7:48 pm, Tuesday, 21 April 2026

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

হাসান আল মাহমুদ রাজু ::
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ও বাজারের অসংখ ভাঙ্গাচোরা সড়ক রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেহাল ভাঙা রাস্তাঘাটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। খানাখন্দে ভরা ও কার্পেটিং উঠে যাওয়া সড়কগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে নিত্যদিনের যাতায়াতে সময় নষ্ট, স্বাস্থ্যঝুঁকিযা এই সব সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙা অংশে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন এবং হাজারো মানুষ। বর্ষা মৌসুমে স্রোতের তোড়ে রাস্তার একাংশ সতী নদীতে ধসে পড়ছে।এই সকল সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্যবোঝাই গাড়ি এবং সাধারণ মানুষ চলাচল করে। ভাঙা সড়কে অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

অটোরিক্সা চালক আকবর মিয়া,সুলতান আহমদ,সামিম মিয়া,আসকর উদ্দিন বলেন, রাস্তায় গাড়ি চলতে গেলে গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায়। গর্তে পানি ভরে যায় যা আমাদের যানবাহন চালাতে দুর্ঘটনায় শিকার হতে হয়। অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে ঠেলে গাড়ি পার করতে হয়।
কৃষক উস্তার মিয়া,বদর উদ্দিন,রশিদ আহমদ,আব্দুল খালিক বলেন, ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় অটোতে উঠলে কলিজাটা কেঁপে ওঠে।সব সময় মনে ভয় থাকে। আমাদের কৃষি ক্ষেতের পন্য গুলো যানবাহন দিয়ে আনতে অনেক কষ্ট ও বিপদ মুখি হতে হয়।তাই সরকারের কাছে আমাদের যোরদাবী দ্রুত আমাদের ভাঙ্গাচোরা রাস্তা গুলো মেরামত করা হক।

২১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেই গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে কুলাউড়ার ১৩ টি ইউনিয়নের রাস্তার অবস্থা বেহাল দশা যেমন পৃথিম পাশা,হাজীপুর, শরিফপুর,কর্মধা,টিলাগাও,রাউৎগাও,ভাটেরা,বরমচাল,কাদিপুর,ব্রাহ্মণবাজার,জয়চন্ডি কুলাউড়া সদর,ভুকশিমইল এইনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বাজারের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গুলো এখন ক্যান্সার রুগেরমত আক্রান্ত হয়ে শত শত গর্তে ভরপুর রয়েছে।যা এই ভাঙ্গাচোরা রাস্তা গুলো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের বিপদ গ্রামী হয়ে আছে।যান চলাচলে বিভিন্ন ভাবে সড়ক দর্ঘটনায় শিকার হতে হয় চালক ও যাত্রীরা।ভাঙ্গাচোরা এই সড়ক গুলো অনেক সড়কে ১ কিলোমিটার এর ভিতরে শত শত গর্ত রয়েছে।যেখানে সাধারণ মানুষ,স্কুল কলেজ মাদ্রাসা গ্রামী ছাত্রছাত্রীরা ও চালক যাত্রী এমন কি গর্ভবতি রোগিদের চলাচলে বিগ্নঘটে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে তারা ক্রুব প্রকাশ করে বলেন ভোটের সময় সব আসেন কিন্তু কাজের বেলায় কেও এগিয়ে আসেন না তাদের দাবী সরকার ও প্রশাসনের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো দ্রুত মেরামত করার উদ্যোগ গ্রহন করা হক।
এলাকাবাসী পক্ষে ময়জুল ইসলাম বলেন,বিশেষ করে আমাদের কুলাউড়া উপজেলার রাজনগর বাজার হতে ছইদল বাজার পর্যন্ত ভাঙ্গাচোরা পাকা সড়ক টি দ্রুত মেরামত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য যোরদাবী জানাচ্ছি।

কলেজ শিক্ষার্থী রোমেনা আক্তার চৌধুরী বলেন,ভাঙ্গাচোরা রাস্তার কারনে আমরা শিক্ষার্থী দ্রুত সময়ে স্কুল কলেজে যেতে পারি না। বিশেষ করে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সদ পাশা হতে মুরইছড়া বেস্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাকার কার্পেটিং উঠে গিয়ে গভীর গর্তে পরিনত হয়েছে যা আমরা যাতায়াত করতে সমস্যা হয় এবং আমরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।দ্রুত এই সড়ক টি মেরামত করার উদ্যোগ গ্রহন করা হক।

