1:08 am, Wednesday, 29 July 2026

রাজনগরে তিন মাসে কৃষকদের শতাদিক গরু চুরি: আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজনগরে গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তিন মাসে শতাদিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। গরু চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক ও গরু পালনকারীরা রয়েছেন চরম আতংকে। গরু চোরের উপদ্রবে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন গ্রামের কৃষকরা। শেষ পুঁজিটুকু হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন কেউ কেউ। থানা পুলিশে অভিযোগ করেও গরু ফিরে পাননি গরু মালিকরা। বিধায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তারা। সুরিখাল গ্রামে গরু চোরের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন। নিজ উদ্যোগে পাহারা দিতে স্থানীয় কিছু মানুষ বৈঠকও করেছেন।
উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুরিখাল গ্রাম থেকে গত ১৫ দিনে ৮টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরআগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই গ্রামের বাবুল মিয়ার ৩টি গরু গোয়াল ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায় চোরেরা। তবে ভোরে তার একটি ফিরে এলেও দুটি গাভী অনেক খোঁজাখুজি করে আর পাওয়া যায় নি। একই রাতে ওই গ্রামের লেবু মিয়ার গোয়াল ঘরের তালা কেটে চোরেরা একটি গাভী ও একটি ষাড় নিয়ে যায়। এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও করেন। কিন্তু গরুর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার সদর ইউনিয়নের নন্দীউড়া গ্রামের মো. আল আমিনের পাঁচটি গরু চুরি হয়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় এই গরু চোরদের শনাক্ত করে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪টি গরু উদ্ধার করে গরুর মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চুরি যাওয়া গরুর মালিকরা জানান, গত শনিবার রাতে সুরিখাল গ্রামের রহমানের গোয়ালঘরের তালা ভেঙ্গে ২টি গাভী, একটি ষাড় ও একটি বাছুর নিয়ে যায়। নিজের শেষ পুঁজিটুকু হারিয়ে এখন তিনি গরুর সন্ধানে পথে পথে ঘুরছেন।
বাবুল মিয়া বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আমার দুটি ও আমার চাচাতো ভাইয়ের দুটি গরু চুরি হয়। কিন্তু খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। আমার চাচাতো ভাই থানায় অভিযোগ করেছিলেন। গরু মালিক আবদার মিয়া বলেন, শনিবার রাতে আমার ৪টি গরু চুরি হয়েছে। এখন যে যেখানে বলছে সেখানেই গরুর খোঁজে দৌড়াচ্ছি। থানায় অভিযোগ করেছি। তারাও বলছেন বিষয়টি দেখছেন।
গত ১৯ জানুয়ারী দত্তগ্রামের মান্নান মিয়া ও তার বড় ভাই মনাফ মিয়ার ৬টি, একই গ্রামের কয়েস মিয়া, আব্দুল মুমিনের ছোট বড় ৫টি গরু গভীর রাতে ঘরের দরজা ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পূর্বে ওই গ্রামের মখলিছ খানের ৯টি ও একই ইউনিয়নের পারশিপাড়া গ্রামের কুতুবুর রহমানের ৫টি গরু একই কায়দায় চুরি হয়। তেলিজুড়ি গ্রামের কবির মিয়া জানান ১৫ দিন পূর্বে তার গ্রাম থেকে ৬টি গরু চুরি হয়েছে। উত্তরভাগ উনিয়নের সুপ্রাকান্দি গ্রামের আজাদুর রহমানের ৪টি, মতিউর রহমানের ২টি এবং আরও এক ব্যক্তির দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। দক্ষিণভাগ গ্রামের লস্কর বাড়ি থেকে একরাতে ১২টি গরু চুরি হয়েছে।
২৩ জানয়ারী মনসুরনগর ইউনিয়নের মহলাল গ্রামের ফরমান ও রব্বান মিয়ার ৫টি,দক্ষিণ মহলালের মছলন মিয়ার ৩টি, হলদিরগুল, কালাইরগুল গ্রামের দেলু মিয়া,মুজিব মিয়া, সোলেমান মিয়ার ৫টি, ছমির মিয়ার ৩টি,বড়ধল গ্রামের গোপাল দেবের ১টিসহ রাজনগর উপজেলার ৮টি ইইনয়নে অন্তত শতাদিক গরু চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী গরু মালিকরা জানান, চোরেরা তার সেমিপাকা গোয়াল ঘরের তালা ভেঙে একের পর এক নিয়ে যাচ্ছে কিন্তুু উদ্ধার হচ্ছেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা গরু মালিকরা জানান, রাতে রাস্তায় পুলিশ টহল দেয়। এরপরও চোরেরা কীভাবে গরু নিয়ে যায়? তারা জানান, চুরির পর থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দায় সারে। চুরি হওয়া গরু উদ্ধার কিংবা প্রকৃত চোরদের ধরতে পারে না। মাজে মধ্যে ২/১টি চুরির ঘটনায় চুর অটক হলেও গরু চুরির মুল হোতারা আটক হচ্ছেনা। যার কারণে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। পুলিশ সক্রিয়ভাবে স্থানীয় ইপি চেয়ারম্যান/মেম্বার ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে জোড়ালো ভুমিকা নিয়ে কাজ করলে এই গরু চোর সিন্ডিকেট চক্রকে আটক করা সম্বব হবে। নতুবা গরু চোর চক্রের হাতে মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে।

রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিনয় ভুষন এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, পুলিশ চুরি হওয়া ও গরু উদ্ধারের পাশাপাশি চোরদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া ৪টি স্থানে চেক পোষ্ট বসানো হয়েছে। সবকটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা হয়েছে। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন গরু চোর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও কয়েকটি গরুও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে এবং জনগনের জান মালের নিরাপত্তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে।।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কমলগঞ্জে যৌথ অভিযানে সেগুন কাঠ জব্দ

রাজনগরে তিন মাসে কৃষকদের শতাদিক গরু চুরি: আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা

Update Time : 01:55:59 pm, Sunday, 5 March 2023

বিশেষ প্রতিবেদক: রাজনগরে গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে তিন মাসে শতাদিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। গরু চুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষক ও গরু পালনকারীরা রয়েছেন চরম আতংকে। গরু চোরের উপদ্রবে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন গ্রামের কৃষকরা। শেষ পুঁজিটুকু হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন কেউ কেউ। থানা পুলিশে অভিযোগ করেও গরু ফিরে পাননি গরু মালিকরা। বিধায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তারা। সুরিখাল গ্রামে গরু চোরের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন। নিজ উদ্যোগে পাহারা দিতে স্থানীয় কিছু মানুষ বৈঠকও করেছেন।
উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুরিখাল গ্রাম থেকে গত ১৫ দিনে ৮টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। এরআগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ওই গ্রামের বাবুল মিয়ার ৩টি গরু গোয়াল ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায় চোরেরা। তবে ভোরে তার একটি ফিরে এলেও দুটি গাভী অনেক খোঁজাখুজি করে আর পাওয়া যায় নি। একই রাতে ওই গ্রামের লেবু মিয়ার গোয়াল ঘরের তালা কেটে চোরেরা একটি গাভী ও একটি ষাড় নিয়ে যায়। এঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও করেন। কিন্তু গরুর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে গত ১১ ফেব্রুয়ারি উপজেলার সদর ইউনিয়নের নন্দীউড়া গ্রামের মো. আল আমিনের পাঁচটি গরু চুরি হয়। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় এই গরু চোরদের শনাক্ত করে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে ৪টি গরু উদ্ধার করে গরুর মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চুরি যাওয়া গরুর মালিকরা জানান, গত শনিবার রাতে সুরিখাল গ্রামের রহমানের গোয়ালঘরের তালা ভেঙ্গে ২টি গাভী, একটি ষাড় ও একটি বাছুর নিয়ে যায়। নিজের শেষ পুঁজিটুকু হারিয়ে এখন তিনি গরুর সন্ধানে পথে পথে ঘুরছেন।
