1:37 am, Saturday, 22 August 2026

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এফডিআরের অর্থ আত্মসাৎ

বিশেষ প্রতিবেদক: মৌলভীবাজার হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও একঘেয়েমিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত পড়েছে। লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের এক হাজার ছাত্রীরা। প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম নিয়োগের পর থেকে বিদ্যালয়ের এমন পরিবেশ বিরাজ করছে।নথিপত্র, অভিভাবকদের বক্তব্য, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকের অভিমত পর্যালোচনা করে দুর্নীতির এমন চিত্র পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম নিয়োগের পর থেকেই শিক্ষার মানোন্নয়নের চেয়ে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। রসিদ ছাড়া মাসিক বেতন ও ভর্তি ফি আদায়, ভুয়া বিল ভাউচার, সাদা কাগজে টাকা উত্তোলন, তহবিল আত্নসাৎ, বন্ধের দিনে শিক্ষার্থীদের টিফিনের নামে বিল উত্তোলন, রেজুলেশন-ক্যাশবুকে গরমিল, খণ্ডকালীন শিক্ষকের নামে আত্মীয়দের নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মারধর, শিক্ষকদের স্বাক্ষর জালসহ অভিযোগের অসংখ্য অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন রাশেদা বেগম। তার নিয়োগ নিয়ে এখনো বিতর্ক শেষ হয়নি। তিনি যোগদানকালীন বিদ্যালয়ের ৩২ লাখ টাকার এফডিআর ছিল। ১০ বছরের ব্যবধানে বিদ্যালয়ে দ্বিগুণ শিক্ষার্থী হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বেতন ও ভর্তি ফি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এই ১০ বছরে রাশেদা বেগম বিদ্যালয়ে কাঠামো ভেঙে চুরমারসহ ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও জেলা শিক্ষা অফিস ২০১৭ সালে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করে। তদন্তে ৬৮ লাখ ৫ হাজার ২৬৯ টাকার দুর্নীতি বেরিয়ে আসে। ৫ আগস্টের পর অভিভাবক ও শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেহনাজ ফেরদৌস। পরিদর্শনকালে শিক্ষক-কর্মচারী ছুটি রেজিস্টার, পরীক্ষার ফলাফল রেজিস্টার, বাজেট রেজিস্টার, স্টক রেজিস্টার, গার্ড ফাইল ও অভিভাবক সভা রেজিস্টার পাননি এবং অন্যান্য রেজিস্টার অনিয়মিতসহ সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ পাননি। প্রতিষ্ঠান প্রধান দাপ্তরিক কাজে কর্মদক্ষ নয় বলেও তিনি পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা সমবায় কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সদস্যরা ১৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ে তদন্ত করতে গেলে তাদের সহযোগিতা করা হয়নি বলে সভাপতিকে অবগত করেন কমিটির আহ্বায়ক। এ ঘটনায় ২৩ ফেব্রুয়ারি সভাপতি প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। প্রধান শিক্ষক নোটিশের জবাব না দিয়ে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, তদন্ত কমিটির আহ্বায়কসহ ৭ জনকে বিবাদী করে মৌলভীবাজার আদালতে মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি আশষ্কা করছেন বিবাদীরা তাকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করতে পারে। অভিভাবক মুজিবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ৮টি ক্লাসের মধ্যে মাত্র ১-২টি ক্লাস হয়। ফলে কিছুদিন ধরে তার মেয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। অভিভাবক ফটিক মিয়া বলেন, মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের জন্য ১৫০০ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তাকে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।
প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম বলেন, ‘সভাপতি বিদ্যালয়ে এসে খাতাপত্র দেখতে চাইলে তখন তা অসম্পন্ন ছিল। পরবর্তীতে সব শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে খাতাপত্র ঠিক করি। মূলত, আমাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছিল। সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেহনাজ ফেরদৌস বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয় পরিচালনা করতে গিয়ে দেখি খুব দুরবস্থা। জেলা সদরের স্কুল এমন হতে পারে না। আয়-ব্যয়ের কোনো ভারসাম্য নেই। রেজিস্টার ও নথিপত্র নেই। ফলাফল খুবই খারাপ। এগুলো সংশোধন করার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলি। তিনি কিছু সংশোধনও করেন। আর্থিক সচ্ছলতা ও বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে আমি একটি তদন্ত কমিটি করে দিই। তিনি সেই তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা না করে নিজের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা থেকে বাঁচার জন্য জেলা প্রশাসকসহ ৭ জনের নামে মামলা করেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে সেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে  র্বণাঢ্য র‌্যালী ও সমবাবেশ এবং বৃক্ষরেপান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ: হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এফডিআরের অর্থ আত্মসাৎ

Update Time : 12:06:56 pm, Monday, 7 April 2025

বিশেষ প্রতিবেদক: মৌলভীবাজার হাফিজা খাতুন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও একঘেয়েমিতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত পড়েছে। লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিদ্যালয়ের এক হাজার ছাত্রীরা। প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম নিয়োগের পর থেকে বিদ্যালয়ের এমন পরিবেশ বিরাজ করছে।নথিপত্র, অভিভাবকদের বক্তব্য, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকের অভিমত পর্যালোচনা করে দুর্নীতির এমন চিত্র পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম নিয়োগের পর থেকেই শিক্ষার মানোন্নয়নের চেয়ে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। রসিদ ছাড়া মাসিক বেতন ও ভর্তি ফি আদায়, ভুয়া বিল ভাউচার, সাদা কাগজে টাকা উত্তোলন, তহবিল আত্নসাৎ, বন্ধের দিনে শিক্ষার্থীদের টিফিনের নামে বিল উত্তোলন, রেজুলেশন-ক্যাশবুকে গরমিল, খণ্ডকালীন শিক্ষকের নামে আত্মীয়দের নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের মারধর, শিক্ষকদের স্বাক্ষর জালসহ অভিযোগের অসংখ্য অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক হিসাবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন রাশেদা বেগম। তার নিয়োগ নিয়ে এখনো বিতর্ক শেষ হয়নি। তিনি যোগদানকালীন বিদ্যালয়ের ৩২ লাখ টাকার এফডিআর ছিল। ১০ বছরের ব্যবধানে বিদ্যালয়ে দ্বিগুণ শিক্ষার্থী হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বেতন ও ভর্তি ফি বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এই ১০ বছরে রাশেদা বেগম বিদ্যালয়ে কাঠামো ভেঙে চুরমারসহ ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও জেলা শিক্ষা অফিস ২০১৭ সালে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করে। তদন্তে ৬৮ লাখ ৫ হাজার ২৬৯ টাকার দুর্নীতি বেরিয়ে আসে। ৫ আগস্টের পর অভিভাবক ও শিক্ষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেহনাজ ফেরদৌস। পরিদর্শনকালে শিক্ষক-কর্মচারী ছুটি রেজিস্টার, পরীক্ষার ফলাফল রেজিস্টার, বাজেট রেজিস্টার, স্টক রেজিস্টার, গার্ড ফাইল ও অভিভাবক সভা রেজিস্টার পাননি এবং অন্যান্য রেজিস্টার অনিয়মিতসহ সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ পাননি। প্রতিষ্ঠান প্রধান দাপ্তরিক কাজে কর্মদক্ষ নয় বলেও তিনি পরিদর্শন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন। পরে ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা সমবায় কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সদস্যরা ১৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ে তদন্ত করতে গেলে তাদের সহযোগিতা করা হয়নি বলে সভাপতিকে অবগত করেন কমিটির আহ্বায়ক। এ ঘটনায় ২৩ ফেব্রুয়ারি সভাপতি প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। প্রধান শিক্ষক নোটিশের জবাব না দিয়ে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, তদন্ত কমিটির আহ্বায়কসহ ৭ জনকে বিবাদী করে মৌলভীবাজার আদালতে মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করেন, তিনি আশষ্কা করছেন বিবাদীরা তাকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করতে পারে। অভিভাবক মুজিবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন ৮টি ক্লাসের মধ্যে মাত্র ১-২টি ক্লাস হয়। ফলে কিছুদিন ধরে তার মেয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। অভিভাবক ফটিক মিয়া বলেন, মেয়ের এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের জন্য ১৫০০ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তাকে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।
প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম বলেন, ‘সভাপতি বিদ্যালয়ে এসে খাতাপত্র দেখতে চাইলে তখন তা অসম্পন্ন ছিল। পরবর্তীতে সব শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে খাতাপত্র ঠিক করি। মূলত, আমাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার চক্রান্ত করা হয়েছিল। সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেহনাজ ফেরদৌস বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয় পরিচালনা করতে গিয়ে দেখি খুব দুরবস্থা। জেলা সদরের স্কুল এমন হতে পারে না। আয়-ব্যয়ের কোনো ভারসাম্য নেই। রেজিস্টার ও নথিপত্র নেই। ফলাফল খুবই খারাপ। এগুলো সংশোধন করার জন্য প্রধান শিক্ষককে বলি। তিনি কিছু সংশোধনও করেন। আর্থিক সচ্ছলতা ও বিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে আমি একটি তদন্ত কমিটি করে দিই। তিনি সেই তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা না করে নিজের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা থেকে বাঁচার জন্য জেলা প্রশাসকসহ ৭ জনের নামে মামলা করেন।