3:45 am, Tuesday, 15 September 2026

এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারত-শ্রীলঙ্কার স্পিনের লড়াই

স্পোর্টস ডেস্ক

দুবাইয়ের ধীরগতির উইকেটে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। স্পিনের লড়াইয়ে জমে উঠতে যাওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে দুই দল।

ব্যাটিং-বোলিংয়ের ভারসাম্যে ভারত এগিয়ে থাকলেও শিরোপা ধরে রাখার আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা। ২০২৪ সালের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ট্রফি জেতার স্মৃতিও প্রেরণা দেবে শ্রীলঙ্কাকে।

আজ রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। টুর্নামেন্টে ভারতের স্পিনাররা এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ২৬ উইকেট, যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের শিকার ২৫ উইকেট। ভারতের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দীপ্তি শর্মা।
তার সঙ্গে রয়েছেন এন শ্রী চরণী ও প্রেমা রাওয়াত। পেসার নন্দিনী শর্মাও ভালো ফর্মে আছেন।
শ্রীলঙ্কার স্পিন আক্রমণও কম যায় না। তবে ব্যাটিংয়ে তাদের কিছুটা ভুগতে হয়েছে। ধীরগতির উইকেটে একাধিক ম্যাচে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর হারশিথা সামারাবিক্রমা ও কাভিশা দিলহারির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতে শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশের বিপক্ষেও ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল তারা। সেই ম্যাচে হারশিথার দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে সেমিফাইনালে জায়গা করে দেয়। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৪৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর নিলাক্ষিকা সিলভার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ফলে ফাইনালের আগে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা থাকছেই।

ভারতের ব্যাটিংয়ে এবারের টুর্নামেন্টে বড় ভূমিকা রাখছেন স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা। বিশেষ করে শেফালি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছেন। চার ম্যাচে ১৬৮ রান করেছেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ১৬৯.৬৯। দুটি ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৬৪ রান। ফাইনালে ভারতের শুরুটা কেমন হয়, সেটি অনেকটাই নির্ভর করবে শেফালির ব্যাটিংয়ের ওপর। তাঁর সঙ্গে স্মৃতি মান্ধানার উদ্বোধনী জুটি ভারতকে দ্রুত রান তোলার সুযোগ করে দিতে পারে।

শ্রীলঙ্কার হয়ে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর দিকে তাকিয়ে থাকবে দল। ব্যাট হাতে চার ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৬৩ রান। তবে বল হাতে তিনি দুর্দান্ত। দীপ্তির সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১১ উইকেট নিয়েছেন আতাপাত্তু। ফাইনালে ব্যাট হাতেও জ্বলে উঠতে পারলে শ্রীলঙ্কার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়বে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে ভারতের আধিপত্য স্পষ্ট। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল ভারত। দুই দলের সর্বশেষ ১০ টি-টোয়েন্টির মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে তারা। তবে শ্রীলঙ্কার একমাত্র জয়টি এসেছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। ২০২৪ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে ডাম্বুলায় ভারতকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। সেই স্মৃতি এবারও শ্রীলঙ্কাকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

এবারের এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত দুই দলই অপরাজিত। ভারতের ব্যাটিং-বোলিংয়ের ভারসাম্য তাদের এগিয়ে রাখলেও শ্রীলঙ্কা জানে, ফাইনালে আগের সব হিসাব বদলে যেতে পারে। দুবাইয়ের উইকেটে রান করা কঠিন হওয়ায় শুরুতে উইকেট ধরে রাখা এবং মাঝের ওভারে স্পিন সামলানো হবে দুই দলের বড় চ্যালেঞ্জ।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারত-শ্রীলঙ্কার স্পিনের লড়াই

Update Time : 07:49:31 am, Sunday, 13 September 2026

স্পোর্টস ডেস্ক

দুবাইয়ের ধীরগতির উইকেটে ভারত ও শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। স্পিনের লড়াইয়ে জমে উঠতে যাওয়া এশিয়া কাপের ফাইনালে আজ মুখোমুখি হবে দুই দল।

ব্যাটিং-বোলিংয়ের ভারসাম্যে ভারত এগিয়ে থাকলেও শিরোপা ধরে রাখার আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে শ্রীলঙ্কা। ২০২৪ সালের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে ট্রফি জেতার স্মৃতিও প্রেরণা দেবে শ্রীলঙ্কাকে।

আজ রোববার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। টুর্নামেন্টে ভারতের স্পিনাররা এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ২৬ উইকেট, যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের শিকার ২৫ উইকেট। ভারতের বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দীপ্তি শর্মা।
তার সঙ্গে রয়েছেন এন শ্রী চরণী ও প্রেমা রাওয়াত। পেসার নন্দিনী শর্মাও ভালো ফর্মে আছেন।
শ্রীলঙ্কার স্পিন আক্রমণও কম যায় না। তবে ব্যাটিংয়ে তাদের কিছুটা ভুগতে হয়েছে। ধীরগতির উইকেটে একাধিক ম্যাচে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছে তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর হারশিথা সামারাবিক্রমা ও কাভিশা দিলহারির ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতে শ্রীলঙ্কা।

বাংলাদেশের বিপক্ষেও ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল তারা। সেই ম্যাচে হারশিথার দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে সেমিফাইনালে জায়গা করে দেয়। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৪৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর নিলাক্ষিকা সিলভার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। ফলে ফাইনালের আগে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা থাকছেই।

ভারতের ব্যাটিংয়ে এবারের টুর্নামেন্টে বড় ভূমিকা রাখছেন স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা। বিশেষ করে শেফালি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছেন। চার ম্যাচে ১৬৮ রান করেছেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ১৬৯.৬৯। দুটি ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৬৪ রান। ফাইনালে ভারতের শুরুটা কেমন হয়, সেটি অনেকটাই নির্ভর করবে শেফালির ব্যাটিংয়ের ওপর। তাঁর সঙ্গে স্মৃতি মান্ধানার উদ্বোধনী জুটি ভারতকে দ্রুত রান তোলার সুযোগ করে দিতে পারে।

শ্রীলঙ্কার হয়ে অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর দিকে তাকিয়ে থাকবে দল। ব্যাট হাতে চার ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ৬৩ রান। তবে বল হাতে তিনি দুর্দান্ত। দীপ্তির সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ১১ উইকেট নিয়েছেন আতাপাত্তু। ফাইনালে ব্যাট হাতেও জ্বলে উঠতে পারলে শ্রীলঙ্কার শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়বে।

সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে ভারতের আধিপত্য স্পষ্ট। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল ভারত। দুই দলের সর্বশেষ ১০ টি-টোয়েন্টির মধ্যে ৯টিতেই জিতেছে তারা। তবে শ্রীলঙ্কার একমাত্র জয়টি এসেছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে। ২০২৪ সালের এশিয়া কাপ ফাইনালে ডাম্বুলায় ভারতকে ৮ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। সেই স্মৃতি এবারও শ্রীলঙ্কাকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

এবারের এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত দুই দলই অপরাজিত। ভারতের ব্যাটিং-বোলিংয়ের ভারসাম্য তাদের এগিয়ে রাখলেও শ্রীলঙ্কা জানে, ফাইনালে আগের সব হিসাব বদলে যেতে পারে। দুবাইয়ের উইকেটে রান করা কঠিন হওয়ায় শুরুতে উইকেট ধরে রাখা এবং মাঝের ওভারে স্পিন সামলানো হবে দুই দলের বড় চ্যালেঞ্জ।