4:47 am, Saturday, 22 August 2026

‘গুপ্ত-সুপ্তরা’ ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতা করেছিলেন: আইনমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ভোটের মাঠে যখন ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হয়েছিল, তখন যারা ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ ছিলেন, তারা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে।

আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পাওয়া গেছে। এই বাংলাদেশ নিয়ে ছেলেখেলা করা যাবে না এবং ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার পথও সুগম করা যাবে না।

তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের বিচার হবে। প্রতিটি খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে।

সেই বিচার কোনো গোপন বিচার হবে না, ন্যায়বিচার হবে। বিচারে এমন শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে, যা বিশ্বের যেকোনো আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে।
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে আইনমন্ত্রী বলেন, বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা আপাতত দেওয়া হলো। ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সরকার ছয় মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। সংকট রয়েছে এবং সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে না।

ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকার চেষ্টা করেছে সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।

আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলার তালিকায় ২০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিও ছিলেন। পবিত্র কাবা শরিফে হজরত অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকেও ঢাকায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময় এক নেত্রী আপস করে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ থেকে কোথাও যাননি। কারণ বিএনপির রাজনীতি এ দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান, বিএনপির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। সময় দিয়ে এই বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও নৈরাজ্যবাদের কবল থেকে মুক্ত করা হবে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সঞ্চালনা করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন।

সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

বক্তব্য দেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরওয়ার, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে সেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে  র্বণাঢ্য র‌্যালী ও সমবাবেশ এবং বৃক্ষরেপান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

‘গুপ্ত-সুপ্তরা’ ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতা করেছিলেন: আইনমন্ত্রী

Update Time : 11:07:37 am, Monday, 17 August 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতাকারীদের সমালোচনা করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ভোটের মাঠে যখন ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলা হয়েছিল, তখন যারা ‘গুপ্ত-সুপ্ত’ ছিলেন, তারা এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে।

আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির প্রস্তাবিত ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ পাওয়া গেছে। এই বাংলাদেশ নিয়ে ছেলেখেলা করা যাবে না এবং ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার পথও সুগম করা যাবে না।

তিনি বলেন, এই বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের বিচার হবে। প্রতিটি খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে।

সেই বিচার কোনো গোপন বিচার হবে না, ন্যায়বিচার হবে। বিচারে এমন শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে, যা বিশ্বের যেকোনো আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে।
আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা শুনে আইনমন্ত্রী বলেন, বারের সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা এবং বই কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা আপাতত দেওয়া হলো। ভবন নির্মাণের জন্য যা যা করা দরকার, তা করা হবে।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সরকার ছয় মাসের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। সংকট রয়েছে এবং সেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে না।

ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখন বিশ্বের সব দেশেই তেলের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ সরকার চেষ্টা করেছে সবার শেষে তেলের দাম বাড়াতে।

আইনমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলার তালিকায় ২০ বছর আগে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তিও ছিলেন। পবিত্র কাবা শরিফে হজরত অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকেও ঢাকায় গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আসামি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সরকারের সময় এক নেত্রী আপস করে বাংলাদেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ থেকে কোথাও যাননি। কারণ বিএনপির রাজনীতি এ দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান, বিএনপির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। সময় দিয়ে এই বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও নৈরাজ্যবাদের কবল থেকে মুক্ত করা হবে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সঞ্চালনা করেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ ইমন।

সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

বক্তব্য দেন বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মজিবর রহমান সরওয়ার, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান।