10:09 am, Wednesday, 12 August 2026

মৌলভীবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয় করার পরিকল্পনা রয়েছে- ডিআইজি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা-সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ হেড কোয়ার্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে মৌলভীবাজারে একটা ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয় করা। যাতে মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় আগত ট্যুরিস্টরা এখান থেকে সেবা নিতে পারেন। পাশাপাশি কমলগঞ্জেও একটা আলাদা অফিস করার পরিকল্পনা আছে। যাতে সহজে পর্যটকদের কো-অপারেট করতে পারি। বর্তমানে ১৪’শ পুলিশ রয়েছে এ ডিপার্টমেন্টে। প্রতিটি ট্যুরিস্ট এলাকায় স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত তাদের তালিকা করছি। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারী বাড়াচ্ছি। এছাড়া ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনে ট্যুরিস্ট তথ্য ও সেবা’র জন্য একটা বুথ খুব শীঘ্রই চালু করতে যাচ্ছি। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-শ্রীমঙ্গলকে আমাদের অগ্রাধিকার লিস্টে এনে পর্যটকদের জন্য তথ্য সেবা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা আরেকটা জিনিস করতে চাই, সেটা হচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং এর মতো একটা ‘ট্যুরিস্ট সিটিজেন ফোরাম’ নাম দিয়ে খুব শীঘ্রই শুরু করতে যাচ্ছি। এটাতে আপনারাও অংশগ্রহণ করবেন। এতে এই এলাকার সমস্যাগুলো আপনাদের মাধ্যমেই সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। এটাতে সকল স্টেকহোল্ডাররা সম্পৃক্ত থাকলে যেকোনো সমস্যা বসেই সমাধান করা সহজ হবে। এছাড়া কোন অপরাধীরা ট্যুরিস্ট সেজে এসে অপরাধ করছে কিনা সেজন্য তিন মাস পর পর এখানে আগত ট্যুরিস্টদের ডাটা সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়ে ওই নামে কেউ আছেন কি না সেটা যাচাই বাচাই করা হবে। যাতে দেশি কিংবা ভিনদেশি টুরিস্ট সেজে বড় ধরনের কোন নাশকতা বা অপরাধ করতে না পারে। এসব উদ্যোগ আপনাদের এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ২০০৯ সালে ৭৮ জন জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু করে কক্সবাজার থেকে। ওই সময় আমি কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ছিলাম। ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধান করা এবং জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহযোগিতা করা। আমরা পর্যটকদের যেমন উৎসাহিত করছি, পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা শ্রীমঙ্গলের যেমন শ্রী রক্ষা করতে চাই, তার’ই সাথে মঙ্গলও চাই। এই দু’টির সমতা করতে হলে স্থানীয়দের ভূমিকা জরুরী।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পর্যটন শিল্পের বিকাশে স্থানীয় অভিযাত প্যারাগন হোটেল এন্ড রিসোর্টে স্টেকহোল্ডারদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ হেড কোয়ার্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোন এর আয়োজনে সিলেট জোন এর পুলিশ সুপার মোল্লা মোঃ শাহিনের সভাপতিত্বে ও ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ এর ইনচার্জ মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং গীতা পাট পাঠের পর পর্যটকদের নানা সমস্যা এবং পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শমূলক বক্তব্য রাখেন বৈশাখী ট্যুরিজম এর স্বত্বাধিকারী সাংবাদিক মোঃ শফিকুল ইসলাম রুম্মন, কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শফি, ৭১ টিভির মৌলভীবাজার প্রতিনিধি আহমেদ ফারুক মিল্লাদ, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্টের সিকিউরিটি ইনচার্জ জামিল মোহাম্মদ খান, স্মার্ট ট্যুরিজম এর সত্ত্বাধিকারি ও দৈনিক নয়া দিগন্ত প্রতিনিধি এম এ রকিব, আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রধান সম্পাদক আনিসুল ইসলাম আশরাফী, ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড তাপস দাশ, খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ও লাউয়াছড়া খাসিয়া ফিলা প্রতমী, মাগুরছড়া পুঞ্জি’র মান্ত্রী জিডিশন প্রধান সুছিয়াং, বালিশিরা রিসোর্ট এর সত্ত্বাধিকারি মোঃ শহিদুল হক, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহবায়ক এম এ ওয়াহিদ রুলু, বন বিভাগের এসিএফ জামিল মোহাম্মদ খাঁন, রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদ এর সদস্য সচিব মোঃ তারেকুর রহমান পাপ্পু, আদিবাসী নেত্রী মিতু রায়, সিএমসি’র কোষাধ্যক্ষ জনক দেব বর্মা, মাধবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, তরুণ ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম বাপ্পি প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড রিজভী আহমেদ, পংকজ ভট্টাচার্য্য, টি হ্যাভেন হোটেল এন্ড রিসোর্ট এর মহাব্যবস্থাপক টিটু সহ স্থানীয় স্টেকহোল্ডার ও তাদের প্রতিনিধি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্টরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন হোটেল রিসোর্টের মালিক, ট্যুর অপারেটর, গাইড সহ পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট জোন এর পুলিশ সুপার মোল্লা মোঃ শাহিনের বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।

 

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

গিয়াস নগর ইউনিয়নে ৫ নং ওয়ার্ত এর জনগন মেম্বার হিসাবে শামীম আহমদ চান।

মৌলভীবাজারে ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয় করার পরিকল্পনা রয়েছে- ডিআইজি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন

