4:21 pm, Wednesday, 13 May 2026

সড়ক দূর্ঘটনায় ঈদের কাপড় পরা হলো না আকলিমা-মোজাহিদের

এম এ রকিব : ঈদের কাপড় পরা হলো না আকলিমা বেগম (৩০) ও তার দুই বছরের শিশু বাচ্ছা মোজাহিদের। মা ছেলে গ্রাম থেকে শহরে এসে ঈদের কেনাকাটা করে সিএনজি যোগে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আকলিমা-মোজাহিদসহ আহতদেরকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে ভর্তি করিয়ে অন্যদের পাঠিয়ে দেন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশু মোজাহিদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রেফার্ড করা হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে। সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় রবিবার সন্ধ্যায় শিশু মুজাহিদের মৃত্যু হয়। এর কিছুক্ষন পরই মৌলভীবাজারের সদর হাসপাতালে শিশুটির মা আকলিমা বেগম মারা যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইসচার্জ আব্দুছ ছালেক বলেন, ‘আকলিমা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশ্রিদ্রোন ইউনিয়নের ভূজপুর গ্রামের হোসেন মিয়ার স্ত্রী। নিহত আকলিমা তার শিশু বাচ্ছাকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে রবিবার শহরে আসে। কেনাকাটা শেষে বেলা দুইটার দিকে সিএনজি যোগে বাড়ি ফেরার পথে শহরতলীর শাহজী বাজার এলাকায় বিপরীত দিকে থেকে আসা তেলবাহী ট্যাংক লরির সংঘর্ষে সিএনজির ৫যাত্রী আহত হয়। এর মধ্যে আকলিমা ও মোজাহিদ মারা যান।’

এছাড়া উদনারপারের নুরুজ মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪০), সাতগাঁও এলাকার আব্দুর রহমানের পুত্র আব্দুল হাই(২৭) গুরুতর আহত হন। আর জিলাদপুর গ্রামের ইছাক মিয়ার পুত্র মো. কামাল মিয়া (৪০)কে শ্রীমঙ্গলেই চিকিৎসা দেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, তেলবাহী ট্যাংক লরী ময়মনসিংহ-ঢ-১১-০০১৩ ও সিএনজি অটোরিক্সা মৌলভীবাজার-থ-১২-৭২৩১ দূর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুইটি তাদের আওতায় নিয়ে এসেছেন। তেলবাহী ট্যাংক লরীর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ময়না তদন্তের পর লাশ দু’টি পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে।

সোমবার বিকাল পনে তিনটার দিকে ওই এলাকার ওয়ার্ড সদস্য মো. লিটন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে তাদের ভুজপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছে। এসময় বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারনা ঘটে। তাদের পারিবারিক অবস্থা বেশ ভাল না বলে যোগ করেন ইউপি সদস্য।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

সড়ক দূর্ঘটনায় ঈদের কাপড় পরা হলো না আকলিমা-মোজাহিদের

Update Time : 09:51:13 am, Monday, 19 July 2021

এম এ রকিব : ঈদের কাপড় পরা হলো না আকলিমা বেগম (৩০) ও তার দুই বছরের শিশু বাচ্ছা মোজাহিদের। মা ছেলে গ্রাম থেকে শহরে এসে ঈদের কেনাকাটা করে সিএনজি যোগে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আকলিমা-মোজাহিদসহ আহতদেরকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে ভর্তি করিয়ে অন্যদের পাঠিয়ে দেন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে। সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর শিশু মোজাহিদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রেফার্ড করা হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে। সেখানেই চিকিৎসারত অবস্থায় রবিবার সন্ধ্যায় শিশু মুজাহিদের মৃত্যু হয়। এর কিছুক্ষন পরই মৌলভীবাজারের সদর হাসপাতালে শিশুটির মা আকলিমা বেগম মারা যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইসচার্জ আব্দুছ ছালেক বলেন, ‘আকলিমা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশ্রিদ্রোন ইউনিয়নের ভূজপুর গ্রামের হোসেন মিয়ার স্ত্রী। নিহত আকলিমা তার শিশু বাচ্ছাকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে রবিবার শহরে আসে। কেনাকাটা শেষে বেলা দুইটার দিকে সিএনজি যোগে বাড়ি ফেরার পথে শহরতলীর শাহজী বাজার এলাকায় বিপরীত দিকে থেকে আসা তেলবাহী ট্যাংক লরির সংঘর্ষে সিএনজির ৫যাত্রী আহত হয়। এর মধ্যে আকলিমা ও মোজাহিদ মারা যান।’

এছাড়া উদনারপারের নুরুজ মিয়ার স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪০), সাতগাঁও এলাকার আব্দুর রহমানের পুত্র আব্দুল হাই(২৭) গুরুতর আহত হন। আর জিলাদপুর গ্রামের ইছাক মিয়ার পুত্র মো. কামাল মিয়া (৪০)কে শ্রীমঙ্গলেই চিকিৎসা দেয়া হয়।

তিনি আরো জানান, তেলবাহী ট্যাংক লরী ময়মনসিংহ-ঢ-১১-০০১৩ ও সিএনজি অটোরিক্সা মৌলভীবাজার-থ-১২-৭২৩১ দূর্ঘটনা কবলিত গাড়ি দুইটি তাদের আওতায় নিয়ে এসেছেন। তেলবাহী ট্যাংক লরীর চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। এব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ময়না তদন্তের পর লাশ দু’টি পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হয়েছে।

সোমবার বিকাল পনে তিনটার দিকে ওই এলাকার ওয়ার্ড সদস্য মো. লিটন মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে লাশ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে তাদের ভুজপুরের বাড়িতে এসে পৌঁছে। এসময় বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারনা ঘটে। তাদের পারিবারিক অবস্থা বেশ ভাল না বলে যোগ করেন ইউপি সদস্য।