ডেস্ক রিপোর্ট::সিলেটে এসেছেন শেখ হাসিনা। যোগ দিয়েছেন নির্বাচনী জনসভায়। মঞ্চে আসাদ-শফিক। আছেন জাকির-নাসিরসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ সব নেতাই। কিন্তু নেই কামরান!বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগে কেন্দ্রীয় সদস্য। যিনি ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিলেটের সব জনসভায়ই পাশে বসতেন। কিন্তু এবার তিনি নেই! ২০২০ সালের ১৫ জুন ভোরে ভয়াল করোনা কেড়ে নেয় তাঁর প্রাণ ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর। এ দিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিলেটে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন শেখ হাসিনা।নসভায় সেদিন গান গেয়ে নেতাকর্মীদের নজর কেড়েছিলেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সিলেটের ঢানা ইবারের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান।
বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের বিখ্যাত গান, ‘কোন মেস্তরী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খি নায়’ গানের অনুকরণে কামরান গেয়ে ওঠেন, ‘কোন মেস্তরী নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে বঙ্গবন্ধুর নৌকায়, ঝিলমিল ঝিলমিল করেরে শেখ হাসিনার নাও’।দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জনসভায় যোগ দিতে সিলেটে এসেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সিলেটে পৌঁছেই হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি। পরে তিনি সিলেট সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকাল তিনটার দিকে সিলেট আলিয়া মাদরসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় মঞ্চে উঠেন।
এসময় মঙ্গে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সহসভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, জেলার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খানসহ সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দবে দেখা গেছে।
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৬০১ এর একটি ফ্লাইটে বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
২০১৮ সালের পর আজ আবার সিলেটের কোনো জনসভায় বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জড়ো হয়েছেন বিভাগের চার জেলার ১৯টি সংসদীয় আসনের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সভাপতির দিক-নির্দেশনা শোনার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্বাচনী সফরের সম্পূর্ণ খরচ বহন করছে তার দল।
এক নজরে কামরান:
বদরউদ্দিন আহমেদ কামরান ১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় ১৯৭৩ সালে তিনি প্রথমবার সিলেট পৌরসভার ওয়ার্ড কমিশনার নির্বাচিত হন। ১৯৯৫ সালে হন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর মেয়র মনোনীত হন।
২০০৩ সালে সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে জিতে মেয়র পদ ধরে রাখেন তিনি। ২০০৭- ০৮ সালে সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আরো অনেক রাজনীতিবিদের মতো কামরানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা কামরান কারাগারে থেকে নির্বাচন করেও বিপুল ভোটে জয়ী হন। ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে হেরে গিয়ে মেয়র পদ হারান কামরান। এরপর ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি লড়েছিলেন, কিন্তু জয়ী হতে পারেননি।
১৯৮৯ সাল থেকে সিলেট শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হন কামরান। সেই দায়িত্ব তিনি সামলেছেন প্রায় দেড় যুগ। ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ পাওয়া কামরান মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত একই পদে ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক 






















