9:48 pm, Saturday, 11 July 2026

প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০০ ইলেকট্রিক বাস

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস। এ বাসগুলো কিনতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।

সহজ শর্তে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, একটি সমন্বিত, দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন করিডোর গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিআরটিসির বহরে প্রাথমিক পর্যায়ে ইলেকট্রিক বাস ক্রয়, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রস্তাব পাঠায়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্মতি দিয়েছেন।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে বিআরটিসির জন্য ইলেকট্রিক বাস ক্রয়, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে পরিচালন বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে অনুরোধ জানায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

তবে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিআরটিসিকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ না থাকায় অর্থ বিভাগ এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। পরিবর্তে, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেয়।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে ইলেকট্রিক বাস চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় পরিচালন বাজেট থেকে অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হয়। কিন্তু বিআরটিসি রাষ্ট্রায়ত্ত হলেও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অনুদান বা ইক্যুইটি দেওয়ার সুযোগ না থাকায় অর্থ বিভাগ ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অর্থ বিভাগ প্রণীত স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ লগ্নি ও পুনঃলগ্নির শর্ত অনুযায়ী বিআরটিসিকে এ ঋণ দেওয়া হবে।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশে ইলেকট্রিক যানবাহন এখনো তুলনামূলক নতুন হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে ঋণের সুদের হার ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ত্রৈমাসিক কিস্তিতে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে নিয়মিত ঋণ পরিশোধের শর্তে বাস কেনার আগে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ঋণচুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

অর্থ বিভাগের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে পরিচালন ঋণ খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ওই বরাদ্দ থেকে প্রচলিত সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান এবং সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজন, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য শর্তসাপেক্ষে ৪০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ দেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে বন্যা দূর্গত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ত্রাণ বিতরণ

প্রথমবারের মতো বিআরটিসির বহরে যুক্ত হচ্ছে ১০০ ইলেকট্রিক বাস

Update Time : 08:32:30 am, Saturday, 11 July 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হচ্ছে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস। এ বাসগুলো কিনতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।

সহজ শর্তে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, একটি সমন্বিত, দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন করিডোর গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিআরটিসির বহরে প্রাথমিক পর্যায়ে ইলেকট্রিক বাস ক্রয়, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ প্রস্তাব পাঠায়। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্মতি দিয়েছেন।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে বিআরটিসির জন্য ইলেকট্রিক বাস ক্রয়, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে পরিচালন বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে অনুরোধ জানায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

তবে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বিআরটিসিকে অনুদান দেওয়ার সুযোগ না থাকায় অর্থ বিভাগ এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। পরিবর্তে, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেয়।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে ইলেকট্রিক বাস চালুর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব না হওয়ায় পরিচালন বাজেট থেকে অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হয়। কিন্তু বিআরটিসি রাষ্ট্রায়ত্ত হলেও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় অনুদান বা ইক্যুইটি দেওয়ার সুযোগ না থাকায় অর্থ বিভাগ ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

অর্থ বিভাগ প্রণীত স্থানীয় ও বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ লগ্নি ও পুনঃলগ্নির শর্ত অনুযায়ী বিআরটিসিকে এ ঋণ দেওয়া হবে।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশে ইলেকট্রিক যানবাহন এখনো তুলনামূলক নতুন হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে ঋণের সুদের হার ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ত্রৈমাসিক কিস্তিতে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে নিয়মিত ঋণ পরিশোধের শর্তে বাস কেনার আগে অর্থ বিভাগের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে ঋণচুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

অর্থ বিভাগের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেটে পরিচালন ঋণ খাতে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ওই বরাদ্দ থেকে প্রচলিত সরকারি আর্থিক বিধি-বিধান এবং সরকারি ক্রয় আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজন, চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য শর্তসাপেক্ষে ৪০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ দেওয়া হবে।