12:47 pm, Sunday, 26 July 2026

আজ মৌলভীবাজার জেলার জন্মদিন

জসীম উদ্দীন মাসুদ : অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলা বাংলাদেশের এক প্রাচীন সভ্য জনপদ। এর একদিকে বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে নয়নাভিরাম চা বাগান আর পাহাড়-টিলার অযুত বৃক্ষরাজির সবুজ বিশালতা, অন্যদিকে পাহাড় থেকে নির্গত জলপ্রপাত-ঝর্ণাধারা, নদ-নদী, হৃদ-খাল-বিল আর দিগন্ত বিস্তৃত হাওরের জল সাম্রাজ্য যুগ যুগ ধরে অসম্ভব মুগ্ধতায় ভরিয়ে দিয়েছে পর্যটন পিয়াসী মানুষকে।

চা বাগান, লেক, হাওর, উঁচু-নিচু পাহাড়, ঘন জঙ্গল, খনিজ গ্যাসকূপ আর আনারস, লেবু, পান, আগর, শীতলপাটি ও রাবার বাগান দিয়ে সাজানো অদ্ভূত সুন্দর এই জায়গাটির নাম মৌলভীবাজার। যতদূর চোখ যায় মসৃণ সবুজে ছাওয়া উঁচু-নিচু টিলা, উপরে বিস্তৃত নীল আকাশ। এদিক ওদিক তাকালেই চোখে পড়ে সবুজ বনানী আর বর্ণিল সব পাখি।

জেলাব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনযাপন, উৎসব ও স্বতন্ত্র সংস্কৃতি জেলাকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান এবং চা শিল্পের জন্য বিশ্বব্যাপী সুনাম ও পরিচিতি মৌলভীবাজার জেলাকে দাঁড় করিয়েছে এক অনন্য সু-উচ্চ স্থানে।

২৭৯৯.৩৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তন এবং প্রায় ২০ লক্ষ লোকের আবাস ভূমি মৌলভীবাজার জেলা বহু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক । অসাম্প্রদায়িক এই জেলা একদিকে যেমন হযরত শাহ মোস্তফা (রঃ) সহ বহু ওলি-দরবেশ, পীর-আউলিয়ার পূণ্যস্পর্শে ধন্য, তেমনিভাবে এখানে রয়েছে হিন্দুদের তীর্থস্থান বিষ্ণুপদ ধাম সহ হাজারো মন্দির-দেবালয়। পুরনো যুগের হিন্দু ধর্মগ্রন্থে মনু নদীর নাম রয়েছে, রামায়ণ ও মহাভারতে উল্লেখিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে এ অঞ্চলের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল বলে প্রাচীন শ্লোক থেকে জানা যায়।

১৮১০ খ্রিস্টাব্দে গোবিন্দশ্রী’র মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ মনু নদীর তীরে উত্তর পাশে যে বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কালক্রমে তা ১৮৮২ সালে সাউথ সিলেট মহকুমা, ১৮৮৭ সালে মৌলভীবাজার পৌরসভা এবং ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। বর্তমানে ৭ টি উপজেলা, ৫ টি পৌরসভা, ৬৭ টি ইউনিয়ন ও ২১৩৪ টি গ্রাম নিয়ে মৌলভীবাজার জেলার বিস্তৃতি।

 

 

চা বাগান, লেক, হাওর, উঁচু-নিচু পাহাড়, ঘন জঙ্গল, খনিজ গ্যাসকূপ আর আনারস, লেবু, পান, আগর, শীতলপাটি ও রাবার বাগান দিয়ে সাজানো অদ্ভূত সুন্দর এই জায়গাটির নাম মৌলভীবাজার। যতদূর চোখ যায় মসৃণ সবুজে ছাওয়া উঁচু-নিচু টিলা, উপরে বিস্তৃত নীল আকাশ। এদিক ওদিক তাকালেই চোখে পড়ে সবুজ বনানী আর বর্ণিল সব পাখি।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি শীত প্রধান অঞ্চল আবার সবচেয়ে বৃষ্টি প্রবণ অঞ্চল হিসাবেও এ জেলা সমধিক পরিচিত। তাইতো বৃষ্টিতে ভিজতে কিংবা কনকনে শীত অনুভব করতে দু’টো মৌসুমেই পর্যটকের ভীড় লেগে থাকে এখানে। এ জেলায় বছরে আনুমানিক ৪ লক্ষ পর্যটকের আগমন ঘটে। জেলাব্যাপি পর্যটকদের জন্য রয়েছে শতাধিক আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট এবং রেস্টুরেন্ট। প্রকৃতি কন্যা মৌলভীবাজার জেলায় সকলকে সাদর আমন্ত্রণ !!

