11:49 pm, Monday, 29 June 2026

কুলাউড়ার মনু নদীর বালুর নিলাম বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মনু নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কলিরকোনা এলাকায় চর কাটিংয়ের প্রায় পৌনে দুই লাখ ঘনফুট বালুর নিলাম বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মনু নদীর তীরবর্তী ছৈদলবাজারে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির মিয়ার সভাপতিত্বে এবং কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর, কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক সৈয়দ মোশারফ আলী, ব্যবসায়ী আপ্তাব উদ্দিন, সমাজসেবক মামুনুর রশিদ, ফরিদ উদ্দিন, বিএনপি নেতা চিনু মিয়া ও যুবদল নেতা সুয়েব উদ্দিন জিল্লুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ব্লক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের কলিরকোনা-ছৈদল এলাকায় নদীর গতিপথ স্বাভাবিক রাখতে চর ও বাঁক কাটিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ বালু বেড়িবাঁধের পাশের গর্তে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, নদীতীরবর্তী অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য মাটি উত্তোলনের ফলে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই উপজেলা প্রশাসন প্রায় পৌনে দুই লাখ ঘনফুট বালু নিলামের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এসব বালু অপসারণ করা হলে নবনির্মিত বেড়িবাঁধ, ব্লক এবং ছৈদলবাজার-রাজনগর সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, মনু নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হলেও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ছৈদলবাজার-কলিরকোনা এলাকায় এখনো জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। নদীভাঙন থেকে এলাকা রক্ষার স্বার্থে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবার নিজেদের জমি ও বসতভিটা হারালেও তারা এখনো কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা অধিগ্রহণের অর্থ পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ মোশারফ আলী ও কামরুল হাসান জানান, বালুর নিলাম কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তারপরও যদি নিলাম কার্যক্রম চালানো হয়, তাহলে ওই এলাকা পুনরায় বড় বড় গর্তে পরিণত হবে এবং বেড়িবাঁধ, ব্লক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, মনু নদীর চর কাটিংয়ের জব্দকৃত বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নিলাম স্থগিতের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কমলগঞ্জে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

কুলাউড়ার মনু নদীর বালুর নিলাম বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন

Update Time : 11:42:06 am, Monday, 29 June 2026

কুলাউড়া প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মনু নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কলিরকোনা এলাকায় চর কাটিংয়ের প্রায় পৌনে দুই লাখ ঘনফুট বালুর নিলাম বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মনু নদীর তীরবর্তী ছৈদলবাজারে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির মিয়ার সভাপতিত্বে এবং কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল গফুর, কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক সৈয়দ মোশারফ আলী, ব্যবসায়ী আপ্তাব উদ্দিন, সমাজসেবক মামুনুর রশিদ, ফরিদ উদ্দিন, বিএনপি নেতা চিনু মিয়া ও যুবদল নেতা সুয়েব উদ্দিন জিল্লুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, কুলাউড়া, রাজনগর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও ব্লক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের কলিরকোনা-ছৈদল এলাকায় নদীর গতিপথ স্বাভাবিক রাখতে চর ও বাঁক কাটিংয়ের মাধ্যমে উত্তোলিত বিপুল পরিমাণ বালু বেড়িবাঁধের পাশের গর্তে স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, নদীতীরবর্তী অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য মাটি উত্তোলনের ফলে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যেই উপজেলা প্রশাসন প্রায় পৌনে দুই লাখ ঘনফুট বালু নিলামের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এসব বালু অপসারণ করা হলে নবনির্মিত বেড়িবাঁধ, ব্লক এবং ছৈদলবাজার-রাজনগর সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, মনু নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করা হলেও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের ছৈদলবাজার-কলিরকোনা এলাকায় এখনো জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। নদীভাঙন থেকে এলাকা রক্ষার স্বার্থে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পরিবার নিজেদের জমি ও বসতভিটা হারালেও তারা এখনো কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা অধিগ্রহণের অর্থ পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ মোশারফ আলী ও কামরুল হাসান জানান, বালুর নিলাম কার্যক্রম স্থগিতের দাবিতে জেলা প্রশাসক ও কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। তারপরও যদি নিলাম কার্যক্রম চালানো হয়, তাহলে ওই এলাকা পুনরায় বড় বড় গর্তে পরিণত হবে এবং বেড়িবাঁধ, ব্লক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, মনু নদীর চর কাটিংয়ের জব্দকৃত বালু নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নিলাম স্থগিতের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ আমার কাছে আসেনি।