প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ :: ঈদুল আযহার টানা ছুটিতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, সিএনজি অটো ও বাস নিয়ে আসা পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠতো প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের অপার লীলাভ‚মি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যার প্রভাবে সিলেট বিভাগ পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। উপজেলার হোটেল রিসোর্টের বেশির ভাগই ফাঁকা পড়ে আছে। সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়ে পর্যটণ সংশ্লিষ্টরা কাঙ্খিত পর্যটক না আসায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
এদিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের টিকিট কাউন্টার থেকে জানা যায়,ঈদের দিন (১০জুলাই)রবিবার মোট ২৩ হাজার ৫শত ৫৩ টাকা,দিত্বীয় দিন (১১জুলাই)সোমবার ৭৪ হাজার ৯শত ৫৩টাকা,তিত্বীয় দিন মঙ্গলবার(১২জুলাই) বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার টাকা সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে। যা অন্যান্য বছরের চেয়ে ৬৫% কম।
প্রতিটি ঈদে যেখানে মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী খ্যাত কমলগঞ্জ পর্যটন স্পটগুলো দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটকদের ভীড়ে মুখরিত থাকতো এবার স্মরণকালে ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় লোকজন শূন্য হয়ে আছে। নেই কোথাও কোলাহল, অনেকটা নির্জীব জনশূন্য গোটা জেলার পর্যটন স্পটগুলো। নানা বয়সের মানুষকে রঙিন পোশাক পরে এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে না পর্যটকদের। কমলগঞ্জের সব পর্যটন স্থানে অনেকটা একরকমের দৃশ্য।
জীববৈচিত্র্যে ভরপুর বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, পদ্মকন্যা নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, ঝর্ণাধারা হামহাম জলপ্রপাত, ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ধলই চা-বাগানে অবস্থিত মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্যের বাহক বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, বন্যপ্রাণির অভয়ারণ্য রাজকান্দি বন, শমসেরনগর বিমানবন্দর, প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহক ল²ীনারায়ণ দিঘী, ২শ বছরের প্রাচীন ছয়চিরী দিঘী, শমসেরনগর বাঘীছড়া লেক, আলিনগর পদ্মলেক, মাগুরছড়া পরিত্যক্ত গ্যাসফিল্ড, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, অপরূপ শোভামন্ডিত উঁচু নিচু পাহাড়বেস্টিত সারিবদ্ধ পদ্মছড়া চা বাগান, শিল্পকলা সমৃদ্ধ মনিপুরী, প্রকৃতির পূজারী খাসিয়া, গারো, সাঁওতাল, মুসলিম মনিপুরী, টিপরা ও গারোসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ পর্যটকদের মন ও দৃষ্টি কেড়ে নেয়। কিন্তু সবুজ প্রকৃতি এবার টানতে পারছে না পর্যটকদের।
কমলগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে তেমন পর্যটকের দেখা মেলেনি। কিছু পর্যটককে বিকেলে দেখা গেছে। চা-বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, পদ্মছড়া লেক,বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান সৃতিসৌধ্য,তাছাড়াও খাসিয়া পল্লী ও মনিপুরী পাড়াতে সাধারণ ছুটির দিনে যে মানুষ থাকে, তার চেয়েও অনেক কম পর্যটকরে ঘুরতে দেখা যায়।
ঢাকা থেকে আসা হাসান আল-মামুন, জলি আক্তার,পলি বেগম বলেন, ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসেছি কমলগঞ্জে। চা-বাগানে ঘুরলাম, লাউয়াছড়ায় গেলাম। লোকজন খুবই কম, অনেটা শান্তিতে ঘুরতে পেরেছি। পরিবার ও আত্বীয়সজন নিয়ে পর্যটনের রাজধানীতে এসে ভালো লাগল।

নিজস্ব প্রতিবেদক 
























