1:09 am, Wednesday, 24 June 2026

পিডিবির ভুতুড়ে বিলে ২ হাজার গ্রাহকের নাভিশ্বাস: সংশোধন করতে গিয়ে উল্টো হয়রানী

বিশেষ প্রতিবেদক : বড়লেখা উপজেলার দরিদ্র এলাকার ২ হাজার পিডিবি (বিদ্যুৎ) গ্রাহক ভৌতিক বিলে অতিষ্ট। অনেকের মে মাসের বিলে উল্লেখিত রিডিং এক মাস পরও মিটারে হাজার/দেড় হাজার ইউনিট কম থাকতে দেখা গেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা না পারছেন অস্বাভাবিক বিল পরিশোধ করতে, না পারছেন সংশোধন করাতে। এ নিয়ে তারা পড়েছেন মহাবিপাকে।

জানা গেছে, পিডিবি’র (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) আওতাধীন বড়লেখার দরিদ্র পীড়িত এলাকা কাশেমনগর, জামকান্দি, গজভাগ, দোহালিয়া, জুতিরবন্দ ও রশিদাবাদে প্রায় ২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। প্রায় প্রতিমাসেই মিটার না দেখে অফিসে বসে ২-৩ বাতি ব্যবহারকারী গ্রাহকদের অনুমান নির্ভর হাজার হাজার টাকার অস্বাভাবিক ভৌতিক বিল দিয়ে হয়রানী করা হলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। বিল সংশোধনে ২০-৩০ কিলোমিটার দূরবর্তী কুলাউড়া বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে প্রতিকার পাওয়াতো দূরের কথা উল্টো গ্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ বিল এখন যেন গ্রাহকের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক সুজিত কুমার দেব’র মে মাসের বিলে ১৮ মে ব্যবহৃত ৬১৪০ ইউনিট দেখিয়ে ২০০ ইউনিটের বিল দেয়া হয়েছে ১১৭৫ টাকা। কিন্তু ১৮ জুন মিটারের রিডিং দেখা গেছে ৪৫৩৮। অর্থাৎ বিল ইস্যুর ১ মাস পরও মিটারে ১৬০২ ইউনিট কম রয়েছে। একই গ্রামের গ্রাহক কালাই মিয়ার (কনজুমার নং-৪৬১৯২৬৭৩) একই তারিখে ১৮৯২ ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে ১০০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয়েছে ৫৪৩.২৫ টাকা। অথচ তার বর্তমান রিডিং ৯৫০। অর্থাৎ ইতিমধ্যে পিডিবি তার নিকট থেকে অতিরিক্ত ৯৪২ ইউনিটের বিল আদায় করেছে। সোহরাব আলীকে (কনজুমার নং-৪৬২৮৮৮০৭) ৩০৭৭ ইউনিট দেখিয়ে ১৫০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয়েছে ৮৪৩.২৫ টাকা। তার বর্তমান রিডিং ২৫৯৭ ইউনিট। বাবুল মিয়ার ৭০০ ইউনিট দেখিয়ে ২০০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয়েছে ১১৭৫.২৫ টাকা। ১৮ জুন মিটারে রিডিং দেখাচ্ছে ৪৯০ ইউনিট। রফিক মিয়ার ৫৭০ ইউনিট দেখিয়ে ১০০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয়েছে ৫৪৩.২৫ টাকা। ১৮ জুনের রিডিং ৫২১ ইউনিট। আব্দুল আলীর ৫০০ ইউনিট দেখিয়ে ৬০ ইউনিট ব্যবহার ধরে বিল দেওয়া হয় ৩২৭.৪০ টাকা। তার মিটারে ১৮ জুন দেখা গেছে মাত্র ১৬০ ইউনিট। গজভাগ গ্রামের শারমিন বেগমকে ১৮ মে ১৫৫০ ইউনিট ধরে ২০০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয় ১১৭৫.২৫ টাকার। ১ মাস পরও উনার মিটার রিডিং ৮৬৬ ইউনিট। দোহালিয়ার গ্রাহক হেলাল মিয়াকে মে মাসে ১০০ ইউনিট ধরে বিল দেওয়া হয় ৫৭৪.২৫ টাকার। বিলে ১৮ মে রিডিং ধরা হয় ১৬৭৮ ইউনিট। ১৮ জুনে মিটারে ৯৮৫ ইউনিট থাকতে দেখা গেছে। গজভাগের জিবান উদ্দিনের মে মাসে ২০০ ইউনিটের ১১৪৩.২৫ টাকার বিল দেওয়া হয়। সর্বশেষ ইউনিট ধরা হয়েছে ২৯৯০। ১৮ জুনে তার মিটারের রিডিং হচ্ছে ২৪৩৫ ইউনিট। এখনও ৫৫৫ ইউনিট কম। অর্থাৎ প্রতিমাসেই গ্রাহকদের ব্যবহারের চেয়ে ৫-১০ গুন বেশি বিল দিচ্ছে পিডিবি। এতে গ্রাহকরা পড়েছেন মহাবিপাকে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, প্রতি মাসে অনুমান নির্ভর মাত্রারিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল দেওয়া হয়। সংশোধন করতে গিয়েও হয়রানীর শিকার হতে হয়। এজন্য অনেকেই বিল পরিশোধ করছেন না। অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মামলার ভয় দেখান। এ নিয়ে তারা চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়।

পিডিবি’র সহকারী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন খান দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ‘র প্রতিবেদককে জানান, অনেক সময় মিটার নষ্ট হওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। তবে গ্রাহকরা বিল নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তা সংশোধন করে দেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে মৃত্যুদাবীর চেক হস্তান্তর করলো সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

