10:48 am, Monday, 3 August 2026

৯ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে আর্জেন্টিনার পারেদেস

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠের ভেতরে বিশৃঙ্খল ও উগ্র আচরণের দায়ে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অন্তত ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে ফিফা।

তবে ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার একটি বিশেষ আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ফিফার এই কঠোর শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় স্প্যানিশ ফুটবলারদের সঙ্গে অপ্রীতিকর হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, বোকা জুনিয়র্সের এই তারকা স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে লাথি মারছেন এবং ধাক্কা দিচ্ছেন। এরপর তিনি তরুণ তারকা গাভিকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।
এই বিশৃঙ্খলায় নাহুয়েল মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও জড়িত ছিলেন।
ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যে ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার বলেন, ‘পারেদেস একজনের মুখে সরাসরি ঘুষি চালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি সরাসরি তাদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। ফুটবলে এমন উগ্র আচরণের কোনো জায়গা নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা জানি এই হার তাদের জন্য কতটা কষ্টের, কিন্তু হার মেনে নেওয়ারও একটি ভব্যতা আছে। আর্জেন্টিনার কাছ থেকে আমরা বারবার এমন আচরণ দেখছি। ফাইনাল শেষে তাদের এই প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ।’
শুরুতে শোনা গিয়েছিল যে রেফারি স্লাভকো ভিনসিক পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়েছেন, কিন্তু পরে জানা যায় সেই মুহূর্তে মাঠের ভেতরে তার বিরুদ্ধে কোনো তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফিফা বর্তমানে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য কমপক্ষে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তিনটি ভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হলে পারেদেসের মোট ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে একটি বিশেষ উপায়ে পারেদেস এই শাস্তি এড়াতে পারেন। তিনি যদি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন, তবে এই নিষেধাজ্ঞা তাকে আর ভোগ করতে হবে না। সাধারণত জাতীয় দলের নিষেধাজ্ঞা ক্লাব ফুটবলে কার্যকর হয় না, যদি না ফিফা বিশেষ ধারা ‘আর্টিকেল ৭০’ প্রয়োগ করে। ২০১৪ সালে লুইস সুয়ারেজকে এই ধারার অধীনে সব ধরণের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে পারেদেসের অপরাধ অতটা গুরুতর না হওয়ায় ফিফা সম্ভবত এক্ষেত্রে সেই কঠোর ধারাটি ব্যবহার করবে না।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পারেদেস বলেন, ‘আমি জানি না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমাকে পুরো বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে এবং তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অবশ্যই এটি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে।’ ফিফার এই দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা হয়তো তাকে দ্রুত অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, কারণ অবসর নিলে তাকে এই শাস্তির মুখে আর পড়তে হবে না।

অন্যদিকে, ফাইনালের সময় মার্ক কুকুরেয়াকে বিপদে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে লিওনেল মেসির প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্প্যানিশ সমর্থকরা। তারা মেসির ‘প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস’ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড কেড়ে নেওয়ার জন্য সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। তবে রেফারি ভিনসিক মেসির পক্ষ নিয়ে বলেছেন, ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা পুরো ম্যাচ জুড়েই অত্যন্ত খেলোয়াড়সুলভ আচরণ করেছেন এবং কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেননি।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

৯বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে জামায়াত নেতা গ্রেপ্তার

৯ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার মুখে আর্জেন্টিনার পারেদেস

Update Time : 09:15:16 am, Sunday, 2 August 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠের ভেতরে বিশৃঙ্খল ও উগ্র আচরণের দায়ে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অন্তত ৯ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে ফিফা।

তবে ৩২ বছর বয়সী এই ফুটবলার একটি বিশেষ আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ফিফার এই কঠোর শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারেন বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত ১৯ জুলাই নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় স্প্যানিশ ফুটবলারদের সঙ্গে অপ্রীতিকর হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।

টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, বোকা জুনিয়র্সের এই তারকা স্পেনের এরিক গার্সিয়াকে লাথি মারছেন এবং ধাক্কা দিচ্ছেন। এরপর তিনি তরুণ তারকা গাভিকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।
এই বিশৃঙ্খলায় নাহুয়েল মোলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও জড়িত ছিলেন।
ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যে ইংল্যান্ডের সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়ারার বলেন, ‘পারেদেস একজনের মুখে সরাসরি ঘুষি চালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি সরাসরি তাদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন। ফুটবলে এমন উগ্র আচরণের কোনো জায়গা নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা জানি এই হার তাদের জন্য কতটা কষ্টের, কিন্তু হার মেনে নেওয়ারও একটি ভব্যতা আছে। আর্জেন্টিনার কাছ থেকে আমরা বারবার এমন আচরণ দেখছি। ফাইনাল শেষে তাদের এই প্রতিক্রিয়া ছিল ভয়াবহ।’
শুরুতে শোনা গিয়েছিল যে রেফারি স্লাভকো ভিনসিক পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়েছেন, কিন্তু পরে জানা যায় সেই মুহূর্তে মাঠের ভেতরে তার বিরুদ্ধে কোনো তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফিফা বর্তমানে এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে। ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক আচরণের জন্য কমপক্ষে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তিনটি ভিন্ন অভিযোগ প্রমাণিত হলে পারেদেসের মোট ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে একটি বিশেষ উপায়ে পারেদেস এই শাস্তি এড়াতে পারেন। তিনি যদি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন, তবে এই নিষেধাজ্ঞা তাকে আর ভোগ করতে হবে না। সাধারণত জাতীয় দলের নিষেধাজ্ঞা ক্লাব ফুটবলে কার্যকর হয় না, যদি না ফিফা বিশেষ ধারা ‘আর্টিকেল ৭০’ প্রয়োগ করে। ২০১৪ সালে লুইস সুয়ারেজকে এই ধারার অধীনে সব ধরণের ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে পারেদেসের অপরাধ অতটা গুরুতর না হওয়ায় ফিফা সম্ভবত এক্ষেত্রে সেই কঠোর ধারাটি ব্যবহার করবে না।

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পারেদেস বলেন, ‘আমি জানি না। এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমাকে পুরো বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে এবং তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। অবশ্যই এটি নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন আছে।’ ফিফার এই দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা হয়তো তাকে দ্রুত অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, কারণ অবসর নিলে তাকে এই শাস্তির মুখে আর পড়তে হবে না।

অন্যদিকে, ফাইনালের সময় মার্ক কুকুরেয়াকে বিপদে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে লিওনেল মেসির প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্প্যানিশ সমর্থকরা। তারা মেসির ‘প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস’ স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড কেড়ে নেওয়ার জন্য সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন। তবে রেফারি ভিনসিক মেসির পক্ষ নিয়ে বলেছেন, ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা পুরো ম্যাচ জুড়েই অত্যন্ত খেলোয়াড়সুলভ আচরণ করেছেন এবং কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করেননি।