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

বিচারবহির্ভূত হত্যা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়: আইনমন্ত্রী

আজ মৌলভীবাজার জেলার জন্মদিন

Update Time : 10:09:40 am, Tuesday, 22 February 2022

জসীম উদ্দীন মাসুদ : অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলা বাংলাদেশের এক প্রাচীন সভ্য জনপদ। এর একদিকে বিস্তীর্ণ প্রান্তর জুড়ে নয়নাভিরাম চা বাগান আর পাহাড়-টিলার অযুত বৃক্ষরাজির সবুজ বিশালতা, অন্যদিকে পাহাড় থেকে নির্গত জলপ্রপাত-ঝর্ণাধারা, নদ-নদী, হৃদ-খাল-বিল আর দিগন্ত বিস্তৃত হাওরের জল সাম্রাজ্য যুগ যুগ ধরে অসম্ভব মুগ্ধতায় ভরিয়ে দিয়েছে পর্যটন পিয়াসী মানুষকে।

চা বাগান, লেক, হাওর, উঁচু-নিচু পাহাড়, ঘন জঙ্গল, খনিজ গ্যাসকূপ আর আনারস, লেবু, পান, আগর, শীতলপাটি ও রাবার বাগান দিয়ে সাজানো অদ্ভূত সুন্দর এই জায়গাটির নাম মৌলভীবাজার। যতদূর চোখ যায় মসৃণ সবুজে ছাওয়া উঁচু-নিচু টিলা, উপরে বিস্তৃত নীল আকাশ। এদিক ওদিক তাকালেই চোখে পড়ে সবুজ বনানী আর বর্ণিল সব পাখি।

জেলাব্যাপী ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনযাপন, উৎসব ও স্বতন্ত্র সংস্কৃতি জেলাকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। দেশের সবচেয়ে বেশি চা বাগান এবং চা শিল্পের জন্য বিশ্বব্যাপী সুনাম ও পরিচিতি মৌলভীবাজার জেলাকে দাঁড় করিয়েছে এক অনন্য সু-উচ্চ স্থানে।

২৭৯৯.৩৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তন এবং প্রায় ২০ লক্ষ লোকের আবাস ভূমি মৌলভীবাজার জেলা বহু ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক । অসাম্প্রদায়িক এই জেলা একদিকে যেমন হযরত শাহ মোস্তফা (রঃ) সহ বহু ওলি-দরবেশ, পীর-আউলিয়ার পূণ্যস্পর্শে ধন্য, তেমনিভাবে এখানে রয়েছে হিন্দুদের তীর্থস্থান বিষ্ণুপদ ধাম সহ হাজারো মন্দির-দেবালয়। পুরনো যুগের হিন্দু ধর্মগ্রন্থে মনু নদীর নাম রয়েছে, রামায়ণ ও মহাভারতে উল্লেখিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে এ অঞ্চলের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল বলে প্রাচীন শ্লোক থেকে জানা যায়।

১৮১০ খ্রিস্টাব্দে গোবিন্দশ্রী’র মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ মনু নদীর তীরে উত্তর পাশে যে বাজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, কালক্রমে তা ১৮৮২ সালে সাউথ সিলেট মহকুমা, ১৮৮৭ সালে মৌলভীবাজার পৌরসভা এবং ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজার জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। বর্তমানে ৭ টি উপজেলা, ৫ টি পৌরসভা, ৬৭ টি ইউনিয়ন ও ২১৩৪ টি গ্রাম নিয়ে মৌলভীবাজার জেলার বিস্তৃতি।

 

 

চা বাগান, লেক, হাওর, উঁচু-নিচু পাহাড়, ঘন জঙ্গল, খনিজ গ্যাসকূপ আর আনারস, লেবু, পান, আগর, শীতলপাটি ও রাবার বাগান দিয়ে সাজানো অদ্ভূত সুন্দর এই জায়গাটির নাম মৌলভীবাজার। যতদূর চোখ যায় মসৃণ সবুজে ছাওয়া উঁচু-নিচু টিলা, উপরে বিস্তৃত নীল আকাশ। এদিক ওদিক তাকালেই চোখে পড়ে সবুজ বনানী আর বর্ণিল সব পাখি।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি শীত প্রধান অঞ্চল আবার সবচেয়ে বৃষ্টি প্রবণ অঞ্চল হিসাবেও এ জেলা সমধিক পরিচিত। তাইতো বৃষ্টিতে ভিজতে কিংবা কনকনে শীত অনুভব করতে দু’টো মৌসুমেই পর্যটকের ভীড় লেগে থাকে এখানে। এ জেলায় বছরে আনুমানিক ৪ লক্ষ পর্যটকের আগমন ঘটে। জেলাব্যাপি পর্যটকদের জন্য রয়েছে শতাধিক আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট এবং রেস্টুরেন্ট। প্রকৃতি কন্যা মৌলভীবাজার জেলায় সকলকে সাদর আমন্ত্রণ !!