5:23 am, Sunday, 7 June 2026

ডিআইএ’র প্রতিবেদন ১১০৮ শিক্ষকের সনদ জাল, প্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত ৮৬৯ একর

 অনলাইন ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ১ হাজার ১০৮ জন শিক্ষকের জাল সনদ শনাক্ত হয়েছে। এই সনদধারী শিক্ষকদের পেছনে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ টাকা। আর অবৈধ নিয়োগ, প্রাপ্যতার অতিরিক্ত গ্রহণ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে আরও ২৬৮ কোটি ৩৫ লাখ ৯১ হাজার ৪৬৯ টাকা। এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত নেয়ার সুপারিশসহ সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত দুই বছরের কম সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি হাতছাড়া হয়েছে ৮৬৯ একরের বেশি। বিগত ১০ বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। জানতে চাইলে ডিআইএ’র যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আমরা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল শনাক্ত করেছি। ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত জমি বেহাত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। অবৈধ নিয়োগের কারণে এবং প্রাপ্যতার অতিরিক্ত নেয়া অর্থ ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।বিপুল চন্দ্র সরকার জানান, গত ১০ বছরে দেশের ২৪ হাজার ৯৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে।  পরিদর্শন প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। গত ২৪ জুন ডিআইএ’র পরিচালক অধ্যাপক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীরের সই করা প্রতিবেদনে জানানা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মোট জাল সনদ শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ১০৮টি। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৮২৪টি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২৮৪টি।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২০১২ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শুধু শিক্ষক নিবন্ধন জাল শনাক্ত হয়েছে ৬১৫টি। নেকটারের কম্পিউটার সনদ জাল শনাক্ত হয়েছে ১৬০টি। অন্যান্য সনদ জাল শনাক্ত হয়েছে ৪৯টি।  সর্বমোট ৮২৪টি।আর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২০১২ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শিক্ষক নিবন্ধন জাল শনাক্ত হয়েছে ১৮৪টি। নেকটারের কম্পিউটার সনদ জাল শনাক্ত হয়েছে ৮৯টি। অন্যান্য সনদ জাল শনাক্ত হয়েছে ১১টি। সর্বমোট ২৮৪টি। এসব জাল সনদের বিপরীতে শিক্ষকদের গ্রহণ করা অর্থ ৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ টাকা। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৩৬ কোটি ১০ লাখ, ৬৮ হাজার ৪৭৪ টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮৬ টাকা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত: ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা) জমি বেহাত হয়েছে মোট ৮৬৯ দশমিক ২১একর। বেহাত হওয়ার জমির মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৫৭৫ দশমিক ৯৮ একর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২৯৩ দশমিক ২৬ একর।
অবৈধ নিয়োগ ও প্রাপ্যতার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ: প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবৈধ নিয়োগ, প্রাপ্যতার অতিরিক্ত গ্রহণ ও অন্যান্য খাতে ২০১২-২০১৩ থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ২৬৮ কোটি ৩৫ লাখ, ৯১ হাজার ৪৬৯ টাকা। এই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য হিসেবে সুপারিশ করা হয়।
Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাহারে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী গ্রেপ্তার

ডিআইএ’র প্রতিবেদন ১১০৮ শিক্ষকের সনদ জাল, প্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত ৮৬৯ একর

Update Time : 11:08:05 am, Friday, 30 September 2022
 অনলাইন ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে ১ হাজার ১০৮ জন শিক্ষকের জাল সনদ শনাক্ত হয়েছে। এই সনদধারী শিক্ষকদের পেছনে সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় হয়েছে ৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ টাকা। আর অবৈধ নিয়োগ, প্রাপ্যতার অতিরিক্ত গ্রহণ ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে আরও ২৬৮ কোটি ৩৫ লাখ ৯১ হাজার ৪৬৯ টাকা। এসব অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত নেয়ার সুপারিশসহ সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত দুই বছরের কম সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি হাতছাড়া হয়েছে ৮৬৯ একরের বেশি। বিগত ১০ বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের তথ্য সংবলিত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। জানতে চাইলে ডিআইএ’র যুগ্ম পরিচালক বিপুল চন্দ্র সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে আমরা শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল শনাক্ত করেছি। ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত জমি বেহাত হওয়ার তথ্য পেয়েছি। অবৈধ নিয়োগের কারণে এবং প্রাপ্যতার অতিরিক্ত নেয়া অর্থ ফেরতের সুপারিশ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।বিপুল চন্দ্র সরকার জানান, গত ১০ বছরে দেশের ২৪ হাজার ৯৭৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়েছে।  পরিদর্শন প্রতিবেদনও পাঠানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। গত ২৪ জুন ডিআইএ’র পরিচালক অধ্যাপক অলিউল্লাহ মো. আজমতগীরের সই করা প্রতিবেদনে জানানা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মোট জাল সনদ শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ১০৮টি। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৮২৪টি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২৮৪টি।মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২০১২ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শুধু শিক্ষক নিবন্ধন জাল শনাক্ত হয়েছে ৬১৫টি। নেকটারের কম্পিউটার সনদ জাল শনাক্ত হয়েছে ১৬০টি। অন্যান্য সনদ জাল শনাক্ত হয়েছে ৪৯টি।  সর্বমোট ৮২৪টি।আর কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২০১২ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত শিক্ষক নিবন্ধন জাল শনাক্ত হয়েছে ১৮৪টি। নেকটারের কম্পিউটার সনদ জাল শনাক্ত হয়েছে ৮৯টি। অন্যান্য সনদ জাল শনাক্ত হয়েছে ১১টি। সর্বমোট ২৮৪টি। এসব জাল সনদের বিপরীতে শিক্ষকদের গ্রহণ করা অর্থ ৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ টাকা। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৩৬ কোটি ১০ লাখ, ৬৮ হাজার ৪৭৪ টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ১৩ কোটি ৭১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮৬ টাকা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জমি বেহাত: ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা) জমি বেহাত হয়েছে মোট ৮৬৯ দশমিক ২১একর। বেহাত হওয়ার জমির মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ৫৭৫ দশমিক ৯৮ একর এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ২৯৩ দশমিক ২৬ একর।
অবৈধ নিয়োগ ও প্রাপ্যতার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ: প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবৈধ নিয়োগ, প্রাপ্যতার অতিরিক্ত গ্রহণ ও অন্যান্য খাতে ২০১২-২০১৩ থেকে ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ২৬৮ কোটি ৩৫ লাখ, ৯১ হাজার ৪৬৯ টাকা। এই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য হিসেবে সুপারিশ করা হয়।