11:49 pm, Sunday, 5 July 2026

মেক্সিকোর উচ্চতা সামলাতে ‘ভায়াগ্রা’ ব্যবহার করবে ইংল্যান্ড!

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই লড়াইয়ে গ্যালারিভর্তি মেক্সিকান সমর্থকদের চাপ তো থাকছেই, তবে ইংলিশদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে মেক্সিকো সিটির চরম উচ্চতা! আর এই উচ্চতাজনিত সমস্যা কাটাতে ইংল্যান্ড দলের কোচিং ও মেডিকেল স্টাফরা ভায়াগ্রা (সিলডেনাফিল) ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছেন।

ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার নকআউট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির আইকনিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই স্টেডিয়ামের উচ্চতা প্রায় ৭ হাজার ২০০ ফুট (২,২০০ মিটার)।

এত উঁচুতে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বেশ কম থাকে, যা ফুটবলারদের শারীরিক পারফরম্যান্সে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
উচ্চতার কারণে খেলোয়াড়রা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন, হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং একবার দৌড়ানোর পর দম ফিরে পেতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে।

স্পোর্টস সায়েন্সের গবেষণা বলছে, এমন বৈরী পরিবেশে আগে থেকে মানিয়ে না নিলে প্রথম কয়েক দিনেই খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান দলগুলোর জন্য আজতেকা স্টেডিয়ামের এই পরিবেশ বরাবরই এক বড় জুজু।
‘দ্য সান’সহ একাধিক ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেক্সিকোর এই কঠিন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অভিনব এক কৌশল নিয়ে ভাবছে ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট। মূলত হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি হলেও, সিলডেনাফিল বা ভায়াগ্রা রক্তনালী প্রসারিত করতে দারুণ কাজ করে। ফলে কম অক্সিজেন থাকা অবস্থাতেও শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এই সুবিধা পেতেই নাকি ভায়াগ্রার শরণাপন্ন হতে চাইছে থ্রি লায়নরা।

তবে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে পারফরম্যান্স বাড়াতে এমন ওষুধের ব্যবহার নিয়ে বড়সড় নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) ভায়াগ্রাকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি ঠিকই, তবে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় এটি ব্যবহার করতে হলে সুনির্দিষ্ট ডাক্তারি কারণ বা ছাড়পত্র দেখাতে হয় এবং কঠোর নিয়ম মানতে হয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে নামার আগে ইংল্যান্ডের এই ভাবনা আধুনিক ফুটবল, চিকিৎসা বিজ্ঞান আর কৌশলের এক নতুন মোড় সামনে আনছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কি ইংলিশরা ভায়াগ্রা ব্যবহারের মতো ভিন্ন পথে হাঁটবে, নাকি উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিতেই ভরসা রাখবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বড়লেখায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে ব্যবসায়ির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

মেক্সিকোর উচ্চতা সামলাতে ‘ভায়াগ্রা’ ব্যবহার করবে ইংল্যান্ড!

Update Time : 08:47:28 am, Sunday, 5 July 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার এই লড়াইয়ে গ্যালারিভর্তি মেক্সিকান সমর্থকদের চাপ তো থাকছেই, তবে ইংলিশদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে মেক্সিকো সিটির চরম উচ্চতা! আর এই উচ্চতাজনিত সমস্যা কাটাতে ইংল্যান্ড দলের কোচিং ও মেডিকেল স্টাফরা ভায়াগ্রা (সিলডেনাফিল) ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছেন।

ইংল্যান্ড ও মেক্সিকোর মধ্যকার নকআউট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকো সিটির আইকনিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই স্টেডিয়ামের উচ্চতা প্রায় ৭ হাজার ২০০ ফুট (২,২০০ মিটার)।

এত উঁচুতে বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বেশ কম থাকে, যা ফুটবলারদের শারীরিক পারফরম্যান্সে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
উচ্চতার কারণে খেলোয়াড়রা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন, হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং একবার দৌড়ানোর পর দম ফিরে পেতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে।

স্পোর্টস সায়েন্সের গবেষণা বলছে, এমন বৈরী পরিবেশে আগে থেকে মানিয়ে না নিলে প্রথম কয়েক দিনেই খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপিয়ান দলগুলোর জন্য আজতেকা স্টেডিয়ামের এই পরিবেশ বরাবরই এক বড় জুজু।
‘দ্য সান’সহ একাধিক ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেক্সিকোর এই কঠিন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অভিনব এক কৌশল নিয়ে ভাবছে ইংল্যান্ডের টিম ম্যানেজমেন্ট। মূলত হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি হলেও, সিলডেনাফিল বা ভায়াগ্রা রক্তনালী প্রসারিত করতে দারুণ কাজ করে। ফলে কম অক্সিজেন থাকা অবস্থাতেও শরীরে রক্ত চলাচল বাড়ে। এই সুবিধা পেতেই নাকি ভায়াগ্রার শরণাপন্ন হতে চাইছে থ্রি লায়নরা।

তবে শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে পারফরম্যান্স বাড়াতে এমন ওষুধের ব্যবহার নিয়ে বড়সড় নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্ব ডোপিং বিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) ভায়াগ্রাকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি ঠিকই, তবে প্রতিযোগিতামূলক খেলায় এটি ব্যবহার করতে হলে সুনির্দিষ্ট ডাক্তারি কারণ বা ছাড়পত্র দেখাতে হয় এবং কঠোর নিয়ম মানতে হয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে নামার আগে ইংল্যান্ডের এই ভাবনা আধুনিক ফুটবল, চিকিৎসা বিজ্ঞান আর কৌশলের এক নতুন মোড় সামনে আনছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কি ইংলিশরা ভায়াগ্রা ব্যবহারের মতো ভিন্ন পথে হাঁটবে, নাকি উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতিতেই ভরসা রাখবে।