কুলাউড়া উপজেলার পৃথিম পাশা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদ রানা আব্বাছ বলেন,কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় ভাঙ্গাচোরা রাস্তা রয়েছে যা পাকা রাস্তা পাকা করন করার অনেক বছর পরেও আজও অই সকল সকল রাস্তার সংস্কার কাজ করা হয় নাই,বিশেষ করে নদী ভাঙ্গন ও বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারনে বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশায় পরিনত হয়।তাই সরকারের প্রতি যোর দাবী আমাদের উপজেলার সংস্কার কাজের উন্নয়নের বরাদ্ধ বাড়িয়ে দেওয়া হক।বিশেষ করে ৬ ইউনিয়নের প্রান কেন্দ্র রবিরবাজার এলাকার হাসপাতাল সম্মুখীন গ্রামীণ টাওয়ার সড়ক হতে প্রচেষ্টা পর্যন্ত রাস্তাটি বেহাল দশায় পরে আছে এই রাস্তা টি যেন দ্রুত মেরামত করা হয়।

উপজেলা এলজিইডি সুত্রে যানা যায়,কুলাউড়া উপজেলায় প্রায় ৪০০ কি:মি: পাকা সড়ক রয়েছে।টুটাল ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক আনুমানিক ১১৪২ কি:মি: রয়েছে এর মধ্যে কাচা চড়ক প্রায় ৭৪২ কি:মি: আছে।অতিশিগ্রহী ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক গুলোর মেরামতের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে বর্তমানে উপজেলায় ৬ টি সড়কে উন্নয়ন মুলক মেরামতের কাজ চলছে।

এলজিইডি কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার প্রিতম সিকদার বলেন, বরাদ্ধ সল্পতার কারনে চাহিদা থাকার সত্যেও যতেষ্ট পরিমান রাস্তার মেরামত কার্যক্রম গ্রহন করা যাচ্ছে না। তাও সত্যেও অতি দ্রুত উপজেলার যে সব গুরুত্বপূর্ণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সে সব রাস্তা গুলো মেরামত করার উদ্যোগ গ্রহন হয়েছে।পর্যায়ক্রমে আমরা কুলাউড়া উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা গুলো মেরামত করার চেষ্টা করব।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

Update Time : 12:06:09 pm, Tuesday, 21 April 2026

হাসান আল মাহমুদ রাজু ::
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ও বাজারের অসংখ ভাঙ্গাচোরা সড়ক রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেহাল ভাঙা রাস্তাঘাটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। খানাখন্দে ভরা ও কার্পেটিং উঠে যাওয়া সড়কগুলোতে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। এতে নিত্যদিনের যাতায়াতে সময় নষ্ট, স্বাস্থ্যঝুঁকিযা এই সব সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙা অংশে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন এবং হাজারো মানুষ। বর্ষা মৌসুমে স্রোতের তোড়ে রাস্তার একাংশ সতী নদীতে ধসে পড়ছে।এই সকল সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষিপণ্যবোঝাই গাড়ি এবং সাধারণ মানুষ চলাচল করে। ভাঙা সড়কে অটোরিকশা, রিকশা, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

অটোরিক্সা চালক আকবর মিয়া,সুলতান আহমদ,সামিম মিয়া,আসকর উদ্দিন বলেন, রাস্তায় গাড়ি চলতে গেলে গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায়। গর্তে পানি ভরে যায় যা আমাদের যানবাহন চালাতে দুর্ঘটনায় শিকার হতে হয়। অনেক সময় যাত্রীদের নামিয়ে ঠেলে গাড়ি পার করতে হয়।
কৃষক উস্তার মিয়া,বদর উদ্দিন,রশিদ আহমদ,আব্দুল খালিক বলেন, ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় অটোতে উঠলে কলিজাটা কেঁপে ওঠে।সব সময় মনে ভয় থাকে। আমাদের কৃষি ক্ষেতের পন্য গুলো যানবাহন দিয়ে আনতে অনেক কষ্ট ও বিপদ মুখি হতে হয়।তাই সরকারের কাছে আমাদের যোরদাবী দ্রুত আমাদের ভাঙ্গাচোরা রাস্তা গুলো মেরামত করা হক।

