ডেস্ক রিপোর্ট : মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ছয় মাস আগে প্রকাশিত তিনটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, অভিবাসন নীতি এবং ইরান সংঘাত মোকাবিলায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারফরম্যান্সে জনসমর্থন কমছে, যা ট্রাম্প-সমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রয়টার্স-ইপসোস, স্ট্রেংথ ইন নাম্বারস-ভেরাসাইট এবং এপি-নরক পরিচালিত জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার যথাক্রমে ৩৬ শতাংশ, ৩৫ শতাংশ এবং ৩৩ শতাংশ পাওয়া গেছে, যা তার সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি।
সোমবার প্রকাশিত এপি-নরক সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চের জরিপে দেখা গেছে, ১০ জনে ৭ জন আমেরিকান অর্থনৈতিক দশাকে খারাপ বলছেন এবং মনে করছেন দেশ ভুল পথে যাচ্ছে।
এই জরিপে ট্রাম্পের অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার অনুমোদন ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা মার্চে ছিল ৩৮ শতাংশ।
একইসঙ্গে ৭২ শতাংশ মানুষ মনে করছেন দেশ ভুল পথে যাচ্ছে, যা ফেব্রুয়ারির পর থেকে অপরিবর্তিত। জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে মাত্র ২৩ শতাংশ সন্তুষ্ট, আর ৭৬ শতাংশ অসন্তুষ্ট।
বুধবার প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসোস জরিপে আরও দেখা গেছে, ট্রাম্পের কড়া অভিবাসন নীতি রিপাবলিকানদের ক্ষতির কারণ হতে পারে আসন্ন নির্বাচনে। ৫২ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন, তারা এমন প্রার্থীকে সমর্থন করবেন না, যিনি ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে সমর্থন করেন; বিপরীতে ৪২ শতাংশ বলেছেন, তারা এমন প্রার্থীকে সমর্থন করবেন।
এই ইস্যুতে নির্দলীয় ভোটারদের মধ্যে বিভাজন আরও বেশি। তাদের মধ্যে ৫৭শতাংশ ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরোধী প্রার্থীকে পছন্দ করেন, আর ৩২ শতাংশ সমর্থনকারী প্রার্থীকে পছন্দ করেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির সমর্থন ছিল ৫০ শতাংশ। কিন্তু বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে। বছরের শুরুতে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে মিনিয়াপোলিসে দুইজন নিহত হওয়ার পর প্রশাসন অভিবাসী আটক কার্যক্রম কিছুটা কমিয়ে দেয়।
এনবিসি নিউজের আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অনুমোদন হার দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে ৩৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ৬৩ শতাংশ মানুষ তার পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ বলেছেন তারা ‘দৃঢ়ভাবে’ অসন্তুষ্ট।
তবে ট্রাম্পের নিজস্ব সমর্থকগোষ্ঠীতে কিছুটা ভাঙন দেখা গেলেও রিপাবলিকানদের মধ্যে এখনো তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। এনবিসি জরিপে দেখা গেছে, ৮৩ শতাংশ রিপাবলিকান এখনো তাকে সমর্থন করছেন, যদিও এটি আগের তুলনায় ৪ শতাংশ পয়েন্ট কম। অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় ৫২ শতাংশ রিপাবলিকান তার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট, যা আগে ছিল ৫৮ শতাংশ।
তবুও কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের জন্য চ্যালেঞ্জ বড়। জরিপে দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান মনে করেন দেশ সঠিক পথে আছে, আর দুই-তৃতীয়াংশ মনে করেন দেশ ভুল পথে যাচ্ছে।
অর্থনীতি এখনো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে রয়েছে। ২৯ শতাংশ মানুষ এটিকে তাদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপর রয়েছে গণতন্ত্রের প্রতি হুমকি (২৪ শতাংশ), স্বাস্থ্যসেবা (১২ শতাংশ) এবং আইনশৃঙ্খলা (১০ শতাংশ)।
এদিকে ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ বেশি। ৬৭শতাংশ মানুষ তার এই ইস্যু সামলানোয় অসন্তুষ্ট, আর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সন্তুষ্ট। ডেমোক্র্যাট ও নির্দলীয় ভোটারদের মধ্যে এই অসন্তোষ আরও বেশি—প্রায় সব ডেমোক্র্যাট এবং ৮২শতাংশ নির্দলীয় ভোটার তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, যদিও ৭৪শতাংশ রিপাবলিকান তাকে সমর্থন করেছেন।
সামগ্রিকভাবে ৬১ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।
তবে ভোটারদের পরিচয়পত্র সংক্রান্ত ইস্যুতে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি। তিন-চতুর্থাংশ আমেরিকান সরকার-প্রদত্ত ফটো আইডি সমর্থন করেন এবং ৬১ শতাংশ মনে করেন, এতে নাগরিকত্বের প্রমাণ থাকা উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


























