ডেস্ক রিপোর্ট : সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপে ৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বিশ্ব ফুটবল। সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থ ও ২০১০ সালে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের মতে, এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে মেসি নিজেকে আবারও ‘ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে প্রমাণ করেছেন।
স্প্যানিশ স্ট্রিমার ইবাই ইয়ানোসের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত ৭ এ সাইড ‘কিংসলিগ’-এর এক অনুষ্ঠানে ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পিকে বলেন, ‘আমি মনে করি এই বিশ্বকাপে মেসি আবারও প্রমাণ করেছে যে সে-ই ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। সে অনেকগুলো গোল করেছে এবং দলকে আবারও ফাইনালে তুলেছে।
শেষ পর্যন্ত হয়তো সে ট্রফি জিততে পারেনি, তবে সে যা অর্জন করেছে তার জন্য নিশ্চিতভাবেই গর্বিত হবে।’
স্পেনের কাছে ফাইনালে হারের তিক্ততা থাকলেও টুর্নামেন্টজুড়ে অসামান্য পারফর্ম করেছেন রোজারিওতে জন্ম নেওয়া মেসি।
নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচ খেলে, যার সাতটিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন, ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করেন তিনি।
বর্তমানে অ্যান্ডোরা এফসির মালিক পিকে কেবল মেসির প্রশংসাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে তার দুই দশকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়েও কথা বলেছেন।
তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বা ২০ বছর ধরে মেসি এবং রোনালদো সম্পূর্ণ ভিন্ন দুই ধারার খেলায় ফুটবলবিশ্বকে এক অসাধারণ লড়াই উপহার দিয়েছে। এখন স্পষ্টতই তাদের দুজনের ক্যারিয়ারের শেষ সময় চলছে, তবুও এই বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি তারা এখনও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিতে সক্ষম।’
পিকের এই মন্তব্যের আলাদা একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে বেড়ে ওঠার পর বার্সেলোনার সেই সোনালি সময়ে দীর্ঘ বছর একসঙ্গে খেলেছেন তারা, যা একসময় তাদের মাঝে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি করেছিল। তবে ২০২১ সালে পিকে বার্সেলোনা ছাড়ার পর তাদের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয় বলে জানা যায়।
স্প্যানিশ সাংবাদিক হুয়ান ইরিগোয়েনের সূত্র অনুযায়ী, বার্সেলোনার আর্থিক সংকট এবং ‘ফাইন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে’র নিয়ম মেনে চলার জন্য পিকে নাকি ক্লাব পরিচালনা পর্ষদকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, মেসি চলে গেলে ক্লাবের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে। অবশ্য এই বিষয়ে দুই তারকা প্রকাশ্যে কখনো মুখ খোলেননি।
স্প্যানিশ ফুটবলের অন্যতম আইকন এবং জাতীয় দলের হয়ে ১০০টিরও বেশি ম্যাচ খেলা পিকে দেশের সাম্প্রতিক জয় বা ফুটবলের দ্বৈরথকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই খেলায় মেসির অসামান্য অবদানকেই সবার ওপরে স্থান দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