২১ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সেই গর্তে বৃষ্টির পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে কুলাউড়ার ১৩ টি ইউনিয়নের রাস্তার অবস্থা বেহাল দশা যেমন পৃথিম পাশা,হাজীপুর, শরিফপুর,কর্মধা,টিলাগাও,রাউৎগাও,ভাটেরা,বরমচাল,কাদিপুর,ব্রাহ্মণবাজার,জয়চন্ডি কুলাউড়া সদর,ভুকশিমইল এইনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম বাজারের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গুলো এখন ক্যান্সার রুগেরমত আক্রান্ত হয়ে শত শত গর্তে ভরপুর রয়েছে।যা এই ভাঙ্গাচোরা রাস্তা গুলো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের বিপদ গ্রামী হয়ে আছে।যান চলাচলে বিভিন্ন ভাবে সড়ক দর্ঘটনায় শিকার হতে হয় চালক ও যাত্রীরা।ভাঙ্গাচোরা এই সড়ক গুলো অনেক সড়কে ১ কিলোমিটার এর ভিতরে শত শত গর্ত রয়েছে।যেখানে সাধারণ মানুষ,স্কুল কলেজ মাদ্রাসা গ্রামী ছাত্রছাত্রীরা ও চালক যাত্রী এমন কি গর্ভবতি রোগিদের চলাচলে বিগ্নঘটে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বললে তারা ক্রুব প্রকাশ করে বলেন ভোটের সময় সব আসেন কিন্তু কাজের বেলায় কেও এগিয়ে আসেন না তাদের দাবী সরকার ও প্রশাসনের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক গুলো দ্রুত মেরামত করার উদ্যোগ গ্রহন করা হক।
এলাকাবাসী পক্ষে ময়জুল ইসলাম বলেন,বিশেষ করে আমাদের কুলাউড়া উপজেলার রাজনগর বাজার হতে ছইদল বাজার পর্যন্ত ভাঙ্গাচোরা পাকা সড়ক টি দ্রুত মেরামত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য যোরদাবী জানাচ্ছি।

কলেজ শিক্ষার্থী রোমেনা আক্তার চৌধুরী বলেন,ভাঙ্গাচোরা রাস্তার কারনে আমরা শিক্ষার্থী দ্রুত সময়ে স্কুল কলেজে যেতে পারি না। বিশেষ করে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা সদ পাশা হতে মুরইছড়া বেস্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাকার কার্পেটিং উঠে গিয়ে গভীর গর্তে পরিনত হয়েছে যা আমরা যাতায়াত করতে সমস্যা হয় এবং আমরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।দ্রুত এই সড়ক টি মেরামত করার উদ্যোগ গ্রহন করা হক।

কুলাউড়া উপজেলার পৃথিম পাশা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদ রানা আব্বাছ বলেন,কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় ভাঙ্গাচোরা রাস্তা রয়েছে যা পাকা রাস্তা পাকা করন করার অনেক বছর পরেও আজও অই সকল সকল রাস্তার সংস্কার কাজ করা হয় নাই,বিশেষ করে নদী ভাঙ্গন ও বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারনে বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশায় পরিনত হয়।তাই সরকারের প্রতি যোর দাবী আমাদের উপজেলার সংস্কার কাজের উন্নয়নের বরাদ্ধ বাড়িয়ে দেওয়া হক।বিশেষ করে ৬ ইউনিয়নের প্রান কেন্দ্র রবিরবাজার এলাকার হাসপাতাল সম্মুখীন গ্রামীণ টাওয়ার সড়ক হতে প্রচেষ্টা পর্যন্ত রাস্তাটি বেহাল দশায় পরে আছে এই রাস্তা টি যেন দ্রুত মেরামত করা হয়।

উপজেলা এলজিইডি সুত্রে যানা যায়,কুলাউড়া উপজেলায় প্রায় ৪০০ কি:মি: পাকা সড়ক রয়েছে।টুটাল ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক আনুমানিক ১১৪২ কি:মি: রয়েছে এর মধ্যে কাচা চড়ক প্রায় ৭৪২ কি:মি: আছে।অতিশিগ্রহী ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক গুলোর মেরামতের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে বর্তমানে উপজেলায় ৬ টি সড়কে উন্নয়ন মুলক মেরামতের কাজ চলছে।

এলজিইডি কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী অফিসার প্রিতম সিকদার বলেন, বরাদ্ধ সল্পতার কারনে চাহিদা থাকার সত্যেও যতেষ্ট পরিমান রাস্তার মেরামত কার্যক্রম গ্রহন করা যাচ্ছে না। তাও সত্যেও অতি দ্রুত উপজেলার যে সব গুরুত্বপূর্ণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সে সব রাস্তা গুলো মেরামত করার উদ্যোগ গ্রহন হয়েছে।পর্যায়ক্রমে আমরা কুলাউড়া উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা গুলো মেরামত করার চেষ্টা করব।