8:06 am, Wednesday, 5 August 2026

বড়লেখায় ভিডিএন’র চেয়ারম্যান স্ত্রীসহ গ্রেফতার-একাধিক মামলায় সাজা ও পরোয়ানা

 

বড়লেখা প্রতিনিধি: বড়লেখায় গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে ৬/৭ বছর ধরে লাপাত্তা ভেলেজ ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (ভিডিএন) এর চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ও তার স্ত্রী আছমা বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার ভোরে বড়লেখা পুলিশ সিলেটের মেজরটিলা নুরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করেছে। দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে বড়লেখা থানা পুলিশ।

গ্রেফতার আব্দুল হাকিম মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম হাতলিয়া গ্রামের রুস্তুম আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হাকিম বড়লেখা থানার চেক জালিয়াতিসহ ১২টি মামলার সাজা পরোয়ানাসহ মোট ১৫টি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামী। তার স্ত্রী আছমা বেগমের বিরুদ্ধে দুটি মামলার সাজা পরোয়ানা রয়েছে। আদালতের রায়ের পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মনজুর রহমান পিপিএম রাব এর দিক নির্দেশনায় থানার এএসআই মো.আবু তালেবের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বুধবার ভোরে সিলেট শাহপরান থানার মেজরটিলা নুরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল হাকিম ও তার স্ত্রী আছমা বেগমকে গ্রেফতার করেন।

জানা গেছে, ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (ভিডিএন) নামক বেসরকারি সংস্থা ২০০৩ সাল থেকে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত হিসেবে হাতিয়ে নেয় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। সেই আমানতের মেয়াদপূর্তিতে লভ্যাংশসহ গ্রাহকদের ৫০ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধের কথা। কিন্তু গ্রাহকদের লাভ দেওয়াতো দুরের কথা, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় মুলধনসহ উধাও হয়ে যান প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম, এমডি আয়াজ আলীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকের তৃতীয় পুষ্ঠায় ‘সিলেটে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে ভিডিএন কর্তারা উধাও-১০ সহস্রাধিক গ্রাহকের মাথা হাত’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ ছাপা হলে ভুক্তভোগিরা বিভিন্ন আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান বুধবার সন্ধ্যায় জানান, আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে ১২টি সাজা পরোয়ানাসহ মোট ১৫টি মামলার পরোয়ানা রয়েছে। স্ত্রীর বিরুদ্ধেও সাজা পরোয়ানাসহ ওয়ারেন্ট রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন আত্মগোপন করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে সিলেট শাহপরান এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে দুইজনের মৃত্যু

বড়লেখায় ভিডিএন’র চেয়ারম্যান স্ত্রীসহ গ্রেফতার-একাধিক মামলায় সাজা ও পরোয়ানা

Update Time : 12:37:01 pm, Wednesday, 18 October 2023

 

বড়লেখা প্রতিনিধি: বড়লেখায় গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে ৬/৭ বছর ধরে লাপাত্তা ভেলেজ ডেভলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (ভিডিএন) এর চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম ও তার স্ত্রী আছমা বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গত বুধবার ভোরে বড়লেখা পুলিশ সিলেটের মেজরটিলা নুরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করেছে। দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে বড়লেখা থানা পুলিশ।

গ্রেফতার আব্দুল হাকিম মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউনিয়নের পশ্চিম হাতলিয়া গ্রামের রুস্তুম আলীর ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল হাকিম বড়লেখা থানার চেক জালিয়াতিসহ ১২টি মামলার সাজা পরোয়ানাসহ মোট ১৫টি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামী। তার স্ত্রী আছমা বেগমের বিরুদ্ধে দুটি মামলার সাজা পরোয়ানা রয়েছে। আদালতের রায়ের পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মনজুর রহমান পিপিএম রাব এর দিক নির্দেশনায় থানার এএসআই মো.আবু তালেবের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বুধবার ভোরে সিলেট শাহপরান থানার মেজরটিলা নুরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুল হাকিম ও তার স্ত্রী আছমা বেগমকে গ্রেফতার করেন।

জানা গেছে, ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক (ভিডিএন) নামক বেসরকারি সংস্থা ২০০৩ সাল থেকে বিভিন্ন প্যাকেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত হিসেবে হাতিয়ে নেয় ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা। সেই আমানতের মেয়াদপূর্তিতে লভ্যাংশসহ গ্রাহকদের ৫০ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধের কথা। কিন্তু গ্রাহকদের লাভ দেওয়াতো দুরের কথা, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময় মুলধনসহ উধাও হয়ে যান প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম, এমডি আয়াজ আলীসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকের তৃতীয় পুষ্ঠায় ‘সিলেটে ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে ভিডিএন কর্তারা উধাও-১০ সহস্রাধিক গ্রাহকের মাথা হাত’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ ছাপা হলে ভুক্তভোগিরা বিভিন্ন আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

বড়লেখা থানার ওসি মো. ইয়ারদৌস হাসান বুধবার সন্ধ্যায় জানান, আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে ১২টি সাজা পরোয়ানাসহ মোট ১৫টি মামলার পরোয়ানা রয়েছে। স্ত্রীর বিরুদ্ধেও সাজা পরোয়ানাসহ ওয়ারেন্ট রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন আত্মগোপন করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার ভোরে সিলেট শাহপরান এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।