8:43 am, Wednesday, 22 April 2026

মনু নদী সেচ খাল পরিদর্শন ও সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় করলেন পানি ব্যবস্থাপনা প্রধান মাহফুজ আহমদ

কে এম সাইদুল ইসলাম : মৌলভীবাজার রাজনগরের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি হাওড় অঞ্চলের মনু সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন সেচ খাল পরিদর্শন করেছেন পানি ব্যবস্থাপনা প্রধান মাহফুজ আহমদ।  রোববার (২৯শে জানুয়ারি) সকাল ১১ ঘটিকায় রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি হাওড় অঞ্চলের এসব প্রকল্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সুবিধাভোগী কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয়  সোনাটিকি হাওড় পাড়ে শতাধিক সুবিধাভোগী কৃষক, জনপ্রতিনিধি, সহ মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাখিল রায়হান, কৃষিবিদ ইসরাত আফরিন সোনিয়া, মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন, ২ নং ওয়ার্ডের  ইউপি সদস্য নুরুল আমিন খাঁন, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সোনাটিকি হাওড় পাড়ে শতাধিক সুবিধাভোগী কৃষকের উপস্থিতিতে পানির সুষ্ঠু সরবরাহ ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন  ইউপি সদস্য নুরুল আমিন খাঁন সহ এলাকার সুবিধাভোগী কৃষকগন।
পানি ব্যবস্থাপনা প্রধান মাহফুজ আহমদ বলেন,
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনু সেচ প্রকল্পের আওতায়, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার হাওড় অঞ্চলে প্রায় ১০৫ কিঃমিঃ সেচখাল এর মাধ্যমে ১০ হাজার ২শত ৪৫ হেক্টর জমিতে বুরো মৌশুমে বুরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যে মনু সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়।
সেচ খালগুলোর শেষ প্রান্তে বা কিছু কিছু উঁচু জায়গায় পানি না পৌছার কারণে কিছু জায়গা চাষাবাদের অনুপযোগী রয়ে যায়। চলতি বছরে মনু সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ পরিপূর্ণ ভাবে পৌছিলে, খালগুলোর শেষ প্রান্তে কিছু কিছু উঁচু জায়গা থাকায় প্রকল্পের পানি সুষ্ঠু ভাবে সরবরাহ না হওয়ার কারনে কিছু জায়গা চাষাবাদের অনুপযোগী রয়েছে।
প্রায় ৩৬ বছরের অতি পুরানো মনু নদী সেচ প্রকল্পটিতে উজান থেকে যেভাবে পানি পাওয়া যেতো সেই আগের মত পানির স্রোত না থাকায় পরিপূর্ণ পানি সরবরাহ না হওয়ার আরেকটি কারণ।
বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এই সমস্যার সমাধানের জন্য মনু সেচ প্রকল্পের কিছু কিছু জায়গায় পুনঃসংস্কারের প্রয়োজন মনে করে আগামী সেচ মৌশুমের আগে পুনঃসংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পানি ব্যবস্থাপনা প্রধান মাহফুজ আহমদ।
তিনি জানান, এরইমধ্যে মনু নদী সেচ প্রকল্প পুনঃসংস্কারে সমীক্ষা যাচাই কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, প্রকল্পের পুনঃসংস্কারের কাজটি  বাস্তবায়িত হলে কৃষকের সেচ সুবিধার আর কোনো সমস্যা থাকবে না বলে জানান। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবালকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার হাওড় অঞ্চলে এ বছরে সেচ সরবরাহের মাধমে বুরো ধানের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা কমপক্ষে ৬০ থেকে ৬৫ লক্ষ মেট্রিকটন। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে  দুটি উপজেলার কৃষকের ঘরে এই লক্ষ্য মাত্রায় বুরো ধান উঠার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল।
Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

মনু নদী সেচ খাল পরিদর্শন ও সুবিধাভোগীদের সাথে মতবিনিময় করলেন পানি ব্যবস্থাপনা প্রধান মাহফুজ আহমদ

