3:24 am, Saturday, 2 May 2026

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যেন শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তেমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না।

আমাদের নীতি হলো : ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘বৌদ্ধ পূর্ণিমা’ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মহামতি গৌতম বুদ্ধের ‘পঞ্চশীল’ নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকার যে শিক্ষা গৌতম বুদ্ধ দিয়ে গেছেন, তা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যদি নিজ নিজ ধর্মীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তবে আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করতে পারব।’
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী- এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিল না।

হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছি। তাই এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার-আমার, আমাদের সবার।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, এই দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার, আমাদের পরিচয় আমরা সবাই ‘বাংলাদেশি’।’

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অধিকার বিনা বাধায় এবং স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

পরিশেষে, বৌদ্ধ পূর্ণিমার এই বিশেষ দিনটি সবার জন্য আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠুক- এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

আবারো আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রতিনিধি রাশমিকা!

ধর্ম যার যার, নিরাপত্তার অধিকার সবার: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : 08:23:16 am, Thursday, 30 April 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যেন শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তেমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না।

আমাদের নীতি হলো : ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।’
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘বৌদ্ধ পূর্ণিমা’ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে তিনি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মহামতি গৌতম বুদ্ধের ‘পঞ্চশীল’ নীতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘প্রাণী হত্যা না করা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা এবং মাদক থেকে বিরত থাকার যে শিক্ষা গৌতম বুদ্ধ দিয়ে গেছেন, তা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক যদি নিজ নিজ ধর্মীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তবে আমরা সবাই মিলে একটি মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ নির্মাণ করতে পারব।’
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কে কোন ধর্মের অনুসারী, কে বিশ্বাসী কিংবা অবিশ্বাসী- এটি কারো জিজ্ঞাসা ছিল না।

হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই মিলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন করেছি। তাই এই স্বাধীন বাংলাদেশ আপনার-আমার, আমাদের সবার।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শন হচ্ছে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’। এটি বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে, এই দর্শনই দেশের সব বর্ণ, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। সুতরাং, আপনারা কেউ নিজেদের কখনোই সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার, আমাদের পরিচয় আমরা সবাই ‘বাংলাদেশি’।’

ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অধিকার বিনা বাধায় এবং স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

পরিশেষে, বৌদ্ধ পূর্ণিমার এই বিশেষ দিনটি সবার জন্য আনন্দময় ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠুক- এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।