স্টাফ রিপোর্টার :: মৌলভীবাজারের রাজনগরে রাতের আঁধারে লিলি বেগম (৪৫) নামের এক মহিলার গলা কেটেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাত দুইটায় উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের সুরিখাল গ্রামে লোমহর্ষক এই ঘটনাটি ঘটে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গলায় ১৬৫টি সেলাই নিয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন হতভাগ্য এই মহিলা। তিনি পার্শ্ববর্তী সুনামপুর গ্রামের আশাব আলীর স্ত্রী। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি সুরিখাল গ্রামে বসবাস করছেন।
গৃহবধূর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের লোকজন বেড়াতে যাওয়ায় রাত প্রায় দুইটায় তাকে ঘরে একা পেয়ে টিনের দরজা জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকেন দুই তিন ব্যক্তি। সাথে সাথে বিদ্যুতের মেইন সুইচ বন্ধ করে লিলির হাত ও পায়ে ধরে আটকে রাখেন দুইজন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ‘ ‘আমাকে মেরো না, ‘আমাকে মেরো না’ বলে চিৎকার করলে একজন দাঁড়ালো দা দিয়ে জবাই করার উদ্দেশ্যে গলা কাটতে থাকে। গলা কেটে রক্ত ভেসে মহিলা মারা গেছেন এমনটা নিশ্চিত হয়ে ঘাতকরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে তার গলা কাটা আর্তনাদ শুনে দ্রুত সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
লিলি পুত্র আইনুদ্দিন মঙ্গলবার বেলা সাড়ে দশটায় বলেন, মা হাসপাতালে কাতরাতে কাতরাতে আমাকে বলেছেন, ‘গলা কাটতে যারা এসেছিল তাদের কন্ঠ শুনে চিনেছি। সুনামপুর গ্রামের আাকামত ও রিপন এসে আমার গলা কেটেছে। এখন তিনি হাসপাতালে আইসিইউ-তে অজ্ঞান হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।
আইনুদ্দিন আরও জানান, সুনামপুর গ্রামের আকামত ও রিপনের ছেলেকে আমার ভাই খলিল কাতারে পাঠিয়েছিলেন। বিদেশ পাঠানোর টাকা চাওয়ায় তারা আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং গালাগালি করে। পরে তারা আমাদের দেখে নেবে বলে হুঁশিয়ারি করে। তিনি বলেন, রিপন ও রিপনের স্ত্রী, তার ভাই আকামত ও মুতলিবকে আসামী করে রাজনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুক মিয়া বলেন, খবর শুনে আমি হাসপাতালে উনাকে দেখতে গিয়েছি। জিজ্ঞেস করেছিলাম কারা ঘটনাটি ঘটাতে পারে। তারা আমায় জানিয়েছে, মা মুমূর্ষ অবস্থায় এখন কিছু বলতে পারছেন না। উনি সুস্থ হলে তাদের নাম বলবেন।
এদিকে রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ উদ্দিন ভূঁইয়া মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় জানান, মহিলার গলা কাটার ঘটনায় গত রাতে ৪-৫ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা আসামিদের বাড়িতে গিয়েছিলাম, তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক 


























