10:06 am, Tuesday, 19 May 2026

মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ পরিবহন দ্বন্দ্ব চরমে: সড়ক অবরোধ: অবৈধভাবে রুট পরিচালনায় সরকারের রাজস্ব ফাঁকি শত কোটি টাকা


স্টাফ রিপোটার: মৌলভীবাজার-সিলেট এসএমএস ও হবিগঞ্জ-সিলেট বাস মালিক-শ্রমিকদের দ্বন্ধে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার রূপ নিয়েছে মহাসড়ক অবরোধে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ‘এসএমএস’ বাস মালিক সমিতির সাথে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের বিরোধের জেরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস আড়াআড়ি করে রেখে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়েছে।


আজ শনিবার পূর্বঘোষিত এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
জানা গেছে, হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল হয়ে সিলেটগামী বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসগুলোর স্টপেজ এবং চলাচল নিয়ে গত প্রায় এক বছর ধরে দুই জেলার পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। গত পাঁচ দিনে এই ঝামেলা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।


হবিগঞ্জ পক্ষের অভিযোগ: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ‘এসএমএস’ বাস মালিক সমিতি ও স্থানীয় শ্রমিকেরা হবিগঞ্জের বিরতিহীন বাসগুলোকে মৌলভীবাজারে নির্ধারিত স্টপেজ দিতে দিচ্ছে না। প্রায়শই বাস আটকে রাখা, চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের হয়রানি এবং মারধরের ঘটনা ঘটছে। এর আগে একদিনের ধর্মঘট পালন করলেও প্রশাসন বা মৌলভীবাজারের মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ: হবিগঞ্জের পরিবহন চালক ও স্টাফদের দাবি, প্রশাসনের আশ্বাসের পরও শ্রীমঙ্গলের মালিক সমিতি তাদের নির্বিঘ্নে গাড়ি চালাতে দিচ্ছে না। পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তারা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। একটি স্থায়ী ও সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা এই ব্যারিকেড তুলবেন না।
শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কাজের জন্য নির্মিত দুটি করিডোরেই হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসগুলো আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইওভারের নিচের ঢাকামুখী ও সিলেটমুখী—উভয় পথই এখন অবরুদ্ধ থাকায় যাত্রী সাধারনের জন্য হুমকি হয়েে দাড়িয়েছে।


মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ায় দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে কিছু কিছু পরিবহন বিকল্প রুট ব্যবহার করছে:
ঢাকামুখী বা অন্য অঞ্চল থেকে আসা বাসগুলো নসরতপুর গেইট হয়ে মিরপুর দিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে। সিলেট থেকে আসা বাসগুলো মিরপুর পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করে হবিগঞ্জ শহর (ধুলিয়াকাল পয়েন্ট) হয়ে নসরতপুর দিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে।
তবে এই বিকল্প রুটের কারণেও সাধারণ যাত্রী এবং বিশেষ করে প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়তি সময় রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে। মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে এসেছেন সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সাথে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুই পক্ষের বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল হওয়ায়, এখনো চূড়ান্ত কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। প্রশাসন উভয় পক্ষের সাথে সমন্বয় করে বিষয়টির একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে- প্রশাসনের নাকের ডগায় ১০বছর অবৈধ রাজত্ব: ‘হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস’ সিন্ডিকেটের থমকে যাওয়ার মতো অনিয়ম দীর্ঘদিনের। তবুও ব্যবস্থা নিচ্ছেনা দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তবে রহস্য একটাই মোটা অংকের বানিজ্য।
হবিগঞ্জ হতে সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রোডে চলাচলকারী “হবিগঞ্জ সিলেট এক্সপ্রেস” সার্ভিসের বাসগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রুট পরিচালনার যে অভিযোগ ছিল, তা এবার দালিলিক প্রমাণসহ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি উদ্ধারকৃত বিআরটিএ (BRTA) ও পরিবহন নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, এই রুটে চলাচলকারী সিংহভাগ বাসেরই কোনো বৈধ রুট পারমিট নেই। শুধু তাই নয়, চরম ফিটনেস সংকট ও ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েই বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় হাজার হাজার যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সগৌরবে চলছিল এই পরিবহন সিন্ডিকেট।
প্রাপ্ত নথির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই রুটে চলাচলকারী ৩২টি বাসের একটি বিরাট অংশের মৌলভীবাজার হয়ে চলাচলের কোনো আইনি বৈধতা নেই। অনেক গাড়ির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কিছু গাড়ির রুট পারমিট থাকলেও তা সম্পূর্ণ ভিন্ন রুটের (যেমন: সায়েদাবাদ-সোনাপুর, টাঙ্গাইল-মাঝদিহী, সায়েদাবাদ-হবিগঞ্জ, গাবতলী-পটুয়াখালী ইত্যাদি)। অর্থাৎ, দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার রুট থেকে বাতিল কিংবা অন্যত্র চলাচলের অনুমোদনপ্রাপ্ত লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি এনে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে “হবিগঞ্জ – সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার” রুটে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কুলাউড়ায় অটোরিক্সার ধাক্কায় প্রাণ গেল বিদ্যুৎকর্মীর

মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ পরিবহন দ্বন্দ্ব চরমে: সড়ক অবরোধ: অবৈধভাবে রুট পরিচালনায় সরকারের রাজস্ব ফাঁকি শত কোটি টাকা

