ডেস্ক রিপোর্ট::দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। আজ শনিবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকায় শান্তি ও গণতন্ত্র সমাবেশ করবে আওয়ামী লীগ। আর ঢাকাসহ মহানগর পর্যায়ে কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি। আজ দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে দলটির কালো পতাকা মিছিল শুরু হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কারবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি, ‘অবৈধ সংসদ’ বাতিল ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করবে দলটি। অন্যদিকে বিকেল ৩টায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আয়োজনে রাজধানীর ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শান্তি ও গণতন্ত্র সমাবেশে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী। এদিকে, আওয়ামী লীগ এবং তাদের কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীতে বড় শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন শেষে দু’দলের এই প্রথম কর্মসূচি ঘিরে সব মহলে সৃষ্টি হয়েছে কৌতূহল। সরকারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকাসহ মহানগরগুলোতে কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি ও তার মিত্ররা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া দামের প্রতিবাদ এবং কারাবন্দি নেতাকর্মীর মুক্তি, সংসদ বাতিল ও সরকারের পদত্যাগ দাবিতে দুপুর ২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কালো পতাকা মিছিল করবে বিএনপি। এই আন্দোলনের মাধ্যমে নেতাকর্মীর মনোবল চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার জেলা পর্যায়ে এবং আজ ঢাকাসহ মহানগর পর্যায়ে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। একই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির সমমনা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট। অন্যদিকে বিকেল ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ব্যানারে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ হবে। রাজধানীতে বড় শোডাউন করার জন্য আওয়ামী লীগ মহানগরের থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে নেতাকর্মীকে সমবেত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীকেও সমাবেশে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। মহানগরীর সরকারদলীয় এমপি ও জনপ্রতিনিধিদেরও সমাবেশে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শান্তি সমাবেশ ছাড়াও বিএনপির কালো পতাকা মিছিলকে ঘিরে যে কোনো ধরনের সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ঠেকাতে মহানগরের সর্বত্র সতর্ক অবস্থানে রাখা হবে নেতাকর্মীকে।
রাজপথের কর্মসূচি ঘিরে বিএনপিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ঢাকায় বড় জমায়েত ঘটাতে কাজ চলছে। কর্মসূচি সফল করতে এরই মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন নেতারা। প্রতিটি ইউনিট নেতাকর্মীকে পৃথকভাবে দেওয়া হয়েছে দিকনির্দেশনা। এই কর্মসূচি পালনে অনুমতি মিলেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, শনিবার দুপুর ২টায় নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে কালো পতাকা মিছিল করার বিষয় জানিয়ে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছিলেন তারা। মৌখিকভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, বিএনপির যে কোনো কর্মসূচিতে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটে। কোনো বাধাবিঘ্ন না থাকলে সাধারণ জনগণও অংশ নেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটবে না। তিনি বলেন, ‘পাতানো’, ‘ডামি’ আর ‘একতরফা’ নির্বাচনের পরও আওয়ামী লীগ আতঙ্কে আছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, আন্দোলন ও নির্বাচন বানচালে ব্যর্থ বিএনপি এবং তার জোট এখনও সহিংসতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এ জন্যই বিএনপি কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি দিয়েছে। তবে কোনো সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়া মাত্রই তা মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকবেন। শান্তি সমাবেশ সফল করতে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সংগঠন কার্যালয়ে বর্ধিত সভা করেছে।
এর আগে সর্বশেষ গত ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মসূচি ছিল। ওই দিন সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনসহ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির মহাসমাবেশের কর্মসূচির বিপরীতে আওয়ামী লীগ বিশাল শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ করেছে। তবে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির ওই মহাসমাবেশ ঘিরে ব্যাপক নাশকতা, সন্ত্রাস ও জ্বালাও-পোড়াও হয়। প্রধান বিচারপতির বাসভবন এবং পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। হামলায় একজন পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন। বিএনপির মহাসামবেশ পণ্ড হয়ে যায়।
এরপর থেকে কয়েক দফা হরতাল-অবরোধের ডাক দিলেও ব্যাপক ধরপাকড়, মামলা ও নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তারের মধ্যে বিএনপি আর মাঠে নামতে পারেনি। বিএনপি ও সমমনাদের বর্জনের মুখে ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ভোটের আগে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে মাসখানেক বিএনপি ও তার মিত্ররা লিফলেট বিতরণ করেছে। নির্বাচনের পর কিছুদিন বিএনপির লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখলেও পাল্টা কর্মসূচি নেয়নি সরকার সমর্থকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 





















