7:18 am, Wednesday, 29 April 2026

ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া সেজেছে প্রকৃতি

হাসান আল মাহমুদ রাজু :- গ্রীষ্ম এলেই চোখে পড়ে আগুনরঙা কৃষ্ণচূড়া ফুল, যা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে। এই ফুল শুধু চোখে দেখার জন্য নয়, অনুভূতির গভীর জায়গায় স্পর্শ করার মতো। বৈশাখের আকাশে গনগনে সূর্য। কাঠফাটা রৌদ্দুরে তপ্ত বাতাস। প্রকৃতি যখন প্রখর রৌদ্রে পুড়ছে কৃষ্ণচূড়া ফুল তখন জানান দেয় তার সৌন্দর্যের বার্তা। গ্রীষ্মের এই নিষ্প্রাণ রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরে আপন মহিমায়। যেন লাল রঙে কৃষ্ণচূড়ার পসরা সাজিয়ে বসে আছে প্রকৃতি, যে কারো চোখে এনে দেয় শিল্পের দ্যোতনা।

‘কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে-আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে’কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই মনোমুগ্ধকর গান আমাদের স্মরণ করে দেয় কৃষ্ণচূড়ার তাৎপর্য।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই এই সময়ে বাইরে বের হচ্ছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের জেলার কুলাউড়া উপজেলার সবুজ শ্যামল মুরইছড়া চা বাগানের রাস্তার পাশে সহ গ্রামগঞ্জ, হাওর এলাকায় চোখে পড়ে রক্তমাখা কৃষ্ণচূড়া আর জারুল ফুল। এসব গাছের ফুল বাতাসে দোলার পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। বিকেলের নরম হাওয়ায় লাল পাপড়িগুলো বাতাসে দুলছে। কৃষ্ণচূড়ার অপর নাম গুলমোহর। চা বাগানের রাস্তার পাশে গনগিয়া আলিম মাদ্রাসার গেইটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গুলমোহর গাছ টি যা এখন ফুলে ফুলে সেজেছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। যেখানে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেল বেলায় দেখা যায় এই কৃষ্ণচূড়ার সাথে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকরা এসে সেলফি আড্ডায় সময় কাটিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যেকে উপভোগ করছেন।যা এখন সামাজিক যোগাযোগ সোসালমিডিয়ায় ভাইরাল পরেছে। প্রতিদিন বিকেল বেলায় সেখানে দর্শনার্থীদের ভীড়দেখা যায়।

কালবৈশাখী ঝরে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় কৃষ্ণচূড়া গাছ উপরে পরে যায়। বিশেষ করে রবিরবাজারে হাসপাতালের সম্মুখে কৃষ্ণচূড়ার সাজানো গাছ বৈশাখী ঝরে উপরে পরে এই এলাকার প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়।এই বিভিন্ন যায়গায় ঘূর্ণিঝড়ে ফলে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য কৃষ্ণচূড়া গাছ গুলো হাড়িয়ে যাচ্ছে। আগের ছেয়ে কৃষ্ণচূড়ার গাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে। তবে গ্রীষ্মের এ সময়ে প্রকৃতিতে হরেক রকমের ফুল ফুটলেও মানুষের নজর কাড়ছে কৃষ্ণচূড়া। বিশেষ করে নদী ও হাওর অঞ্চলের ছোট-বড় সড়ক ও পুকুরে পাশে কৃষ্ণচূড়া ফুলের আধিপত্য দেখা যায়। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কৃষ্ণচূড়া ও জারুল গাছ দেখা যায়। এ গাছে লাল ও বেগুনি রঙের ফুল ফোটে। কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। তবে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেও এটি জন্মে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কৃষ্ণচূড়া পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এ ফুল এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ফোটে।

প্রকৃতিপ্রেমীক দর্শনার্থী রিফাত আলী বলেন, ‘বৈশাখে কৃষ্ণচূড়া, জারুল বা সোনালী ফুল ফোটার পাশাপাশি অনেক রকমের ফুল ফোটে। কিছু ফুল আছে নাম না জানা। প্রকৃতিতে এসব ফুল মুগ্ধতা ছড়ায় কিছুদিন। সবাই যদি গাছ না কেটে একটা করে গাছ রোপণ করতেন, তাহলে প্রকৃতি আরও সুন্দর রূপ দেখাতো। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমি এই কৃষ্ণচূড়া ফুলের সাথে সেলফির আনন্দে আনন্দিত হই।

প্রকৃতিপ্রেমী লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম বলেন, সহ¯্র ফুলের সমারোহে সমৃদ্ধ এ বাংলাদেশ। নানান ফুলের রূপবৈচিত্র ও ঘ্রাণে মাতোয়ারা হয় এদেশের মানুষ ও প্রকৃতি। গ্রীষ্মের তাপদাহে কৃষ্ণচূড়ার লাল-কমলা বর্ণ যেন শীতল করে দেয় চারপাশ। এ ফুলের আরেক নাম গুলমোহর। এপ্রিল-মে মাসে যখন প্রকৃতি থাকে রুক্ষ কৃষ্ণচূড়া তখন নিজেকে মেলে দেয় রঙিন ছাতার মতো। ঝরে পড়া পাপড়িতে রাস্তা যখন লাল গালিছা হয়ে যায় মনে হয় প্রকৃতি যেন উৎসব করে। আমাদের দেশের এই অমূল্য সম্পদ আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। বেশি করে কৃষ্ণচূড়ার চাড়া রোপণ করতে হবে। শুধু বিত্ত নয় চিত্তকে যতœ নিতে প্রকৃতিতে অবগাহন করাই লাগে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

