3:10 am, Saturday, 22 August 2026

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন, খুলল দক্ষিণের দুয়ার

ডেস্ক রিপোর্ট :: বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। উন্মোচিত হলো যোগাযোগের নতুন দিগন্ত। এ যেন বাঙালির স্বপ্ন ও সাহসের জয়। সেই সঙ্গে খুলে গেলো আরও শত সহস্র স্বপ্নের দুয়ার।

দেশের বৃহত্তম যোগাযোগ অবকাঠামো স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো স্বপ্নের সেতুর স্বপ্নযাত্রা, খুলল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের দুয়ার।

আজ শনিবার বেলা ১২টায় প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাঙালির গর্ব ও অহঙ্কারের প্রতীক, বহু কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনসহ সবাই বলছেন, নিজেদের টাকায় তৈরি পদ্মা সেতু দেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। অবসান হবে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের ভোগান্তি। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। অবহেলিত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গড়ে উঠবে শিল্প-কারখানা। ঘুচবে বেকারত্বের অভিশাপ।

শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে টোলপ্লাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। সেখানে টোল দিয়ে মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচন করে মোনাজাতে অংশ নেন। এর মাধ্যমেই খুলে যায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের সড়ক পথের দ্বার।

এর আগে সেতুর উদ্বোধন করতে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারে করে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পৌঁছান। সেখানে বেলা পৌনে ১১টায় সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন।

ভাষণ শেষে সেতুর উদ্বোধন চত্বরের দিকে যাত্রা করেন। এ সময় টোল প্লাজায় তিনি তার গাড়ির টোল পরিশোধ করেন। পরে সেতুর উদ্বোধন মঞ্চে পৌঁছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করেন। দোয়া শেষে সেতুর উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন।

ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মঞ্চে আসেন তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। আরও আসেন পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগে বাধ্য হওয়া সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও মোশাররফ হোসেন ভূঁইঞা।

উদ্বোধনের পর শেখ হাসিনা সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্লোগান দেন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। সমাবেশস্থলে আসা নেতাকর্মীরা এ সময় সমস্বরে সেই স্লোগানে কণ্ঠ মেলান।

এরপর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদকে নিয়ে ফলক মঞ্চে ছবি তুলেন প্রধানমন্ত্রী।

২০০১ সালের ৪ জুলাই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এ সেতুর ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে।

পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।

 

 

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে সেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে  র্বণাঢ্য র‌্যালী ও সমবাবেশ এবং বৃক্ষরেপান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন, খুলল দক্ষিণের দুয়ার

Update Time : 07:24:46 am, Saturday, 25 June 2022

ডেস্ক রিপোর্ট :: বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। উন্মোচিত হলো যোগাযোগের নতুন দিগন্ত। এ যেন বাঙালির স্বপ্ন ও সাহসের জয়। সেই সঙ্গে খুলে গেলো আরও শত সহস্র স্বপ্নের দুয়ার।

দেশের বৃহত্তম যোগাযোগ অবকাঠামো স্বপ্নের এই পদ্মা সেতু উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো স্বপ্নের সেতুর স্বপ্নযাত্রা, খুলল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের দুয়ার।

আজ শনিবার বেলা ১২টায় প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাঙালির গর্ব ও অহঙ্কারের প্রতীক, বহু কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনসহ সবাই বলছেন, নিজেদের টাকায় তৈরি পদ্মা সেতু দেশের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। অবসান হবে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের ভোগান্তি। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। অবহেলিত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে গড়ে উঠবে শিল্প-কারখানা। ঘুচবে বেকারত্বের অভিশাপ।

শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে টোলপ্লাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। সেখানে টোল দিয়ে মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-১ উন্মোচন করে মোনাজাতে অংশ নেন। এর মাধ্যমেই খুলে যায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের সড়ক পথের দ্বার।

এর আগে সেতুর উদ্বোধন করতে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারে করে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পৌঁছান। সেখানে বেলা পৌনে ১১টায় সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন।

ভাষণ শেষে সেতুর উদ্বোধন চত্বরের দিকে যাত্রা করেন। এ সময় টোল প্লাজায় তিনি তার গাড়ির টোল পরিশোধ করেন। পরে সেতুর উদ্বোধন মঞ্চে পৌঁছে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করেন। দোয়া শেষে সেতুর উদ্বোধন ফলক উন্মোচন করেন।

ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মঞ্চে আসেন তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। আরও আসেন পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর পদত্যাগে বাধ্য হওয়া সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও মোশাররফ হোসেন ভূঁইঞা।

উদ্বোধনের পর শেখ হাসিনা সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে স্লোগান দেন ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। সমাবেশস্থলে আসা নেতাকর্মীরা এ সময় সমস্বরে সেই স্লোগানে কণ্ঠ মেলান।

এরপর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদকে নিয়ে ফলক মঞ্চে ছবি তুলেন প্রধানমন্ত্রী।

২০০১ সালের ৪ জুলাই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের নভেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়। দুই স্তরবিশিষ্ট স্টিল ও কংক্রিট নির্মিত ট্রাসের এ সেতুর ওপরের স্তরে চার লেনের সড়ক পথ এবং নিচের স্তরে একটি একক রেলপথ রয়েছে।

পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীর অববাহিকায় ৪২টি পিলার ও ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যানের মাধ্যমে মূল অবকাঠামো তৈরি করা হয়। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬.১৫০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ১৮.১০ মিটার।