ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বকাপসহ ফিফার প্রধান টুর্নামেন্টগুলোর মালিকানা ও বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের শক্তিশালী মহলের নজিরবিহীন ঐক্য, রাজনৈতিক চাপ এবং ঘরের ভেতরের তীব্র বিদ্রোহের মুখে পড়ে শনিবার নিজের এই বিতর্কিত প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দেন তিনি।
যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাত্র এক দিন আগেও খোলামেলা আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো, ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেটি পুরো প্রত্যাহার করে নেওয়া তার ১০ বছরের দীর্ঘ ফুটবল শাসনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মূলত ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি নতুন বাণিজ্যিক অঙ্গসংস্থা গঠন করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সবচেয়ে লাভজনক আসরগুলোর ২০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো।
৪২০ কোটি ডলার তোলার লক্ষ্য নিয়ে সাজানো এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৭ সাল নাগাদ ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেককে ২ কোটি থেকে শুরু করে ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত দেওয়ার প্রলোভনও দেওয়া হয়। তবে বিপুল অর্থের এই প্রস্তাব ফুটবল বিশ্বের কাছে অনুদানের চেয়ে বেশি ফুটবলকে ব্যবসায়ীদের হাতে সঁপে দেওয়ার বিপজ্জনক চেষ্টা হিসেবে গণ্য হয়।
ইনফান্তিনোর এই একলা চলার নীতির বিরুদ্ধে প্রথম ও সবচেয়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইউরোপীয় ফুটবলের সংস্থা উয়েফা। তারা পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তাদের ৫৫টি সদস্য দেশ বিশ্বকাপ বয়কট করবে।
তাদের আশঙ্কা ছিল, বিনিয়োগকারীদের মুনাফা বাড়াতে গিয়ে ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, যা ইতিমধ্যেই প্রচণ্ড শারীরিক চাপে থাকা তারকা খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার এবং ঘরোয়া ফুটবল লিগগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।
ইউরোপের এই কড়া অবস্থানের পর একে একে উত্তর আমেরিকার কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। এমনকি ইনফান্তিনোর অন্ধ সমর্থক হিসেবে পরিচিত আফ্রিকান ফুটবল সংস্থাও তাকে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়া থেকে বিরত থাকে।
বাহ্যিক এই বয়কট বার্তার পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের তীব্র সমালোচনা ও ফিফার নিজস্ব প্রশাসনিক চত্বরে বিদ্রোহ ইনফান্তিনোকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলে। তার শীর্ষ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করে এই চুক্তিকে ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর বলে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার কেভিন লামুর প্রকাশ্যে এটি ইনফান্তিনোর একগুঁয়ে ব্যক্তিগত প্রজেক্ট বলে তোপ দাগেন।
সব মিলিয়ে চারিদিকের তীব্র অসন্তোষের মুখে ইনফান্তিনো শেষ পর্যন্ত স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, উদ্দেশ্য যা-ই হোক না কেন, ফুটবল পরিবারে এর ফলে তৈরি হওয়া বিভাজন কোনোভাবেই কাম্য নয়। তবে ২০২৭ সালের আসন্ন ফিফা সভাপতি নির্বাচনের ঠিক আগে এমন চরম ব্যাকফুটে চলে যাওয়া ইনফান্তিনোর ক্ষমতার ভিত্তিকে নতুন করে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক 



























