2:41 pm, Saturday, 31 October 2026

হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজে হামলা, ২৫ জনকে উদ্ধার করল ওমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: হরমুজ প্রণালীর অবরুদ্ধ নৌপথে একের পর এক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রণালীতে হামলার শিকার একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ২৫ ক্রুকে উদ্ধার করেছে ওমান।

ওমান মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘রিটি’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। ওমান জানায়, জাহাজটি পানামার পতাকা বহন করছিল।

জাহাজ চলাচলের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘মেরিন ট্রাফিক’ এটিকে অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকার হিসেবে শনাক্ত করেছে।
ইরান যখন দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য ‘অনুমোদিত নয় এমন রুট’ ব্যবহারের চেষ্টা করায় চারটি তেলবাহী ট্যাংকারকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, ঠিক তখনই এ ঘটনা ঘটল।

ওমানের নৌ কর্তৃপক্ষ যে ট্যাংকার থেকে ক্রুদের উদ্ধার করেছে, এটি সেই চারটির একটি কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওই চারটি জাহাজই তেল বহন করছিল।

‘দুর্ঘটনা’ কিংবা মাইন বিস্ফোরণের মুখে পড়ার পর জাহাজগুলোকে থামানো হয়েছিল।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘দুটি অপরাধী তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীর একটি পূর্ব অংশে এবং অন্যটি পশ্চিম অংশ দিয়ে অননুমোদিত রুট ব্যবহার করে পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। পথেই এগুলো দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় এবং প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় থামতে বাধ্য হয়।’

এর কয়েক ঘণ্টা পর আইআরজিসি জানায়, আরও দুটি ট্যাংকার– যার প্রতিটিতে ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল ছিল– একটি ‘অননুমোদিত রুট’ দিয়ে যাওয়ার সময় মাইন বিস্ফোরণে ‘বিস্ফোরিত হয় এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়’।

এদিকে, ইরানের নৌবাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিকে শত্রুপক্ষের একটি চালকহীন জলযানকে আঘাত করে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তেহরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ যাতায়াত না করার জন্য বারবার সতর্ক করে আসছে ইরান।

বিভিন্ন জাহাজে হামলার দায় তারা স্বীকার করেছে। এমনকি গত মাসে ইরান জানিয়েছিল, অনুমোদন ছাড়া হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেই জাহাজগুলোকে ‘ধ্বংসের’ মুখোমুখি হতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে দাবি করে আসছে তেহরান।

তবে সাগরে মাইন পুঁতে রাখার এই দাবি অস্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শুক্রবার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রধান নৌপথগুলো’ থেকে ইরানি মাইন সফলভাবে অপসারণ ও মুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বর্তমানে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এইচএসসির পাসের হার

হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজে হামলা, ২৫ জনকে উদ্ধার করল ওমান

Update Time : 08:23:28 am, Saturday, 31 October 2026

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: হরমুজ প্রণালীর অবরুদ্ধ নৌপথে একের পর এক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। চলমান এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রণালীতে হামলার শিকার একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ২৫ ক্রুকে উদ্ধার করেছে ওমান।

ওমান মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ‘রিটি’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে থাকা কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে। ওমান জানায়, জাহাজটি পানামার পতাকা বহন করছিল।

জাহাজ চলাচলের গতিপথ পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘মেরিন ট্রাফিক’ এটিকে অপরিশোধিত তেলের ট্যাংকার হিসেবে শনাক্ত করেছে।
ইরান যখন দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার জন্য ‘অনুমোদিত নয় এমন রুট’ ব্যবহারের চেষ্টা করায় চারটি তেলবাহী ট্যাংকারকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে, ঠিক তখনই এ ঘটনা ঘটল।

ওমানের নৌ কর্তৃপক্ষ যে ট্যাংকার থেকে ক্রুদের উদ্ধার করেছে, এটি সেই চারটির একটি কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ওই চারটি জাহাজই তেল বহন করছিল।

‘দুর্ঘটনা’ কিংবা মাইন বিস্ফোরণের মুখে পড়ার পর জাহাজগুলোকে থামানো হয়েছিল।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘দুটি অপরাধী তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালীর একটি পূর্ব অংশে এবং অন্যটি পশ্চিম অংশ দিয়ে অননুমোদিত রুট ব্যবহার করে পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। পথেই এগুলো দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয় এবং প্রণালীর দক্ষিণাঞ্চলীয় জলসীমায় থামতে বাধ্য হয়।’

এর কয়েক ঘণ্টা পর আইআরজিসি জানায়, আরও দুটি ট্যাংকার– যার প্রতিটিতে ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল ছিল– একটি ‘অননুমোদিত রুট’ দিয়ে যাওয়ার সময় মাইন বিস্ফোরণে ‘বিস্ফোরিত হয় এবং সেগুলোতে আগুন ধরে যায়’।

এদিকে, ইরানের নৌবাহিনী শুক্রবার জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালীর পূর্ব দিকে শত্রুপক্ষের একটি চালকহীন জলযানকে আঘাত করে ধ্বংস করে দিয়েছে।

তেহরানের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ যাতায়াত না করার জন্য বারবার সতর্ক করে আসছে ইরান।

বিভিন্ন জাহাজে হামলার দায় তারা স্বীকার করেছে। এমনকি গত মাসে ইরান জানিয়েছিল, অনুমোদন ছাড়া হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে সেই জাহাজগুলোকে ‘ধ্বংসের’ মুখোমুখি হতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে দাবি করে আসছে তেহরান।

তবে সাগরে মাইন পুঁতে রাখার এই দাবি অস্বীকার করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শুক্রবার ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীর ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রধান নৌপথগুলো’ থেকে ইরানি মাইন সফলভাবে অপসারণ ও মুক্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বর্তমানে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

সূত্র: আল জাজিরা