Update Time : 11:35:03 am, Friday, 13 December 2024

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা-সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ হেড কোয়ার্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের পরিকল্পনা আছে মৌলভীবাজারে একটা ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপারের কার্যালয় করা। যাতে মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জ জেলায় আগত ট্যুরিস্টরা এখান থেকে সেবা নিতে পারেন। পাশাপাশি কমলগঞ্জেও একটা আলাদা অফিস করার পরিকল্পনা আছে। যাতে সহজে পর্যটকদের কো-অপারেট করতে পারি। বর্তমানে ১৪’শ পুলিশ রয়েছে এ ডিপার্টমেন্টে। প্রতিটি ট্যুরিস্ট এলাকায় স্থানীয় থানা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে আমরা কাজ করছি। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট এলাকায় বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত তাদের তালিকা করছি। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারী বাড়াচ্ছি। এছাড়া ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশনে ট্যুরিস্ট তথ্য ও সেবা’র জন্য একটা বুথ খুব শীঘ্রই চালু করতে যাচ্ছি। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-শ্রীমঙ্গলকে আমাদের অগ্রাধিকার লিস্টে এনে পর্যটকদের জন্য তথ্য সেবা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, আমরা আরেকটা জিনিস করতে চাই, সেটা হচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং এর মতো একটা ‘ট্যুরিস্ট সিটিজেন ফোরাম’ নাম দিয়ে খুব শীঘ্রই শুরু করতে যাচ্ছি। এটাতে আপনারাও অংশগ্রহণ করবেন। এতে এই এলাকার সমস্যাগুলো আপনাদের মাধ্যমেই সমাধান করার চেষ্টা করা হবে। এটাতে সকল স্টেকহোল্ডাররা সম্পৃক্ত থাকলে যেকোনো সমস্যা বসেই সমাধান করা সহজ হবে। এছাড়া কোন অপরাধীরা ট্যুরিস্ট সেজে এসে অপরাধ করছে কিনা সেজন্য তিন মাস পর পর এখানে আগত ট্যুরিস্টদের ডাটা সংগ্রহ করা হবে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়ে ওই নামে কেউ আছেন কি না সেটা যাচাই বাচাই করা হবে। যাতে দেশি কিংবা ভিনদেশি টুরিস্ট সেজে বড় ধরনের কোন নাশকতা বা অপরাধ করতে না পারে। এসব উদ্যোগ আপনাদের এবং পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থেই নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ২০০৯ সালে ৭৮ জন জনবল নিয়ে যাত্রা শুরু করে কক্সবাজার থেকে। ওই সময় আমি কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ছিলাম। ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধান করা এবং জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহযোগিতা করা। আমরা পর্যটকদের যেমন উৎসাহিত করছি, পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা শ্রীমঙ্গলের যেমন শ্রী রক্ষা করতে চাই, তার’ই সাথে মঙ্গলও চাই। এই দু’টির সমতা করতে হলে স্থানীয়দের ভূমিকা জরুরী।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পর্যটন শিল্পের বিকাশে স্থানীয় অভিযাত প্যারাগন হোটেল এন্ড রিসোর্টে স্টেকহোল্ডারদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যুরিস্ট পুলিশ হেড কোয়ার্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোন এর আয়োজনে সিলেট জোন এর পুলিশ সুপার মোল্লা মোঃ শাহিনের সভাপতিত্বে ও ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ এর ইনচার্জ মোঃ কামরুল হাসান চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং গীতা পাট পাঠের পর পর্যটকদের নানা সমস্যা এবং পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শমূলক বক্তব্য রাখেন বৈশাখী ট্যুরিজম এর স্বত্বাধিকারী সাংবাদিক মোঃ শফিকুল ইসলাম রুম্মন, কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া শফি, ৭১ টিভির মৌলভীবাজার প্রতিনিধি আহমেদ ফারুক মিল্লাদ, গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্টের সিকিউরিটি ইনচার্জ জামিল মোহাম্মদ খান, স্মার্ট ট্যুরিজম এর সত্ত্বাধিকারি ও দৈনিক নয়া দিগন্ত প্রতিনিধি এম এ রকিব, আমার সিলেট টুয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রধান সম্পাদক আনিসুল ইসলাম আশরাফী, ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড তাপস দাশ, খাসি সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি ও লাউয়াছড়া খাসিয়া ফিলা প্রতমী, মাগুরছড়া পুঞ্জি’র মান্ত্রী জিডিশন প্রধান সুছিয়াং, বালিশিরা রিসোর্ট এর সত্ত্বাধিকারি মোঃ শহিদুল হক, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহবায়ক এম এ ওয়াহিদ রুলু, বন বিভাগের এসিএফ জামিল মোহাম্মদ খাঁন, রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদ এর সদস্য সচিব মোঃ তারেকুর রহমান পাপ্পু, আদিবাসী নেত্রী মিতু রায়, সিএমসি’র কোষাধ্যক্ষ জনক দেব বর্মা, মাধবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু, তরুণ ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম বাপ্পি প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড রিজভী আহমেদ, পংকজ ভট্টাচার্য্য, টি হ্যাভেন হোটেল এন্ড রিসোর্ট এর মহাব্যবস্থাপক টিটু সহ স্থানীয় স্টেকহোল্ডার ও তাদের প্রতিনিধি এবং পর্যটন সংশ্লিষ্টরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন হোটেল রিসোর্টের মালিক, ট্যুর অপারেটর, গাইড সহ পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িতরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেট জোন এর পুলিশ সুপার মোল্লা মোঃ শাহিনের বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।