9:56 am, Wednesday, 12 August 2026

মৌলভীবাজারে জোড়া লাগানো কন্যাশিশুদের জেলা প্রশাসনের আর্থিক অনুদান

ষ্টাফ রিপোর্টার :: মৌলভীবাজারে জোড়া লাগানো যমজ দুই কন্যা শিশুকে আলাদা করতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন মীর নাহিদ আহসান।

নবজাত শিশু দুটির বাবা দরিদ্র পান দোকানদার জুয়েল আহমদের হাতে গতকাল রোববার ৪০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসন, মৌলভীবাজার।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে গত ৫ মে দুই যমজ কন্যা শিশুর জন্ম হয়। দুইবোনের বুক ও পেট একসাথে জোড়া লাগানো। তবে তাদের মাথা, হাত, পা, মুখ ও অন্যান্য অঙ্গ আলাদা। তাদের আলাদা করতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে যমজ শিশুর পিতা জুয়েল আহমদ সোমবার বিকেল ৩টা দিকে মোবাইল ফোনে বলেন, দুই বোন সুস্থ আছে। এখনও অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। ঠিকমতো প্রস্রাব-পায়খানা করছে। প্রথমে একদিন মুখে মায়ের বুকের দুধ দেওয়া হয়েছিলো। তারা সেটা খেয়েছে। এখন স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।

জুয়েল আহমদ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। এখন আমরা সে অপেক্ষায় আছি।

মৌলভীবাজারে শিশু দুটি জন্ম নেওয়া প্রাইভেট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামীম আলম বলেন, ‘আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখতে হবে বাচ্চা দুটির হাড় এবং পাকস্থলী আলাদা কি-না। এগুলো আলাদা হলে অস্ত্রোপচার করে তাদের পৃথক করা সম্ভব। তবে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিলে বাচ্চাদের জন্য ভালো হবে। বড় হলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে কষ্ট হবে।’

তবে এসব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপাচারের পর জোড়া লাগানো শিশুদের সাধারণত বাঁচানোর ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

জোড়া দুইবোনের বাবা জুয়েল আহমদ জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার শমমেরনগর গ্রামের সিঙ্গরাউলি গ্রামে। পেশায় তিনি পান দোকানদার। জুয়েল মিয়া ও তাকলিমা দম্পতির চার বছরের আরেকটি কন্যা শিশু রয়েছে।

তবে জুয়েল আহমদ বলেন, মেয়ে দুটির চিকিৎসার সামর্থ্য তাদের নেই। শমসেরনগর বাজারের ফুটপাতে পান দোকানে চলে তাদের সংসার। দুই মেয়ের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান দরিদ্র জুয়েল আহমদ। সামর্থ্যবানরাও এগিয়ে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জুয়েল।

এদিকে জোড়া শিশুর নানী স্থানীয় চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু দুটি আলাদা করা সম্ভব। তবে তাড়াতাড়ি করতে হবে। কিন্তু চিকিৎসা করার সামর্থ্য তাদের নেই।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

গিয়াস নগর ইউনিয়নে ৫ নং ওয়ার্ত এর জনগন মেম্বার হিসাবে শামীম আহমদ চান।

মৌলভীবাজারে জোড়া লাগানো কন্যাশিশুদের জেলা প্রশাসনের আর্থিক অনুদান

Update Time : 01:52:29 pm, Monday, 17 May 2021

ষ্টাফ রিপোর্টার :: মৌলভীবাজারে জোড়া লাগানো যমজ দুই কন্যা শিশুকে আলাদা করতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে জেলা প্রশাসন মীর নাহিদ আহসান।

নবজাত শিশু দুটির বাবা দরিদ্র পান দোকানদার জুয়েল আহমদের হাতে গতকাল রোববার ৪০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসন, মৌলভীবাজার।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার শহরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালে গত ৫ মে দুই যমজ কন্যা শিশুর জন্ম হয়। দুইবোনের বুক ও পেট একসাথে জোড়া লাগানো। তবে তাদের মাথা, হাত, পা, মুখ ও অন্যান্য অঙ্গ আলাদা। তাদের আলাদা করতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানতে চাইলে যমজ শিশুর পিতা জুয়েল আহমদ সোমবার বিকেল ৩টা দিকে মোবাইল ফোনে বলেন, দুই বোন সুস্থ আছে। এখনও অন্য কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। ঠিকমতো প্রস্রাব-পায়খানা করছে। প্রথমে একদিন মুখে মায়ের বুকের দুধ দেওয়া হয়েছিলো। তারা সেটা খেয়েছে। এখন স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে।

জুয়েল আহমদ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন। এখন আমরা সে অপেক্ষায় আছি।

মৌলভীবাজারে শিশু দুটি জন্ম নেওয়া প্রাইভেট হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শামীম আলম বলেন, ‘আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখতে হবে বাচ্চা দুটির হাড় এবং পাকস্থলী আলাদা কি-না। এগুলো আলাদা হলে অস্ত্রোপচার করে তাদের পৃথক করা সম্ভব। তবে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নিলে বাচ্চাদের জন্য ভালো হবে। বড় হলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে কষ্ট হবে।’

তবে এসব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপাচারের পর জোড়া লাগানো শিশুদের সাধারণত বাঁচানোর ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

জোড়া দুইবোনের বাবা জুয়েল আহমদ জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার শমমেরনগর গ্রামের সিঙ্গরাউলি গ্রামে। পেশায় তিনি পান দোকানদার। জুয়েল মিয়া ও তাকলিমা দম্পতির চার বছরের আরেকটি কন্যা শিশু রয়েছে।

তবে জুয়েল আহমদ বলেন, মেয়ে দুটির চিকিৎসার সামর্থ্য তাদের নেই। শমসেরনগর বাজারের ফুটপাতে পান দোকানে চলে তাদের সংসার। দুই মেয়ের সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান দরিদ্র জুয়েল আহমদ। সামর্থ্যবানরাও এগিয়ে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জুয়েল।

এদিকে জোড়া শিশুর নানী স্থানীয় চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশু দুটি আলাদা করা সম্ভব। তবে তাড়াতাড়ি করতে হবে। কিন্তু চিকিৎসা করার সামর্থ্য তাদের নেই।