3:16 am, Monday, 13 July 2026

উইঘুরদের ওপর নির্যাতনকে ‘গণহত্যা’ বলে ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার চর্চার এক বার্ষিক প্রতিবেদনে জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমান ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ বলে ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শেষদিকে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জিনজিয়াংয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ গণহত্যা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো মানবাধিকার বিষয়ক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করা হলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলমান এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় সংখ্যাগুলো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বছরজুড়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।’

চীনা কর্তৃপক্ষ জিনজিয়াংয়ে ১০ লাখেরও বেশি বেসামরিক ব্যক্তিকে নির্বিচারে কারাবন্দি করে রেখেছে। নির্যাতিতদের শারীরিক স্বাধীনতা থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত করা, জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ, গণ ধর্ষণ, গর্ভপাত ও চীনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার আরও কঠোরভাবে মানতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রায়ই তদন্ত করার ঘোষণা দেয়। তবে তারা পুলিশের কুকর্মের বিষয়ে করা সেই তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে না বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানায় না।

বিভিন্ন ইস্যুতে চীন ও পশ্চিমাদেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সরকার ও তাদের বিভিন্ন এজেন্টের বিরুদ্ধে নির্বিচারে ও বেআইনিভাবে হত্যাকাণ্ডের অনেক অভিযোগ ওঠে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব অভিযোগের বিষয়ে খুব অল্প তথ্য পাওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনো তথ্যই মেলে না।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কমলগঞ্জে ৫০০ বন্যার্ত মানুষের পাশে বিএনপি নেতা স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরী

উইঘুরদের ওপর নির্যাতনকে ‘গণহত্যা’ বলে ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের

Update Time : 11:29:08 am, Monday, 5 April 2021

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার চর্চার এক বার্ষিক প্রতিবেদনে জিনজিয়াংয়ে উইঘুর মুসলমান ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর নিপীড়নকে ‘গণহত্যা’ বলে ঘোষণা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শেষদিকে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জিনজিয়াংয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ গণহত্যা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো মানবাধিকার বিষয়ক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করা হলো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলমান এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় সংখ্যাগুলো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বছরজুড়ে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।’

চীনা কর্তৃপক্ষ জিনজিয়াংয়ে ১০ লাখেরও বেশি বেসামরিক ব্যক্তিকে নির্বিচারে কারাবন্দি করে রেখেছে। নির্যাতিতদের শারীরিক স্বাধীনতা থেকে মারাত্মকভাবে বঞ্চিত করা, জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণ, গণ ধর্ষণ, গর্ভপাত ও চীনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ নীতিমালার আরও কঠোরভাবে মানতে বাধ্য করা, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও চলাফেরার স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ প্রায়ই তদন্ত করার ঘোষণা দেয়। তবে তারা পুলিশের কুকর্মের বিষয়ে করা সেই তদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করে না বা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানায় না।

বিভিন্ন ইস্যুতে চীন ও পশ্চিমাদেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা যখন ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই এই প্রতিবেদন প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের সরকার ও তাদের বিভিন্ন এজেন্টের বিরুদ্ধে নির্বিচারে ও বেআইনিভাবে হত্যাকাণ্ডের অনেক অভিযোগ ওঠে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব অভিযোগের বিষয়ে খুব অল্প তথ্য পাওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনো তথ্যই মেলে না।