1:00 am, Monday, 6 July 2026

পুরো বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ভোজিনিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। তবে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো রোমাঞ্চকর সেই লড়াইয়ে হারলেও এতটুকু আক্ষেপ নেই তাদের, বরং বুকভরা গর্ব নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দলটি।

দলের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ভোজিনিয়া জানিয়েছেন, মাঠের ফলাফলের চেয়েও বড় এক অর্জন নিয়ে দেশে ফিরছেন তারা আর তা হলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ম্যাচ শেষে অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক বলেন, ‘কেপ ভার্দে কোথায়, সেটা এখন পুরো বিশ্ব জানে।

আমরা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছি যে, আমরাও ফুটবলটা খেলতে জানি।’
এবারের বিশ্বকাপে চমক জাগানো দলগুলোর একটি ছিল কেপ ভার্দে।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একেবারে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়ে সবার প্রত্যাশাকে হার মানিয়েছে তারা। নিজের দলের প্রশংসা করে ভোজিনিয়া বলেন, ‘অনেকেই ভেবেছিল আর্জেন্টিনা হয়তো সহজেই জিতে যাবে।
কিন্তু নিজেদের উজাড় করে দিয়ে কেপ ভার্দেকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে জায়গা করে দিতে পেরে আমি ও আমার সতীর্থরা দারুণ গর্বিত।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে একেবারেই নতুন হলেও নিজেদের নান্দনিক ফুটবল দিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে আফ্রিকান এই দলটি। নকআউট পর্বে উঠে আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছে তারা, ম্যাচ টেনে নিয়ে গিয়েছিল অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত।

অধিনায়কের মতে, দলের যা কিছু দেওয়ার ছিল, তার সবটুকুই নিংড়ে দিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। যারা এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছে, তাদের জন্য শুভকামনা।’

কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক যাত্রার অন্যতম রূপকার ছিলেন ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়া। টুর্নামেন্টজুড়ে বেশ কিছু অসাধারণ সেভ করে আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নেই এই তারকা। তবে বিশ্বকাপে এমন নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর খুব দ্রুতই হয়তো নতুন কোনো ঠিকানায় দেখা যাবে তাকে।

অধিনায়কের কথাগুলোই যেন পুরো টুর্নামেন্টে কেপ ভার্দের অংশগ্রহণের মূল সারাংশ। শুধু মাঠের ফুটবল দিয়েই চমকে দেয়নি, বিশ্বের বুকে নিজেদের দেশের ভাবমূর্তিও বদলে দিয়েছে দলটি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে দেশটির সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম আরটিসির পরিচালক ও সাংবাদিক মার্কোস ফনসেকা বলেছিলেন, ‘এই বিশ্বকাপ পুরো দেশের জীবনযাত্রা বদলে দিতে পারে। এটি আমাদের পর্যটন বাড়াবে, বিনিয়োগ টানবে এবং জাতীয় আত্মপরিচয়কে আরও শক্তিশালী করবে।’

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও নিজেদের প্রথম আসরেই সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কেপ ভার্দে। ভোজিনিয়ার মতে, তাদের সবচেয়ে বড় অর্জনটা তো হয়েই গেছে ‘আজ সবাই জানে, কেপ ভার্দে কারা।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

বড়লেখায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে ব্যবসায়ির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পুরো বিশ্ব এখন আমাদের চেনে: ভোজিনিয়া

Update Time : 09:18:08 am, Saturday, 4 July 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে কেপ ভার্দে। তবে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো রোমাঞ্চকর সেই লড়াইয়ে হারলেও এতটুকু আক্ষেপ নেই তাদের, বরং বুকভরা গর্ব নিয়ে মাঠ ছেড়েছে দলটি।

দলের গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ভোজিনিয়া জানিয়েছেন, মাঠের ফলাফলের চেয়েও বড় এক অর্জন নিয়ে দেশে ফিরছেন তারা আর তা হলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ম্যাচ শেষে অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক বলেন, ‘কেপ ভার্দে কোথায়, সেটা এখন পুরো বিশ্ব জানে।

আমরা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছি যে, আমরাও ফুটবলটা খেলতে জানি।’
এবারের বিশ্বকাপে চমক জাগানো দলগুলোর একটি ছিল কেপ ভার্দে।

বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের একেবারে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়ে সবার প্রত্যাশাকে হার মানিয়েছে তারা। নিজের দলের প্রশংসা করে ভোজিনিয়া বলেন, ‘অনেকেই ভেবেছিল আর্জেন্টিনা হয়তো সহজেই জিতে যাবে।
কিন্তু নিজেদের উজাড় করে দিয়ে কেপ ভার্দেকে বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে জায়গা করে দিতে পেরে আমি ও আমার সতীর্থরা দারুণ গর্বিত।’
বিশ্বকাপের মঞ্চে একেবারেই নতুন হলেও নিজেদের নান্দনিক ফুটবল দিয়ে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মন জয় করে নিয়েছে আফ্রিকান এই দলটি। নকআউট পর্বে উঠে আর্জেন্টিনাকে রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছে তারা, ম্যাচ টেনে নিয়ে গিয়েছিল অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত।

অধিনায়কের মতে, দলের যা কিছু দেওয়ার ছিল, তার সবটুকুই নিংড়ে দিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। যারা এখনো টুর্নামেন্টে টিকে আছে, তাদের জন্য শুভকামনা।’

কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক যাত্রার অন্যতম রূপকার ছিলেন ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়া। টুর্নামেন্টজুড়ে বেশ কিছু অসাধারণ সেভ করে আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট কোনো ক্লাবের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ নেই এই তারকা। তবে বিশ্বকাপে এমন নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর খুব দ্রুতই হয়তো নতুন কোনো ঠিকানায় দেখা যাবে তাকে।

অধিনায়কের কথাগুলোই যেন পুরো টুর্নামেন্টে কেপ ভার্দের অংশগ্রহণের মূল সারাংশ। শুধু মাঠের ফুটবল দিয়েই চমকে দেয়নি, বিশ্বের বুকে নিজেদের দেশের ভাবমূর্তিও বদলে দিয়েছে দলটি। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে দেশটির সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম আরটিসির পরিচালক ও সাংবাদিক মার্কোস ফনসেকা বলেছিলেন, ‘এই বিশ্বকাপ পুরো দেশের জীবনযাত্রা বদলে দিতে পারে। এটি আমাদের পর্যটন বাড়াবে, বিনিয়োগ টানবে এবং জাতীয় আত্মপরিচয়কে আরও শক্তিশালী করবে।’

বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও নিজেদের প্রথম আসরেই সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে কেপ ভার্দে। ভোজিনিয়ার মতে, তাদের সবচেয়ে বড় অর্জনটা তো হয়েই গেছে ‘আজ সবাই জানে, কেপ ভার্দে কারা।’