ীরা নীরব চাঁদাবাজির অভিযোগ করলে তিনি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রতিরোধ করতে হবে সম্মিলিতভাবে।
ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘আমরা এ দেশের নাগরিক। এ দেশে বর্তমানে একটা সরকার প্রতিষ্ঠিত আছে। একটা সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আমরা বিরোধী দলে, সরকারে বিএনপি। আগের থেকে বাজার অস্থির। ইদানিং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির। কেন অস্থির? এই যে একটা বিশাল মার্কেট রয়েছে। এখানে দোকানদার বলছেন নীরব চাঁদাবাজি আছে। কথা বলতে চান, তাঁদের চেপে রাখা হয়েছে।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘মানুষের নাভিশ্বাস উঠে গেছে। বিশেষ করে যারা স্বল্প আয়ের মানুষ তাদের এখন বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে গেছে। আমাদের নাগরিক দায়িত্ব, জনগণ আমাদের ভোট দিয়েছে। আমরা আজকে মহড়া দিতে আসিনি, বাজারটাকে বুঝতে এসেছি।’

এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে বাজারের সমস্যা জানতে চাইলে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমাদের এখানে অনেক সমস্যা। যেমন এই ঘরগুলো সরকারিভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সরকারি ভাড়া হলো ৫ হাজার টাকা। প্রতি স্কয়ার ফিটের ভাড়া ১৩ টাকা। ঘরগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে বিগত সরকারের আমলে। ঘরগুলো বরাদ্দ হয়েছে বিভিন্ন জনের নামে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা পেয়েছেন। ঘর যারা পেয়েছেন তারা ব্যবসা করেন না, ব্যবসা করি আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা। আগের সরকার নাই, কিন্তু ওই নিয়মই বহাল আছে। ঘরগুলো যারা পেয়েছেন অর্থাৎ মালিকরা ভাড়া দিচ্ছেন ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা। ১ লাখ, ৯০ হাজার, ৬০ হাজার টাকায়ও ভাড়া দেওয়া আছে।’ তিনি বলেন, ‘আরও কিছু আছে যেমন মাদকের একটা সমস্যা আছে। নীরব চাঁদাবাজি চলছে। আমরা এখানে ব্যবসা করেও চাঁদা দিতে হয়।’

বাজার পরিদর্শনকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।