বিশেষ প্রতিনিধি : মোহাম্মদ আবু জাফর রাজু। তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ পদে দায়িত্বে আছেন। তাঁর বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায়। তাঁর পিতা সাবেক এমপি ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের প্রাক্তণ সভাপতি মরহুম আব্দুল জব্বার ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর। তিনি একজন কর্মকর্তা হয়েও কুলাউড়া উপজেলার উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। যা একজন জনপ্রতিনিধি হয়েও এতো উন্নয়ন করা কখনো সম্ভব নয়। তিনি গত তিন-চার বছরে সরকার কাছ থেকে বরাদ্দ এনে কুলাউড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন। এছাড়া আরও প্রায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব প্রেরণ করেছেন। বিশেষ করে ক্যান্সার, লিভার, কিডনী, স্ট্রোক প্যারালাইজড, দরিদ্র, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বিশেষ শিশু, মুক্তিযোদ্ধা, মুমুর্ষ প্রায় ১২০০ রোগীদেরকে প্রায় ৬ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। তাছাড়া গত ৫ বছরে চা শ্রমিকদের মাঝে সর্বমোট ৯ কোটি ৯৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। এসব উন্নয়নে ইতিমধ্যে এলাকায়ও তিনি একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন। এখন তাকে উন্নয়নের һপকার হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন উপজেলার জনগণ এবং তাকে নিয়ে আরো বড় ধরণের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।
বিগত তিন-চার বছরে কুলাউড়া উপজেলায় তিনি যেসব উন্নয়ন করেছেন তা হলো ঃ
স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৯৩ টি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫৭ টি, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৭টি রাস্তার অনুমোদন করেছেন, যার কাজ চলমান রয়েছে। নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রকল্পে ২৩.৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলায় ১ হাজারেরও বেশি গভীর নলকূপ এবং কমিউনিটি নলকূপ স্থাপন বাস্তবায়ানাধিন রয়েছে। কুলাউড়া উপজেলায় গ্রীণ হাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর লক্ষে সৌর বিদ্যুতায়িত। সড়কবাতি স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে ৪ কোটি টাকার বারদ্ধ প্রদানের প্রস্তাব প্রেরণ। এছাড়া মসজিদ, মন্দির, শ্বশান ঘাট, কবরস্থান এবং ঈদগাহসহ প্রায় ২০০টি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ফানাই নদীর উপর ব্রীজ নির্মানাধীন রয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কুলাউড়া শহর অংশে যানজট নিরসনে প্রশস্থ চারলেনে সড়ক উন্নীতকরণের জন্য ৪১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ। দূর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ১৭টি কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ ও ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২টি ব্রীজ নির্মাণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৫টি প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মানের জন্য ১ কোটি টাকা করে ৫ কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৪টি প্রতিষ্ঠানে দেড় কোটি ও ২ কোটি টাকা করে ৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। মেরামত ও সংস্কার জন্য (২০২২-২৩ অর্থ বছর) ৯টি প্রতিষ্ঠানে ২০ লক্ষ টাকা করে ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা। ভবন মেরামত (২০২১-২২ অর্থ বছর) ৫টি প্রতিষ্ঠানে ১৫ লক্ষ টাকা করে ৭৫ লক্ষ টাকা। আসবাবপত্র প্রস্তুত ও সরবরাহ ৩ কোটি ২৯ লক্ষ ১৯ হাজার টাকা। কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে মেরামত ও সংস্কার ২২-২৩ অর্থ বছরে ৫ টি প্রতিষ্ঠানে ২০ লক্ষ টাকা করে ১ কোটি টাকা। ভবন নির্মাণ ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ৩টি ভবন নির্মাণ সাড়ে ৪ কোটি টাকা। শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ২২-২৩ অর্থ বছরে ২টি ভবন নির্মাণ ৩ কোটি টাকা এবং কুলাউড়া কারিগরী স্কুল এন্ড কলেজ অনুমোদন করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ১৬টি বিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণ ২৪ কোটি টাকা। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবণ/অতিরক্ত শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ ৩৮ কোটি টাকা, ৮১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত ২ লক্ষ টাকা করে ১.৬২ কোটি টাকা, ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহৎ মেরামত ৬-৭ লক্ষ টাকা করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা, ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে মেরামত ৬ লক্ষ টাকা, ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবণ/অতিরক্ত শ্রেণী কক্ষ নির্মাণ, ১৫ কোটি টাকা, ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত ২ লক্ষ টাকা ৮০ লক্ষ টাকা, ৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহৎ মেরামত ৬-৭ লক্ষ টাকা ৪৫ লক্ষ টাকা, ৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহৎ মেরামত ৬-৭ লক্ষ টাকা করে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা, ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মাণ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা, ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষুদ্র মেরামত ২ লক্ষ টাকা করে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, শাখা খোলা, আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা ও এমপিওভুক্তি করা হয়েছে।
২০১৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, অসহায়, দরিদ্র, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বিশেষ শিশু, মুক্তিযোদ্ধা, মুমুর্ষ ১০০ রোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়। ২০১৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ক্যান্সার, লিভার, কিডনী, স্ট্রোক প্যারালাইজড, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী, বিশেষ শিশুসহ ৭৬৩ রোগীকে প্রায় ৩ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং আরো ২৬৫ টি আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে।
গত ৫ বছরে চা শ্রমিকদের মাঝে সর্বমোট ৯ কোটি ৯৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ পরিষদ ৩৩২ জন ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে, এবং ২০২৩ সালে আরো ১৬৩ জনের আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে। এছাড়াও করোনা মহামারির সময় এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য বিতরণ, প্রতি বছর শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন এবং এলাকার গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়ার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। নিউরোসাইন্স ফাউন্ডেশন বুদ্ধি প্রতিবন্ধি, অটিজম, সেরিব্রাল পালসি রোগী ৩৪৫ জন ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। আরো ১১৭টি আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কুলাউড়া উপজেলায় ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে’র প্রস্তাব প্রেরণসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ৭৫টি ক্লাব ও সামাজিক সংগঠনে মাধ্যমে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ তলা বিশিষ্ট ভাবন নির্মাণের প্রস্তাব ও ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের প্রস্তাব ও কাজ প্রক্রিয়াধীন। মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ বিভাগ থেকে কুলাউড়ায় মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট স্থাপনের প্রস্তাব ও কাজ প্রক্রিয়াধীন। হিন্দু ধর্ম কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদানের জন্য ২৬৮ জনের নাম প্রস্তাব। মন্দির, মঠ, আশ্রম, আখড়া, শ্মশানসহ ২১টি প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের ও পুনঃনির্মানের জন্য এবং আর্থিক অনুদানের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ। এছাড়া উপজেলার সনাতন ধর্মালম্বী অসচ্ছল ৭৭ ব্যাক্তিকে আর্থিক অনুদানের জন্য নাম প্রস্তাব ও কাজ প্রক্রিয়াধীন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ১৬টি মসজিদ পাঠাগার স্থাপনের জন্য বই ও আলমিরা প্রদান।
আইসিটি বিভাগ থেকে উপজেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনউিবেশন সেন্টার নির্মাণে প্রস্তাব প্রেররণ, ২১টি স্কুলে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন, আরও ২৮টি ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ ও কাজ প্রক্রিয়াধীন।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মারে প্রস্তাব প্রেরণ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলায় টেকনিক্যাল সেন্টার (ঞঞঈ) স্থাপনের প্রস্তাব ও কাজ প্রক্রিয়াধীন। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে ঢুলিপাড়া থেকে ফানাই নদী পর্যন্ত খাল খনন বাস্তবায়নাধীন, মরা গুগালিছড়া খাল খননসহ আরও ৬টি নদী ও খাল খননের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব প্রেরণ, দরিদ্র মহিলাদের ৫০টি সেলাই মেশিন বিতরণ, ১৮৮ জন নারীকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ১৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এছাড়াও আরও ১৫০ সেলাই মেশিন বিতরণ ও ২৬৪ জনকে আর্থিক অনুদান প্রদানের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ডায়াবেটিক হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ, বিশেষ শিশুদের জন্য স্কুল নির্মাণের প্রস্তাব ও প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া কুলাউড়া উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনে সহযোগিতা করেন।
মোহাম্মদ আবু জাফর রাজু’র পিতা সাবেক এমপি মরহুম আব্দুল জব্বার ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০২০ সালে মরনোত্তর একুশে পদক প্রদান করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি কুলাউড়া থানার আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দেশ স্বাধীন হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কর্তৃক তিনি রিলিফ কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালে তিনি কুলাউড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর আপন ভাই আসম কামরুল ইসলাম কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে তিনি কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ আবু জাফর রাজু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রটোকল অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি কুলাউড়ায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে কুলাউড়ার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আগামীতে আরো বড় কোন পরিসরে কাজ করার সুযোগ করে দেন তাহলে কুলাউড়ার মানুষের কল্যাণে বড় ধরনের উন্নয়ন কাজ করে যাবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক 



























