স্টাফ রিপোর্ট :: সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি র্যালির মধ্যে ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, ১ জানুয়ারি ২০১৮, বিকেল ৩টার দিকে, যখন ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট মহানগরের কোর্ট পয়েন্টে র্যালি চলছিল। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং গ্রুপিংয়ের জেরে শিমু ও শফিকুর রহমানের উপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শফিকুর রহমানকে আঘাত করে, আর সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসনাত শিমুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। শিমু ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন, তবে শফিকুর রহমান গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এটি একটি দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার এক চরম উদাহরণ, যেখানে ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণে নিরীহ নেতাদের উপর এমন হামলা চালানো হয়।
আবুল হাসনাত শিমুর হত্যাকাণ্ডের পর ৩ জানুয়ারি ২০১৮, সিলেট মদনমোহন কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী মেরাজ এবং মহানগর ছাত্রদলের নেতা জামাল আহমেদ খান (ওরফে কালা জামাল) বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী, শিমুর মামা তারেক আহমদ লস্কর অভিযোগ করেছেন যে, মেরাজ ও কালা জামাল সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। কিন্ত সরাসরি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সন্ত্রাসী কাজী মেরাজ ও কালা জামালকে অভিযুক্ত থাকলেও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
এর আগে, ২০১৪ সালের ২৭ জুন সিলেটের পাঠানটুলায় জিল্লুল হক জিলু নামক ছাত্রদল নেতাও একই ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নিহত হন। ঐ হত্যাকাণ্ডে কাজী মেরাজ ও জামাল আহমেদ খাঁন (ওরফে কালা জামাল) ছিল মূল আসামী। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর, তারা আবারও শিমুর হত্যাকাণ্ডে জড়িত হয় এবং শফিকুর রহমানের ওপর হামলা চালায়।
জানা যায় এ হামলায় সিলেট মহানগর ছাত্রদলের অন্যতম সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম তাফহীম মাহমুদ গুরুতর জখম হোন। বর্তমানে তিনি মৃত্যুশরণাপন্ন অবস্থায় আছেন।
শফিকুর রহমানকে আহত অবস্থায় দেখতে আসেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মাহবুব চৌধুরী। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং শফিকুর রহমানের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। এছাড়া, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের নেতারা এ ঘটনার পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বিচারের দাবীতে ব্যাক্তিগত রোষানলে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে বলে দাবী করেছেন।
হাসপাতালে দেখতে সিলেট মহানগর ছাত্রদলের স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ভুলন কান্তি তালুকদার বলেন, শফিকুরের উপর এ হামলার আমি তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। পাশাপাশি তার শারীরিক সুস্থতা কামনা করি।
উল্লেখ্য যে, জিলু হত্যাকাণ্ডের বিচারের জন্য শফিকুর রহমান দাবি তুলেছিলেন এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থেকেই কাজী মেরাজ ও কালা জামালের সাথে সরাসরি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। তাই তাকে প্রাণে মেরে ফেলতেই এই হামলা করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