Update Time : 12:48:22 pm, Saturday, 16 May 2026


স্টাফ রিপোটার: মৌলভীবাজার-সিলেট এসএমএস ও হবিগঞ্জ-সিলেট বাস মালিক-শ্রমিকদের দ্বন্ধে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবার রূপ নিয়েছে মহাসড়ক অবরোধে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ‘এসএমএস’ বাস মালিক সমিতির সাথে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের বিরোধের জেরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় যাত্রীবাহী বাস আড়াআড়ি করে রেখে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়েছে।


আজ শনিবার পূর্বঘোষিত এই অবরোধ কর্মসূচির কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
জানা গেছে, হবিগঞ্জ থেকে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল হয়ে সিলেটগামী বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসগুলোর স্টপেজ এবং চলাচল নিয়ে গত প্রায় এক বছর ধরে দুই জেলার পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। গত পাঁচ দিনে এই ঝামেলা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।


হবিগঞ্জ পক্ষের অভিযোগ: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ‘এসএমএস’ বাস মালিক সমিতি ও স্থানীয় শ্রমিকেরা হবিগঞ্জের বিরতিহীন বাসগুলোকে মৌলভীবাজারে নির্ধারিত স্টপেজ দিতে দিচ্ছে না। প্রায়শই বাস আটকে রাখা, চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের হয়রানি এবং মারধরের ঘটনা ঘটছে। এর আগে একদিনের ধর্মঘট পালন করলেও প্রশাসন বা মৌলভীবাজারের মালিক সমিতির পক্ষ থেকে কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ: হবিগঞ্জের পরিবহন চালক ও স্টাফদের দাবি, প্রশাসনের আশ্বাসের পরও শ্রীমঙ্গলের মালিক সমিতি তাদের নির্বিঘ্নে গাড়ি চালাতে দিচ্ছে না। পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তারা মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন। একটি স্থায়ী ও সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা এই ব্যারিকেড তুলবেন না।
শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কাজের জন্য নির্মিত দুটি করিডোরেই হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসগুলো আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে রাস্তা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফ্লাইওভারের নিচের ঢাকামুখী ও সিলেটমুখী—উভয় পথই এখন অবরুদ্ধ থাকায় যাত্রী সাধারনের জন্য হুমকি হয়েে দাড়িয়েছে।


মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ায় দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে কিছু কিছু পরিবহন বিকল্প রুট ব্যবহার করছে:
ঢাকামুখী বা অন্য অঞ্চল থেকে আসা বাসগুলো নসরতপুর গেইট হয়ে মিরপুর দিয়ে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছে। সিলেট থেকে আসা বাসগুলো মিরপুর পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করে হবিগঞ্জ শহর (ধুলিয়াকাল পয়েন্ট) হয়ে নসরতপুর দিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছে।
তবে এই বিকল্প রুটের কারণেও সাধারণ যাত্রী এবং বিশেষ করে প্রাইভেটকার ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়তি সময় রাস্তায় কাটাতে হচ্ছে। মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে এসেছেন সেনাবাহিনী, জেলা পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দের সাথে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুই পক্ষের বিরোধের মূল কেন্দ্রবিন্দু মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল হওয়ায়, এখনো চূড়ান্ত কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। প্রশাসন উভয় পক্ষের সাথে সমন্বয় করে বিষয়টির একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে- প্রশাসনের নাকের ডগায় ১০বছর অবৈধ রাজত্ব: ‘হবিগঞ্জ-সিলেট এক্সপ্রেস’ সিন্ডিকেটের থমকে যাওয়ার মতো অনিয়ম দীর্ঘদিনের। তবুও ব্যবস্থা নিচ্ছেনা দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তবে রহস্য একটাই মোটা অংকের বানিজ্য।
হবিগঞ্জ হতে সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রোডে চলাচলকারী “হবিগঞ্জ সিলেট এক্সপ্রেস” সার্ভিসের বাসগুলোর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে রুট পরিচালনার যে অভিযোগ ছিল, তা এবার দালিলিক প্রমাণসহ সত্য প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি উদ্ধারকৃত বিআরটিএ (BRTA) ও পরিবহন নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, এই রুটে চলাচলকারী সিংহভাগ বাসেরই কোনো বৈধ রুট পারমিট নেই। শুধু তাই নয়, চরম ফিটনেস সংকট ও ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েই বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় হাজার হাজার যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সগৌরবে চলছিল এই পরিবহন সিন্ডিকেট।
প্রাপ্ত নথির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই রুটে চলাচলকারী ৩২টি বাসের একটি বিরাট অংশের মৌলভীবাজার হয়ে চলাচলের কোনো আইনি বৈধতা নেই। অনেক গাড়ির ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়ে গেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কিছু গাড়ির রুট পারমিট থাকলেও তা সম্পূর্ণ ভিন্ন রুটের (যেমন: সায়েদাবাদ-সোনাপুর, টাঙ্গাইল-মাঝদিহী, সায়েদাবাদ-হবিগঞ্জ, গাবতলী-পটুয়াখালী ইত্যাদি)। অর্থাৎ, দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার রুট থেকে বাতিল কিংবা অন্যত্র চলাচলের অনুমোদনপ্রাপ্ত লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি এনে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে “হবিগঞ্জ – সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার” রুটে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।