11:34 pm, Saturday, 11 April 2026

সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঈর্ষাকে জয় করুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঈর্ষাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য পাঁচটি কৌশল আছে। এর প্রথম দুইটি আটলান্টায় করা একটি ওয়ার্কশপের ফল। নানান কারণেই সঙ্গীর প্রতি ঈর্ষা অনুভব করতে পারি আমরা। সেটা সঙ্গীর সফল ক্যারিয়ার, অধিক সৌন্দর্য বা বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে মেলামেশার কারণেও হতে পারে। জেনে নিন কীভাবে জয় করবেন সঙ্গীর প্রতি এই ঈর্ষা।

১। তিনটি ‘D’ : Discuss- আপনার সঙ্গীর সাথে কথা বলুন। তাকে নিয়ে আপনার আবেগ, অবস্থান তুলে ধরুন। নিজের সীমাবদ্ধতাগুলোও জানান। তাহলে তিনি আপনার প্রতিশ্রুতির মর্ম বুঝতে পারবেন।

Distract- অন্যের প্রতি সঙ্গীর আবেগ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার চেয়ে বরং নিজেকে কিছুটা নতুন রূপে তুলে ধরুন। তার মনোযোগ ফিরিয়ে আনুন আপনার প্রতি।

Do- শারীরিক সম্পর্ক, আকর্ষণ প্রকাশ সম্পর্কের গভীরতা ফিরিয়ে আনে আবার। এটাই হবে সবচেয়ে কার্যকরী চেষ্টা।

২।উদ্বেগ প্রকাশক কার্ড : যখন আপনি আপনার সঙ্গীকে নিয়ে অনিরাপদ বোধ করছেন তখন তাকে বুঝতে এই উপায় অবলম্বন করতে পারেন। কিছু কার্ড তৈরি করুন, সেখানে লিখুন আপনার কী কী সমস্যা আছে বলে আপনি মনে করেন। শারীরিক অক্ষমতা, ঘনিষ্ঠতা তৈরিতে ভয় বা আর যা কিছু আপনি অনুভব করেন তাঁর সবই তুলে ধরুন। এর আপনার সঙ্গীকে বলুন কার্ডের বিপরীত দিকে আপনাকে নিয়ে তাঁর ভাবনা তুলে ধরতে। কেন সে আপনাকে ভালবাসে, কেন সে আপনার সাথে থাকতে চায় তাঁর সবই তুলে ধরতে বলুন। এরপর যখনই আপনার খারাপ লাগবে, ঈর্শাকাতর বোধ করবেন তখনই উল্টে দেখুন কার্ডগুলো। আপনার সঙ্গীর ভালবাসামাখা কথাগুলো নিশ্চিতভাবে প্রভাবিত করবে আপনাকে।

৩। নিজের ভয়, রাগ এবং দূঃখের মুখোমুখি হোন : পালিয়ে বেড়াবেন না। নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভয়কে মোকাবেলা করুন। রাগ প্রকাশ করুন। কষ্টগুলো ভাগাভাগি করে নিন আপনার সঙ্গীর সাথে। মনের ভেতর এসব লুকিয়ে রেখে আপনি যদি দূরত্ব আরও বাড়িয়ে ফেলেন তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। হারিয়ে যেতে পারে আপনার কাছের মানুষটি।

৪। নিজেকে নিয়োগ করুন : আপনার ঈর্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগী হোন। ভাল করে বোঝার চেষ্টা করুন আপনার সঙ্গীকে, তাঁর চাহিদাকে। আপনি যে তার প্রতি দূরত্ব অনুভব করছেন তার কারণ খুঁজে বের করূন। আমরা কখনোই হুবহু আমাদের সঙ্গীর মত হতে পারব না। প্রত্যেকের স্বভাবের, চিন্তার এবং কাজের ধরণের পার্থক্য থাকবে। এসব পার্থক্য দূরত্বের কারণ হয় না কখনো। খেয়াল করুন আপনি কি এমন কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত বা সেটাকে কারণ মনে করে এগোচ্ছেন যা আসলে কারণ নয়? সঠিক কারণ খুঁজে বের করুন। তারপর শুধরে নিতে পারবেন শুধু স্বদিচ্ছা থাকলেই।

৫।সহযোগিতা নিন : ঈর্ষা অবশ্যই একটি যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা। একে বাড়তে দিলে আপনি সন্দেহবাতিকগ্রস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাঁর চেয়ে বরং আপনার সঙ্গীর সাহায্য নিন। তাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যান মাঝে মধ্যে। বেড়িয়ে আসুন দূরে কোথাও। তাঁর সঙ্গ, সাহচার্য আপনাকে অনেক শান্তি দেবে। আর অনেক বেশি কথা বলুন, গল্প করুন। তাঁর কথা শুনুন। তাকে অনুভব করতে দিন, আপনার কাছে তাঁর গুরুত্ব কতখানি। এতেও কাজ না হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে ৯ দিনব্যাপী সেবাইত প্রশিক্ষণের সনদপত্র বিতরন ও সমাপনী অনুষ্ঠান

সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঈর্ষাকে জয় করুন

Update Time : 07:47:11 am, Wednesday, 4 August 2021

লাইফস্টাইল ডেস্ক : সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঈর্ষাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য পাঁচটি কৌশল আছে। এর প্রথম দুইটি আটলান্টায় করা একটি ওয়ার্কশপের ফল। নানান কারণেই সঙ্গীর প্রতি ঈর্ষা অনুভব করতে পারি আমরা। সেটা সঙ্গীর সফল ক্যারিয়ার, অধিক সৌন্দর্য বা বিপরীত লিঙ্গের কারো সাথে মেলামেশার কারণেও হতে পারে। জেনে নিন কীভাবে জয় করবেন সঙ্গীর প্রতি এই ঈর্ষা।

১। তিনটি ‘D’ : Discuss- আপনার সঙ্গীর সাথে কথা বলুন। তাকে নিয়ে আপনার আবেগ, অবস্থান তুলে ধরুন। নিজের সীমাবদ্ধতাগুলোও জানান। তাহলে তিনি আপনার প্রতিশ্রুতির মর্ম বুঝতে পারবেন।

Distract- অন্যের প্রতি সঙ্গীর আবেগ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার চেয়ে বরং নিজেকে কিছুটা নতুন রূপে তুলে ধরুন। তার মনোযোগ ফিরিয়ে আনুন আপনার প্রতি।

Do- শারীরিক সম্পর্ক, আকর্ষণ প্রকাশ সম্পর্কের গভীরতা ফিরিয়ে আনে আবার। এটাই হবে সবচেয়ে কার্যকরী চেষ্টা।

২।উদ্বেগ প্রকাশক কার্ড : যখন আপনি আপনার সঙ্গীকে নিয়ে অনিরাপদ বোধ করছেন তখন তাকে বুঝতে এই উপায় অবলম্বন করতে পারেন। কিছু কার্ড তৈরি করুন, সেখানে লিখুন আপনার কী কী সমস্যা আছে বলে আপনি মনে করেন। শারীরিক অক্ষমতা, ঘনিষ্ঠতা তৈরিতে ভয় বা আর যা কিছু আপনি অনুভব করেন তাঁর সবই তুলে ধরুন। এর আপনার সঙ্গীকে বলুন কার্ডের বিপরীত দিকে আপনাকে নিয়ে তাঁর ভাবনা তুলে ধরতে। কেন সে আপনাকে ভালবাসে, কেন সে আপনার সাথে থাকতে চায় তাঁর সবই তুলে ধরতে বলুন। এরপর যখনই আপনার খারাপ লাগবে, ঈর্শাকাতর বোধ করবেন তখনই উল্টে দেখুন কার্ডগুলো। আপনার সঙ্গীর ভালবাসামাখা কথাগুলো নিশ্চিতভাবে প্রভাবিত করবে আপনাকে।

৩। নিজের ভয়, রাগ এবং দূঃখের মুখোমুখি হোন : পালিয়ে বেড়াবেন না। নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভয়কে মোকাবেলা করুন। রাগ প্রকাশ করুন। কষ্টগুলো ভাগাভাগি করে নিন আপনার সঙ্গীর সাথে। মনের ভেতর এসব লুকিয়ে রেখে আপনি যদি দূরত্ব আরও বাড়িয়ে ফেলেন তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। হারিয়ে যেতে পারে আপনার কাছের মানুষটি।

৪। নিজেকে নিয়োগ করুন : আপনার ঈর্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে উদ্যোগী হোন। ভাল করে বোঝার চেষ্টা করুন আপনার সঙ্গীকে, তাঁর চাহিদাকে। আপনি যে তার প্রতি দূরত্ব অনুভব করছেন তার কারণ খুঁজে বের করূন। আমরা কখনোই হুবহু আমাদের সঙ্গীর মত হতে পারব না। প্রত্যেকের স্বভাবের, চিন্তার এবং কাজের ধরণের পার্থক্য থাকবে। এসব পার্থক্য দূরত্বের কারণ হয় না কখনো। খেয়াল করুন আপনি কি এমন কোন বিষয় নিয়ে চিন্তিত বা সেটাকে কারণ মনে করে এগোচ্ছেন যা আসলে কারণ নয়? সঠিক কারণ খুঁজে বের করুন। তারপর শুধরে নিতে পারবেন শুধু স্বদিচ্ছা থাকলেই।

৫।সহযোগিতা নিন : ঈর্ষা অবশ্যই একটি যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা। একে বাড়তে দিলে আপনি সন্দেহবাতিকগ্রস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাঁর চেয়ে বরং আপনার সঙ্গীর সাহায্য নিন। তাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে খেতে যান মাঝে মধ্যে। বেড়িয়ে আসুন দূরে কোথাও। তাঁর সঙ্গ, সাহচার্য আপনাকে অনেক শান্তি দেবে। আর অনেক বেশি কথা বলুন, গল্প করুন। তাঁর কথা শুনুন। তাকে অনুভব করতে দিন, আপনার কাছে তাঁর গুরুত্ব কতখানি। এতেও কাজ না হলে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।