1:23 am, Friday, 16 October 2026

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে স্কুল ছাত্রী নিহত: ৪৫ঘন্টা পর পতাকা বৈঠক শেষে লাশ হস্তান্তর

হাসান আল মাহমুদ রাজু: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মারা যাওয়া স্বর্ণা দাসের (১৬) লাশ ৪৫ ঘন্টা পর হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চাতলাপুর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় বিএসএফ লাশটি হস্তান্তর করে। এর আগে গত রোববার রাতে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচক সীমান্ত এলাকায় ঘটনাটি ঘটলেও একদিন পর সোমবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। নিহত স্বর্ণা মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের কালনীগড় গ্রামের পরেন্দ্র দাসের মেয়ে। স্বর্ণা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্বর্ণার বাবা পরেন্দ্র দাস জানান, ভারতের ত্রিপুরায় তার বড় ছেলে থাকেন। তাকে দেখতে স্বর্ণা ও তার মা রোববার রাতে স্থানীয় জনপ্রতি ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই দালালের সহযোগিতায় লালারচক সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাত ৯টার দিকে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছালে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে স্বর্ণা ঘটনাস্থলে মারা গেলেও ভাগ্যক্রমে স্বর্ণার মা বেঁচে যান। তিনি জানান, সোমবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি দল বাড়িতে এসে খবরটি জানায়। স্বর্ণার মরদেহ বিএসএফ নিয়ে গেছে বলেও তিনি জানান।


বিজিবির লালারচক বিওপির কমান্ডার নায়েক ওবায়েদ জানান, কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাইপথে ভারতে যাওয়ার সময় বিএসএফের গুলিতে একজন মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কুলাউড়া থানার উপ পরিদর্শক বিজয় প্রসাদ দেবনাথ জানান, মঙ্গলবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টায় দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ইরানী থানা পুলিশের কাছ থেকে বাংলাদেশের পক্ষে কুলাউড়া থানা পুলিশ লাশ গ্রহন করেন । এসময় বিজিবির উর্ধতন কর্মকর্তা এবং ভারতীয়দের পক্ষে বিএসএফ এবং ইরানী থানার ওসি অরুন উদয় দাশসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার রাত ৯ টার দিকে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএসএফএ’র গুলিতে ঐ স্কুল ছাত্রী নিহত হলেও সোমবার বিকেল ৪ টা পর্যন্ত লাশ পড়ে ছিল ঘটনাস্থলে। পরে বিজিবি-বিএসএফ’র কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর লাশ ফেরতের উদ্যোগ নেয়। পরে ভারতীয় পুলিশ লাশের পোষ্ট মর্টেম শেষে ভারতীয় পুলিশ বিজিবির উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে।
উল্লেখ্য, নিহত স্বর্ণা তার পরিবারের সাথে গত রোববার রাতে স্থানীয় দুই দালালের সহযোগিতায় জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা চুক্তিতে লালারচক সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা চালান। রাত ৯টার দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ইরানি থানার কালের কান্দি সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছালে বিএসএফ তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে স্বর্ণা ঘটনাস্থলে মারা যায়। তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্যরাও আহত হন।
এব্যাপারে বিজিবির শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার লে: কর্ণেল মিজানুর রহমান শিকদার জানান, বিজিবি-বিএসএফ’র উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ নিহত কিশোরীর লাশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেরত দেয়।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষন রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত স্বর্ণার লাশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচক সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ার শিববাড়িতে প্রস্তুত এক হাজার হাতের প্রতিমা: আসবেন লক্ষাধিক দর্শনার্থী

কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে স্কুল ছাত্রী নিহত: ৪৫ঘন্টা পর পতাকা বৈঠক শেষে লাশ হস্তান্তর

Update Time : 02:50:04 pm, Tuesday, 3 September 2024

হাসান আল মাহমুদ রাজু: মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মারা যাওয়া স্বর্ণা দাসের (১৬) লাশ ৪৫ ঘন্টা পর হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চাতলাপুর চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় বিএসএফ লাশটি হস্তান্তর করে। এর আগে গত রোববার রাতে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচক সীমান্ত এলাকায় ঘটনাটি ঘটলেও একদিন পর সোমবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হয়। নিহত স্বর্ণা মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের কালনীগড় গ্রামের পরেন্দ্র দাসের মেয়ে। স্বর্ণা অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্বর্ণার বাবা পরেন্দ্র দাস জানান, ভারতের ত্রিপুরায় তার বড় ছেলে থাকেন। তাকে দেখতে স্বর্ণা ও তার মা রোববার রাতে স্থানীয় জনপ্রতি ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই দালালের সহযোগিতায় লালারচক সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাত ৯টার দিকে ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছালে বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালালে স্বর্ণা ঘটনাস্থলে মারা গেলেও ভাগ্যক্রমে স্বর্ণার মা বেঁচে যান। তিনি জানান, সোমবার রাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি দল বাড়িতে এসে খবরটি জানায়। স্বর্ণার মরদেহ বিএসএফ নিয়ে গেছে বলেও তিনি জানান।


বিজিবির লালারচক বিওপির কমান্ডার নায়েক ওবায়েদ জানান, কয়েকজন বাংলাদেশি চোরাইপথে ভারতে যাওয়ার সময় বিএসএফের গুলিতে একজন মারা যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কুলাউড়া থানার উপ পরিদর্শক বিজয় প্রসাদ দেবনাথ জানান, মঙ্গলবার (০৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬ টায় দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর উর্ধতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ইরানী থানা পুলিশের কাছ থেকে বাংলাদেশের পক্ষে কুলাউড়া থানা পুলিশ লাশ গ্রহন করেন । এসময় বিজিবির উর্ধতন কর্মকর্তা এবং ভারতীয়দের পক্ষে বিএসএফ এবং ইরানী থানার ওসি অরুন উদয় দাশসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে রোববার রাত ৯ টার দিকে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীবাহিনী বিএসএফএ’র গুলিতে ঐ স্কুল ছাত্রী নিহত হলেও সোমবার বিকেল ৪ টা পর্যন্ত লাশ পড়ে ছিল ঘটনাস্থলে। পরে বিজিবি-বিএসএফ’র কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর লাশ ফেরতের উদ্যোগ নেয়। পরে ভারতীয় পুলিশ লাশের পোষ্ট মর্টেম শেষে ভারতীয় পুলিশ বিজিবির উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে লাশ হস্তান্তর করেছে।
উল্লেখ্য, নিহত স্বর্ণা তার পরিবারের সাথে গত রোববার রাতে স্থানীয় দুই দালালের সহযোগিতায় জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা চুক্তিতে লালারচক সীমান্ত দিয়ে চোরাই পথে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা চালান। রাত ৯টার দিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ইরানি থানার কালের কান্দি সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে পৌঁছালে বিএসএফ তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে স্বর্ণা ঘটনাস্থলে মারা যায়। তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্যরাও আহত হন।
এব্যাপারে বিজিবির শ্রীমঙ্গল সেক্টর কমান্ডার লে: কর্ণেল মিজানুর রহমান শিকদার জানান, বিজিবি-বিএসএফ’র উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ নিহত কিশোরীর লাশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেরত দেয়।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষন রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহত স্বর্ণার লাশ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীফপুর ইউনিয়নের লালারচক সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ।