ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপ ফুটবলের শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশেষে নতিস্বীকার করতে পারেন ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনো। তবে তুমুল বিতর্কের মাঝেও তিনি পদত্যাগ করছেন না বলেই জানা গেছে।
ফিফা সভাপতি হিসেবে ২০৩১ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন গঠিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’-এর প্রধান বা কমিশনার হয়ে বিশাল অঙ্কের অর্থ আয়ের এক পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো। কিন্তু খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাসহ বিভিন্ন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রীড়া সাংবাদিক মার্টিন জিগলারের মতে, এই আকস্মিক পদক্ষেপে ইনফান্তিনোর অবস্থান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি পদত্যাগ না করে আপাতত এই প্রস্তাব স্থগিত রাখতে পারেন, যাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং ভবিষ্যতে পুনরায় এমন উদ্যোগ নেওয়া যায়।
কারণ, ফিফার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তার রাজনৈতিক ভিত্তি এখনও বেশ শক্তিশালী।
বিশ্লেষকদের ধারণা, এই ধাক্কার কারণে ইনফান্তিনোকে হয়তো ভবিষ্যতে ক্লাব বিশ্বকাপ সম্প্রসারণ বা বিশ্বকাপকে ৬৪ দলে উন্নীত করার মতো বড় উচ্চাকাঙ্ক্ষাগুলো থেকেও সাময়িকভাবে পিছিয়ে আসতে হবে।
বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে বিশ্বকাপের মালিকানার অংশ ছেড়ে দিলে টুর্নামেন্টকে অতি-বাণিজ্যিকীকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেয়ারহোল্ডারদের লাভের চাপ সামলাতে টিকিটের দাম বৃদ্ধি, প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন কিংবা ম্যাচ সংখ্যা বাড়ানোর মতো সিদ্ধান্ত জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, ফিফার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উয়েফা। তারা ফিফার বিরুদ্ধে ‘ফুটবল বিক্রি করে নিজেদের এবং বন্ধুদের পকেট ভরানোর’ অভিযোগ এনেছে। পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায় উয়েফার ৫৫টি সদস্য দেশকে নিয়ে জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকা হয়েছে, যেখানে আগামী বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
ইউরোপীয় দেশগুলো ছাড়া বিশ্বকাপের মূল আকর্ষণে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হবে। ফলে উয়েফার এই কঠোর অবস্থান ও সম্ভাব্য বয়কটের হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনো তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হন কি না, ফুটবল বিশ্ব এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















