4:08 pm, Wednesday, 13 May 2026

সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর টেনশন বাড়াচ্ছে ‘টেনশন গ্রুপ’

ডেস্ক রিপোর্ট :: টেনশন গ্রুপ। নাম শুনলে অনেকে মনে করতে পারেন গ্রুপটির কাজ টেনশন বা চিন্তা করা। কিন্তু এটি একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ। রাইসুল ইসলাম সীমান্ত নামে একজনের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জে দলটি গড়ে ওঠে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকের ছেলে সীমান্ত।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা সীমান্ত। কিন্তু ছেলের এ সকল অপকর্মের কারণে সীমান্তের বাবা শফি ঢাকায় চলে যান পরিবার নিয়ে। তারপরেও মেলেনি কোনো পরিবর্তন। সন্ধ্যা হলে সীমান্ত চলে আসতেন সিদ্ধিরগঞ্জে। সকল অপকর্ম করে বেশির ভাগ সময় ভোর হলে চলে যেতেন ঢাকায়।

সম্প্রতি ৬ আগস্ট রাতে র‍্যাব ১১ এর একটি বিশেষ অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে টেনশন গ্রুপের প্রধান সীমান্তসহ ওই গ্রুপের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করার সাত দিন না যেতেই আবারও আলোচনায় আসে টেনশন গ্রুপ।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ভিডিওগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, টেনশন গ্রুপের প্রধান রাইসুল ইসলাম সীমান্ত পিস্তল ও গুলি নিয়ে গানের সঙ্গে নাচানাচি করছে। কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, সীমান্তসহ তার অপর সদস্যরা পিস্তল চালাচ্ছেন (অভিনয়)।

আরেকটি ভিডিও’য় দেখা গেছে, টেনশন গ্রুপের সদস্যরা এক যুবককে নির্যাতন করছে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগেই অবশ্য আটক হয় টেনশন গ্রুপের প্রধান সীমান্তসহ সাতজন। শনিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে তাদের আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১১)।

রোববার (৭ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। পরে সীমান্তসহ তার বাকি সদস্যদের গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার সময় সীমান্তদের কাছ থেকে দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি ছোরা, লোহা ও স্টিলের পাইপ জব্দ করে। তবে কোনো পিস্তল পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, আসামিরা এখনও কারাগারে রয়েছে। তারা জামিন পায়নি। কিন্তু যেসব ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে টেনশন গ্রুপের অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তা না হলে সীমান্তরা জামিনে বের হয়ে এসে এসব অস্ত্র নিয়ে জনমনে ভীতি সম্প্রসারিত করতে পারে। এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিও হতে পারে তাদের দ্বারা।

টেনশন গ্রুপ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। এ সপ্তাহেই তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে হাতে এসেছে জানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, আমরা খুব শিগগির অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করবাে।

র‍্যাব-১১’র অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, কিশোর গ্যাং দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান পরিচালনা করে কিশোর গ্যাংয়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হবে।

 

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর টেনশন বাড়াচ্ছে ‘টেনশন গ্রুপ’

Update Time : 10:44:51 am, Saturday, 13 August 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: টেনশন গ্রুপ। নাম শুনলে অনেকে মনে করতে পারেন গ্রুপটির কাজ টেনশন বা চিন্তা করা। কিন্তু এটি একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ। রাইসুল ইসলাম সীমান্ত নামে একজনের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জে দলটি গড়ে ওঠে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরের স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা শফিকুল ইসলাম শফিকের ছেলে সীমান্ত।

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় স্থায়ী বাসিন্দা সীমান্ত। কিন্তু ছেলের এ সকল অপকর্মের কারণে সীমান্তের বাবা শফি ঢাকায় চলে যান পরিবার নিয়ে। তারপরেও মেলেনি কোনো পরিবর্তন। সন্ধ্যা হলে সীমান্ত চলে আসতেন সিদ্ধিরগঞ্জে। সকল অপকর্ম করে বেশির ভাগ সময় ভোর হলে চলে যেতেন ঢাকায়।

সম্প্রতি ৬ আগস্ট রাতে র‍্যাব ১১ এর একটি বিশেষ অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে টেনশন গ্রুপের প্রধান সীমান্তসহ ওই গ্রুপের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করার সাত দিন না যেতেই আবারও আলোচনায় আসে টেনশন গ্রুপ।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ভিডিওগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, টেনশন গ্রুপের প্রধান রাইসুল ইসলাম সীমান্ত পিস্তল ও গুলি নিয়ে গানের সঙ্গে নাচানাচি করছে। কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, সীমান্তসহ তার অপর সদস্যরা পিস্তল চালাচ্ছেন (অভিনয়)।

আরেকটি ভিডিও’য় দেখা গেছে, টেনশন গ্রুপের সদস্যরা এক যুবককে নির্যাতন করছে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগেই অবশ্য আটক হয় টেনশন গ্রুপের প্রধান সীমান্তসহ সাতজন। শনিবার (৬ আগস্ট) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে তাদের আটক করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১১)।

রোববার (৭ আগস্ট) সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। পরে সীমান্তসহ তার বাকি সদস্যদের গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার সময় সীমান্তদের কাছ থেকে দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, দুটি ছোরা, লোহা ও স্টিলের পাইপ জব্দ করে। তবে কোনো পিস্তল পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, আসামিরা এখনও কারাগারে রয়েছে। তারা জামিন পায়নি। কিন্তু যেসব ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে টেনশন গ্রুপের অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তা না হলে সীমান্তরা জামিনে বের হয়ে এসে এসব অস্ত্র নিয়ে জনমনে ভীতি সম্প্রসারিত করতে পারে। এলাকায় ত্রাস সৃষ্টিও হতে পারে তাদের দ্বারা।

টেনশন গ্রুপ সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোখলেসুর রহমান। তিনি জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে। এ সপ্তাহেই তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে।

শনিবার (১৩ আগস্ট) ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে হাতে এসেছে জানিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, আমরা খুব শিগগির অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করবাে।

র‍্যাব-১১’র অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা জানান, কিশোর গ্যাং দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান পরিচালনা করে কিশোর গ্যাংয়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হবে।