আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক শক্তি বিষয়ক একটি প্রস্তাবিত চুক্তি কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জোরালোভাবে বলেছেন, রিয়াদ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করলেই কেবল এই চুক্তি কার্যকর হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গত জুলাই মাসে হওয়া এ চুক্তিটি সোমবার কংগ্রেসে পাঠানো হয়, যার মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানি করতে পারবে।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সৌদি দূতাবাস এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
কংগ্রেসের হাতে চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য ৯০ কার্যদিবস সময় রয়েছে।
তবে এই চুক্তি কংগ্রেসে পাঠানোর মাধ্যমে ট্রাম্প কীভাবে তার লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে চান, তা পরিষ্কার নয়।
মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং আরব ও মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য স্বাক্ষরিত আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তির কথা উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা ই-মেইলে বলেছেন, ‘সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিলেই কেবল চুক্তিটি এগিয়ে যাবে– প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
’
২০২০ ও ২০২১ সালে ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের মধ্যে ওই চুক্তিগুলো হয়েছিল।
সৌদি পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কয়েকদিন পরই ট্রাম্প চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার শর্ত হিসেবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি নির্ধারণ করেন।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও একটি পারমাণবিক চুক্তির জন্য সৌদিকে চাপ দিয়েছিলেন এবং এটিকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। কূটনীতিকরা ভেবেছিলেন, রিয়াদ ২০২৩ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতি বদলে দেয়।
সৌদি আরব ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের জন্য একটি অপরিবর্তনীয় পথরেখা দাবি করেছে।
৩০ বছর মেয়াদি এই পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এপি১০০০ রিঅ্যাক্টর নির্মাণের কথা রয়েছে, যা কয়েক হাজার কোটি ডলার মূল্যের একটি প্রকল্প। এর মাধ্যমে লাভবান হবে ওয়েস্টিংহাউস, যার যৌথ মালিকানায় রয়েছে কানাডাভিত্তিক কামেকো এবং ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট।
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের কাছে চুক্তিটি পাঠানো হয়েছে। কংগ্রেসের দুটি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার এটি বিভিন্ন কমিটির কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার কথা রয়েছে। কংগ্রেস যদি ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে চুক্তির বিরোধিতা না করে, তবে এটি কার্যকর হবে। কংগ্রেস যদি চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করে, তবে ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারবেন, যা বাতিল করতে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।
কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও পারমাণবিক অস্ত্রের প্রসার রোধে কাজ করা ব্যক্তিরা এই পারমাণবিক চুক্তির সমালোচনা করেছেন, কারণ এতে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক বর্জ্য পুনর্প্রক্রিয়াকরণ থেকে বিরত রাখা হয়নি, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দুটি সম্ভাব্য পথ। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ২০০৯ সালের বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ধরনের পদক্ষেপে রাজি হয়েছিল, যা গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড নামে পরিচিত।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এই চুক্তিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অস্ত্র প্রসার রোধের ব্যবস্থা রয়েছে।
ননপ্রোলিফারেশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের প্রধান হেনরি সোকোলস্কি বলেন, এই প্রক্রিয়া শুরু করার মাধ্যমে ট্রাম্প এমন একটি সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছেন, যেখানে কংগ্রেস সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং অস্ত্র প্রসার রোধের শর্ত ছাড়াই চুক্তিটি এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিতে পারে।
তিনি বলেন, আপনি যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা ও ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে সত্যিই আন্তরিক হন, তবে এটি আদর্শ নয় বললেই চলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 