ফুটেছে কৃষ্ণচূড়া সেজেছে প্রকৃতি

Update Time : 09:48:51 am, Tuesday, 28 April 2026

হাসান আল মাহমুদ রাজু :- গ্রীষ্ম এলেই চোখে পড়ে আগুনরঙা কৃষ্ণচূড়া ফুল, যা প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও জীবন্ত করে তোলে। এই ফুল শুধু চোখে দেখার জন্য নয়, অনুভূতির গভীর জায়গায় স্পর্শ করার মতো। বৈশাখের আকাশে গনগনে সূর্য। কাঠফাটা রৌদ্দুরে তপ্ত বাতাস। প্রকৃতি যখন প্রখর রৌদ্রে পুড়ছে কৃষ্ণচূড়া ফুল তখন জানান দেয় তার সৌন্দর্যের বার্তা। গ্রীষ্মের এই নিষ্প্রাণ রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরে আপন মহিমায়। যেন লাল রঙে কৃষ্ণচূড়ার পসরা সাজিয়ে বসে আছে প্রকৃতি, যে কারো চোখে এনে দেয় শিল্পের দ্যোতনা।

‘কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে-আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে’কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই মনোমুগ্ধকর গান আমাদের স্মরণ করে দেয় কৃষ্ণচূড়ার তাৎপর্য।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রকৃতির এই অনন্য সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই এই সময়ে বাইরে বের হচ্ছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। মৌলভীবাজারের জেলার কুলাউড়া উপজেলার সবুজ শ্যামল মুরইছড়া চা বাগানের রাস্তার পাশে সহ গ্রামগঞ্জ, হাওর এলাকায় চোখে পড়ে রক্তমাখা কৃষ্ণচূড়া আর জারুল ফুল। এসব গাছের ফুল বাতাসে দোলার পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। বিকেলের নরম হাওয়ায় লাল পাপড়িগুলো বাতাসে দুলছে। কৃষ্ণচূড়ার অপর নাম গুলমোহর। চা বাগানের রাস্তার পাশে গনগিয়া আলিম মাদ্রাসার গেইটের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গুলমোহর গাছ টি যা এখন ফুলে ফুলে সেজেছে প্রকৃতির সৌন্দর্য। যেখানে প্রতিদিন সকাল এবং বিকেল বেলায় দেখা যায় এই কৃষ্ণচূড়ার সাথে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পর্যটকরা এসে সেলফি আড্ডায় সময় কাটিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্যেকে উপভোগ করছেন।যা এখন সামাজিক যোগাযোগ সোসালমিডিয়ায় ভাইরাল পরেছে। প্রতিদিন বিকেল বেলায় সেখানে দর্শনার্থীদের ভীড়দেখা যায়।

কালবৈশাখী ঝরে কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় কৃষ্ণচূড়া গাছ উপরে পরে যায়। বিশেষ করে রবিরবাজারে হাসপাতালের সম্মুখে কৃষ্ণচূড়ার সাজানো গাছ বৈশাখী ঝরে উপরে পরে এই এলাকার প্রকৃতির সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়।এই বিভিন্ন যায়গায় ঘূর্ণিঝড়ে ফলে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য কৃষ্ণচূড়া গাছ গুলো হাড়িয়ে যাচ্ছে। আগের ছেয়ে কৃষ্ণচূড়ার গাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে। তবে গ্রীষ্মের এ সময়ে প্রকৃতিতে হরেক রকমের ফুল ফুটলেও মানুষের নজর কাড়ছে কৃষ্ণচূড়া। বিশেষ করে নদী ও হাওর অঞ্চলের ছোট-বড় সড়ক ও পুকুরে পাশে কৃষ্ণচূড়া ফুলের আধিপত্য দেখা যায়। গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কৃষ্ণচূড়া ও জারুল গাছ দেখা যায়। এ গাছে লাল ও বেগুনি রঙের ফুল ফোটে। কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার। তবে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশেও এটি জন্মে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও কৃষ্ণচূড়া পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এ ফুল এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত ফোটে।

প্রকৃতিপ্রেমীক দর্শনার্থী রিফাত আলী বলেন, ‘বৈশাখে কৃষ্ণচূড়া, জারুল বা সোনালী ফুল ফোটার পাশাপাশি অনেক রকমের ফুল ফোটে। কিছু ফুল আছে নাম না জানা। প্রকৃতিতে এসব ফুল মুগ্ধতা ছড়ায় কিছুদিন। সবাই যদি গাছ না কেটে একটা করে গাছ রোপণ করতেন, তাহলে প্রকৃতি আরও সুন্দর রূপ দেখাতো। প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে আমি এই কৃষ্ণচূড়া ফুলের সাথে সেলফির আনন্দে আনন্দিত হই।

প্রকৃতিপ্রেমী লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম বলেন, সহ¯্র ফুলের সমারোহে সমৃদ্ধ এ বাংলাদেশ। নানান ফুলের রূপবৈচিত্র ও ঘ্রাণে মাতোয়ারা হয় এদেশের মানুষ ও প্রকৃতি। গ্রীষ্মের তাপদাহে কৃষ্ণচূড়ার লাল-কমলা বর্ণ যেন শীতল করে দেয় চারপাশ। এ ফুলের আরেক নাম গুলমোহর। এপ্রিল-মে মাসে যখন প্রকৃতি থাকে রুক্ষ কৃষ্ণচূড়া তখন নিজেকে মেলে দেয় রঙিন ছাতার মতো। ঝরে পড়া পাপড়িতে রাস্তা যখন লাল গালিছা হয়ে যায় মনে হয় প্রকৃতি যেন উৎসব করে। আমাদের দেশের এই অমূল্য সম্পদ আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। বেশি করে কৃষ্ণচূড়ার চাড়া রোপণ করতে হবে। শুধু বিত্ত নয় চিত্তকে যতœ নিতে প্রকৃতিতে অবগাহন করাই লাগে।