7:38 am, Monday, 24 August 2026

রাজনগরে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর প্রকোপ

রাজনগর প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের রাজনগরে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। তীব্র গরমের প্রভাব ও দূষিত পানির কারণে এ পরিস্থিতি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্করা রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। তবে অনেক রোগী গ্রাম্য চিকিৎসকদের থেকে বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, গত এক মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৭০ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫২ জন। এদের মধ্যে শুধু গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া গড়ে প্রতিদিন হাসপাতালের বহিঃবিভাগে ১৫-২০ জন ডায়রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধ, ওরাল ও আইভি স্যালাইন রয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান।

হাসপাতালের হিসাবে এসব তথ্য থাকলেও বাস্তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। উপজেলার উত্তর নন্দীউড়া গ্রামের চিকিৎসক চিন্ময় চন্দ বলেন, আমি আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা করি। এখন প্রতিদিন ৪-৫ জন ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে আসেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে অবস্থা খারাপ থাকলে তাদেরকে সরকারী হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেই।

গরমের সময় রোগজীবাণুর প্রকোপ বাড়ে। এছাড়া রমজান মাসে বাইরের খাবারের মাধ্যমে জীবাণুটি ছড়ায়। তাই এ সময়ে বাইরের খাবার, বাসি খাবার ও দূষিত পানি পান করা থেকে বিরত থাকা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট হলে পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে প্রাথমিক চিকিৎসায়ও সুস্থ না হলে দ্রত হাসপাতালের দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলেছেন তারা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সৈয়দনগর গ্রামের সাহিদা বেগম (২২) জানান, ৫-৬ দিন ধরে তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পরেও সুস্থ না হওয়ায় তিনি ৩ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আফজালুর রহমান বলেন, ডায়রিয়া রোগীদের সেবা দিতে আমাদের সবধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা জরুরী। আমার স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টরা মানুষকে এসব ব্যবপারে সচেতন করছেন। হাসপাতালের রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসক-নার্সসহ সাবাই কাজ করছেন।

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

উত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এমপি শওকতুল ইসলামকে সংবর্ধনা

রাজনগরে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর প্রকোপ

Update Time : 09:27:22 am, Friday, 22 April 2022

রাজনগর প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের রাজনগরে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। তীব্র গরমের প্রভাব ও দূষিত পানির কারণে এ পরিস্থিতি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্করা রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১৫-২০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। তবে অনেক রোগী গ্রাম্য চিকিৎসকদের থেকে বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, গত এক মাসে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৭০ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫২ জন। এদের মধ্যে শুধু গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৫ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৬ জন। এছাড়া গড়ে প্রতিদিন হাসপাতালের বহিঃবিভাগে ১৫-২০ জন ডায়রিয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধ, ওরাল ও আইভি স্যালাইন রয়েছে বলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান।

হাসপাতালের হিসাবে এসব তথ্য থাকলেও বাস্তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রাম্য চিকিৎসকদের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেকে। উপজেলার উত্তর নন্দীউড়া গ্রামের চিকিৎসক চিন্ময় চন্দ বলেন, আমি আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা করি। এখন প্রতিদিন ৪-৫ জন ডায়রিয়ার সমস্যা নিয়ে আসেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে অবস্থা খারাপ থাকলে তাদেরকে সরকারী হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেই।

গরমের সময় রোগজীবাণুর প্রকোপ বাড়ে। এছাড়া রমজান মাসে বাইরের খাবারের মাধ্যমে জীবাণুটি ছড়ায়। তাই এ সময়ে বাইরের খাবার, বাসি খাবার ও দূষিত পানি পান করা থেকে বিরত থাকা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট হলে পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে প্রাথমিক চিকিৎসায়ও সুস্থ না হলে দ্রত হাসপাতালের দ্বারস্থ হওয়ার কথা বলেছেন তারা।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সৈয়দনগর গ্রামের সাহিদা বেগম (২২) জানান, ৫-৬ দিন ধরে তিনি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। প্রথমে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পরেও সুস্থ না হওয়ায় তিনি ৩ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আফজালুর রহমান বলেন, ডায়রিয়া রোগীদের সেবা দিতে আমাদের সবধরণের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা জরুরী। আমার স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টরা মানুষকে এসব ব্যবপারে সচেতন করছেন। হাসপাতালের রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসক-নার্সসহ সাবাই কাজ করছেন।