বাবুল মিয়া বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি আমার দুটি ও আমার চাচাতো ভাইয়ের দুটি গরু চুরি হয়। কিন্তু খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। আমার চাচাতো ভাই থানায় অভিযোগ করেছিলেন। গরু মালিক আবদার মিয়া বলেন, শনিবার রাতে আমার ৪টি গরু চুরি হয়েছে। এখন যে যেখানে বলছে সেখানেই গরুর খোঁজে দৌড়াচ্ছি। থানায় অভিযোগ করেছি। তারাও বলছেন বিষয়টি দেখছেন।
গত ১৯ জানুয়ারী দত্তগ্রামের মান্নান মিয়া ও তার বড় ভাই মনাফ মিয়ার ৬টি, একই গ্রামের কয়েস মিয়া, আব্দুল মুমিনের ছোট বড় ৫টি গরু গভীর রাতে ঘরের দরজা ভেঙে নিয়ে যায়। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পূর্বে ওই গ্রামের মখলিছ খানের ৯টি ও একই ইউনিয়নের পারশিপাড়া গ্রামের কুতুবুর রহমানের ৫টি গরু একই কায়দায় চুরি হয়। তেলিজুড়ি গ্রামের কবির মিয়া জানান ১৫ দিন পূর্বে তার গ্রাম থেকে ৬টি গরু চুরি হয়েছে। উত্তরভাগ উনিয়নের সুপ্রাকান্দি গ্রামের আজাদুর রহমানের ৪টি, মতিউর রহমানের ২টি এবং আরও এক ব্যক্তির দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। দক্ষিণভাগ গ্রামের লস্কর বাড়ি থেকে একরাতে ১২টি গরু চুরি হয়েছে।
২৩ জানয়ারী মনসুরনগর ইউনিয়নের মহলাল গ্রামের ফরমান ও রব্বান মিয়ার ৫টি,দক্ষিণ মহলালের মছলন মিয়ার ৩টি, হলদিরগুল, কালাইরগুল গ্রামের দেলু মিয়া,মুজিব মিয়া, সোলেমান মিয়ার ৫টি, ছমির মিয়ার ৩টি,বড়ধল গ্রামের গোপাল দেবের ১টিসহ রাজনগর উপজেলার ৮টি ইইনয়নে অন্তত শতাদিক গরু চুরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী গরু মালিকরা জানান, চোরেরা তার সেমিপাকা গোয়াল ঘরের তালা ভেঙে একের পর এক নিয়ে যাচ্ছে কিন্তুু উদ্ধার হচ্ছেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা গরু মালিকরা জানান, রাতে রাস্তায় পুলিশ টহল দেয়। এরপরও চোরেরা কীভাবে গরু নিয়ে যায়? তারা জানান, চুরির পর থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দায় সারে। চুরি হওয়া গরু উদ্ধার কিংবা প্রকৃত চোরদের ধরতে পারে না। মাজে মধ্যে ২/১টি চুরির ঘটনায় চুর অটক হলেও গরু চুরির মুল হোতারা আটক হচ্ছেনা। যার কারণে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। পুলিশ সক্রিয়ভাবে স্থানীয় ইপি চেয়ারম্যান/মেম্বার ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে জোড়ালো ভুমিকা নিয়ে কাজ করলে এই গরু চোর সিন্ডিকেট চক্রকে আটক করা সম্বব হবে। নতুবা গরু চোর চক্রের হাতে মারাত্বক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতে।

রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিনয় ভুষন এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, পুলিশ চুরি হওয়া ও গরু উদ্ধারের পাশাপাশি চোরদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাছাড়া ৪টি স্থানে চেক পোষ্ট বসানো হয়েছে। সবকটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা হয়েছে। ইতিপূর্বে বেশ কয়েকজন গরু চোর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও কয়েকটি গরুও উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে এবং জনগনের জান মালের নিরাপত্তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে।।