পিডিবির ভুতুড়ে বিলে ২ হাজার গ্রাহকের নাভিশ্বাস: সংশোধন করতে গিয়ে উল্টো হয়রানী

Update Time : 01:55:22 pm, Saturday, 3 July 2021

বিশেষ প্রতিবেদক : বড়লেখা উপজেলার দরিদ্র এলাকার ২ হাজার পিডিবি (বিদ্যুৎ) গ্রাহক ভৌতিক বিলে অতিষ্ট। অনেকের মে মাসের বিলে উল্লেখিত রিডিং এক মাস পরও মিটারে হাজার/দেড় হাজার ইউনিট কম থাকতে দেখা গেছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা না পারছেন অস্বাভাবিক বিল পরিশোধ করতে, না পারছেন সংশোধন করাতে। এ নিয়ে তারা পড়েছেন মহাবিপাকে।

জানা গেছে, পিডিবি’র (বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড) আওতাধীন বড়লেখার দরিদ্র পীড়িত এলাকা কাশেমনগর, জামকান্দি, গজভাগ, দোহালিয়া, জুতিরবন্দ ও রশিদাবাদে প্রায় ২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। প্রায় প্রতিমাসেই মিটার না দেখে অফিসে বসে ২-৩ বাতি ব্যবহারকারী গ্রাহকদের অনুমান নির্ভর হাজার হাজার টাকার অস্বাভাবিক ভৌতিক বিল দিয়ে হয়রানী করা হলেও এ যেন দেখার কেউ নেই। বিল সংশোধনে ২০-৩০ কিলোমিটার দূরবর্তী কুলাউড়া বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে প্রতিকার পাওয়াতো দূরের কথা উল্টো গ্রাহকরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। বিদ্যুৎ বিল এখন যেন গ্রাহকের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক সুজিত কুমার দেব’র মে মাসের বিলে ১৮ মে ব্যবহৃত ৬১৪০ ইউনিট দেখিয়ে ২০০ ইউনিটের বিল দেয়া হয়েছে ১১৭৫ টাকা। কিন্তু ১৮ জুন মিটারের রিডিং দেখা গেছে ৪৫৩৮। অর্থাৎ বিল ইস্যুর ১ মাস পরও মিটারে ১৬০২ ইউনিট কম রয়েছে। একই গ্রামের গ্রাহক কালাই মিয়ার (কনজুমার নং-৪৬১৯২৬৭৩) একই তারিখে ১৮৯২ ইউনিট ব্যবহার দেখিয়ে ১০০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয়েছে ৫৪৩.২৫ টাকা। অথচ তার বর্তমান রিডিং ৯৫০। অর্থাৎ ইতিমধ্যে পিডিবি তার নিকট থেকে অতিরিক্ত ৯৪২ ইউনিটের বিল আদায় করেছে। সোহরাব আলীকে (কনজুমার নং-৪৬২৮৮৮০৭) ৩০৭৭ ইউনিট দেখিয়ে ১৫০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয়েছে ৮৪৩.২৫ টাকা। তার বর্তমান রিডিং ২৫৯৭ ইউনিট। বাবুল মিয়ার ৭০০ ইউনিট দেখিয়ে ২০০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয়েছে ১১৭৫.২৫ টাকা। ১৮ জুন মিটারে রিডিং দেখাচ্ছে ৪৯০ ইউনিট। রফিক মিয়ার ৫৭০ ইউনিট দেখিয়ে ১০০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয়েছে ৫৪৩.২৫ টাকা। ১৮ জুনের রিডিং ৫২১ ইউনিট। আব্দুল আলীর ৫০০ ইউনিট দেখিয়ে ৬০ ইউনিট ব্যবহার ধরে বিল দেওয়া হয় ৩২৭.৪০ টাকা। তার মিটারে ১৮ জুন দেখা গেছে মাত্র ১৬০ ইউনিট। গজভাগ গ্রামের শারমিন বেগমকে ১৮ মে ১৫৫০ ইউনিট ধরে ২০০ ইউনিটের বিল দেওয়া হয় ১১৭৫.২৫ টাকার। ১ মাস পরও উনার মিটার রিডিং ৮৬৬ ইউনিট। দোহালিয়ার গ্রাহক হেলাল মিয়াকে মে মাসে ১০০ ইউনিট ধরে বিল দেওয়া হয় ৫৭৪.২৫ টাকার। বিলে ১৮ মে রিডিং ধরা হয় ১৬৭৮ ইউনিট। ১৮ জুনে মিটারে ৯৮৫ ইউনিট থাকতে দেখা গেছে। গজভাগের জিবান উদ্দিনের মে মাসে ২০০ ইউনিটের ১১৪৩.২৫ টাকার বিল দেওয়া হয়। সর্বশেষ ইউনিট ধরা হয়েছে ২৯৯০। ১৮ জুনে তার মিটারের রিডিং হচ্ছে ২৪৩৫ ইউনিট। এখনও ৫৫৫ ইউনিট কম। অর্থাৎ প্রতিমাসেই গ্রাহকদের ব্যবহারের চেয়ে ৫-১০ গুন বেশি বিল দিচ্ছে পিডিবি। এতে গ্রাহকরা পড়েছেন মহাবিপাকে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, প্রতি মাসে অনুমান নির্ভর মাত্রারিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিল দেওয়া হয়। সংশোধন করতে গিয়েও হয়রানীর শিকার হতে হয়। এজন্য অনেকেই বিল পরিশোধ করছেন না। অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মামলার ভয় দেখান। এ নিয়ে তারা চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠায়।

পিডিবি’র সহকারী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন খান দৈনিক মৌমাছি কন্ঠ‘র প্রতিবেদককে জানান, অনেক সময় মিটার নষ্ট হওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। তবে গ্রাহকরা বিল নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তা সংশোধন করে দেওয়া হবে।