6:44 pm, Wednesday, 6 May 2026

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার আসামিকে গ্রেফতার

ডেস্ক রিপোর্ট :: উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় প্রায় দুই ডজন বাংলাদেশি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের তদন্তে বর্বরোচিত ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে নিশ্চিত করেছে লিবীয় অপরাধ তদন্ত বিভাগ। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দেশটির সংবাদমাধ্যম লিবিয়া অবজারভারের প্রতিবেদনে তথ্যটি জানানো হয়।

বিবৃতির মাধ্যমে লিবিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগ বলছে, তাদের নিরাপত্তা দল ত্রিপলির দক্ষিণাঞ্চল থেকে গুরুতর সব অপরাধ করা অন্যতম বিপজ্জনক পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এতে সহযোগিতা করেছে আজিজিয়া অপরাধ তদন্ত ইউনিট।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্রের জোরে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও একটি বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া, কর্মীদের ভয় দেখানো ও ক্ষতি করাসহ অন্তত নয়টি অভিযোগ রয়েছে।

২০২০ সালের মে মাসে আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় দেশ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা। নিহত বাকি চারজন আফ্রিকান নাগরিক। সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের মিজদা শহরের এ ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হন। অবশ্য লিবিয়া অবজারভারের খবরে ২২ বাংলাদেশি প্রাণ হারানোর কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয় মিডিয়াগুলো বলছে, মানবপাচারকারী চক্রটি বাংলাদেশিসহ ওই অভিবাসীদের মিজদা শহরের একটি জায়গায় টাকার জন্য জিম্মি করে রেখেছিল। এ নিয়ে এক পর্যায়ে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে মারামারি হয় অভিবাসীদের। এতে এক মানবপাচারকারী মারা যায়। তার প্রতিশোধ নিতে সেই পাচারকারীর পরিবারের লোকজন অভিবাসীদের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুয়াম্মার গাদ্দাফির সময় থেকে তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশ লিবিয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর অন্যতম বড় শ্রমবাজার। আরব বসন্তের জেরে গাদ্দাফির পতনের পর গৃহযুদ্ধ বেঁধে গেলে লিবিয়ার শ্রমবাজারও ধাক্কা খায়। এক পর্যায়ে দেশটি হয়ে ওঠে ইউরোপে পাড়ি দেয়ার প্রধানতম রুট।

উল্লেখ্য, লিবিয়ার জাতীয় সরকার পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন পেলেও সেখানে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ক্ষমতার সংঘাতে দেশটিতে প্রায়ই বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

সীমান্তে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যার আসামিকে গ্রেফতার

Update Time : 09:45:54 am, Friday, 21 January 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় প্রায় দুই ডজন বাংলাদেশি অভিবাসীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে সন্দেহভাজন এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের তদন্তে বর্বরোচিত ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে নিশ্চিত করেছে লিবীয় অপরাধ তদন্ত বিভাগ। বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দেশটির সংবাদমাধ্যম লিবিয়া অবজারভারের প্রতিবেদনে তথ্যটি জানানো হয়।

বিবৃতির মাধ্যমে লিবিয়ার অপরাধ তদন্ত বিভাগ বলছে, তাদের নিরাপত্তা দল ত্রিপলির দক্ষিণাঞ্চল থেকে গুরুতর সব অপরাধ করা অন্যতম বিপজ্জনক পলাতক এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। এতে সহযোগিতা করেছে আজিজিয়া অপরাধ তদন্ত ইউনিট।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্রের জোরে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও একটি বেসরকারি ব্যাংক বন্ধ করে দেওয়া, কর্মীদের ভয় দেখানো ও ক্ষতি করাসহ অন্তত নয়টি অভিযোগ রয়েছে।

২০২০ সালের মে মাসে আফ্রিকার উত্তরাঞ্চলীয় দেশ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসী শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা। নিহত বাকি চারজন আফ্রিকান নাগরিক। সাহারা মরুভূমি অঞ্চলের মিজদা শহরের এ ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হন। অবশ্য লিবিয়া অবজারভারের খবরে ২২ বাংলাদেশি প্রাণ হারানোর কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয় মিডিয়াগুলো বলছে, মানবপাচারকারী চক্রটি বাংলাদেশিসহ ওই অভিবাসীদের মিজদা শহরের একটি জায়গায় টাকার জন্য জিম্মি করে রেখেছিল। এ নিয়ে এক পর্যায়ে চক্রের সদস্যদের সঙ্গে মারামারি হয় অভিবাসীদের। এতে এক মানবপাচারকারী মারা যায়। তার প্রতিশোধ নিতে সেই পাচারকারীর পরিবারের লোকজন অভিবাসীদের দিকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটে।

বিশ্লেষকদের মতে, মুয়াম্মার গাদ্দাফির সময় থেকে তেলনির্ভর অর্থনীতির দেশ লিবিয়া উন্নয়নশীল দেশগুলোর অন্যতম বড় শ্রমবাজার। আরব বসন্তের জেরে গাদ্দাফির পতনের পর গৃহযুদ্ধ বেঁধে গেলে লিবিয়ার শ্রমবাজারও ধাক্কা খায়। এক পর্যায়ে দেশটি হয়ে ওঠে ইউরোপে পাড়ি দেয়ার প্রধানতম রুট।

উল্লেখ্য, লিবিয়ার জাতীয় সরকার পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন পেলেও সেখানে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ক্ষমতার সংঘাতে দেশটিতে প্রায়ই বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।