Update Time : 03:10:56 pm, Monday, 30 January 2023
কে এম সাইদুল ইসলাম : মৌলভীবাজার রাজনগরের মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি হাওড় অঞ্চলের মনু সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন সেচ খাল পরিদর্শন করেছেন পানি ব্যবস্থাপনা প্রধান মাহফুজ আহমদ।  রোববার (২৯শে জানুয়ারি) সকাল ১১ ঘটিকায় রাজনগর উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি হাওড় অঞ্চলের এসব প্রকল্প পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সুবিধাভোগী কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয়  সোনাটিকি হাওড় পাড়ে শতাধিক সুবিধাভোগী কৃষক, জনপ্রতিনিধি, সহ মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাখিল রায়হান, কৃষিবিদ ইসরাত আফরিন সোনিয়া, মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন, ২ নং ওয়ার্ডের  ইউপি সদস্য নুরুল আমিন খাঁন, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সোনাটিকি হাওড় পাড়ে শতাধিক সুবিধাভোগী কৃষকের উপস্থিতিতে পানির সুষ্ঠু সরবরাহ ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক, মুন্সিবাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন  ইউপি সদস্য নুরুল আমিন খাঁন সহ এলাকার সুবিধাভোগী কৃষকগন।
পানি ব্যবস্থাপনা প্রধান মাহফুজ আহমদ বলেন,
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মনু সেচ প্রকল্পের আওতায়, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার হাওড় অঞ্চলে প্রায় ১০৫ কিঃমিঃ সেচখাল এর মাধ্যমে ১০ হাজার ২শত ৪৫ হেক্টর জমিতে বুরো মৌশুমে বুরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যে মনু সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হয়।
সেচ খালগুলোর শেষ প্রান্তে বা কিছু কিছু উঁচু জায়গায় পানি না পৌছার কারণে কিছু জায়গা চাষাবাদের অনুপযোগী রয়ে যায়। চলতি বছরে মনু সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ পরিপূর্ণ ভাবে পৌছিলে, খালগুলোর শেষ প্রান্তে কিছু কিছু উঁচু জায়গা থাকায় প্রকল্পের পানি সুষ্ঠু ভাবে সরবরাহ না হওয়ার কারনে কিছু জায়গা চাষাবাদের অনুপযোগী রয়েছে।
প্রায় ৩৬ বছরের অতি পুরানো মনু নদী সেচ প্রকল্পটিতে উজান থেকে যেভাবে পানি পাওয়া যেতো সেই আগের মত পানির স্রোত না থাকায় পরিপূর্ণ পানি সরবরাহ না হওয়ার আরেকটি কারণ।
বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এই সমস্যার সমাধানের জন্য মনু সেচ প্রকল্পের কিছু কিছু জায়গায় পুনঃসংস্কারের প্রয়োজন মনে করে আগামী সেচ মৌশুমের আগে পুনঃসংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পানি ব্যবস্থাপনা প্রধান মাহফুজ আহমদ।
তিনি জানান, এরইমধ্যে মনু নদী সেচ প্রকল্প পুনঃসংস্কারে সমীক্ষা যাচাই কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে, প্রকল্পের পুনঃসংস্কারের কাজটি  বাস্তবায়িত হলে কৃষকের সেচ সুবিধার আর কোনো সমস্যা থাকবে না বলে জানান। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নেওয়ার জন্য মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবালকে নির্দেশ প্রদান করেন।
মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার হাওড় অঞ্চলে এ বছরে সেচ সরবরাহের মাধমে বুরো ধানের উৎপাদনের লক্ষমাত্রা কমপক্ষে ৬০ থেকে ৬৫ লক্ষ মেট্রিকটন। প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে  দুটি উপজেলার কৃষকের ঘরে এই লক্ষ্য মাত্রায় বুরো ধান উঠার সম্ভবনা রয়েছে বলে জানান মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল।