মতিন বকশ
রাজনৈতিক সম্প্রীতি হলো এমন হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে বিভিন্ন দল ও মতের মানুষ বা দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঝগড়া না করে শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখে। এর মূল ভিত্তি হলো ভিন্ন মতকে মেনে নেওয়া, সহনশীলতা এবং দেশের কল্যাণকে সবার আগে স্থান দেওয়া।
রাজনৈতিক সম্প্রীতির মূল কথা ভিন্ন মতের সম্মান: নিজের আদর্শ ঠিক রেখেও অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো।
সহিংসতা পরিহার: বলপ্রয়োগ বা হানাহানি বাদ দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা।গণতন্ত্র রক্ষা: সুষ্ঠু রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখা।
কেন রাজনৈতিক সম্প্রীতি দরকার?শান্তি ও শৃঙ্খলা: দেশে শান্তি ও স্থায়িত্ব বজায় থাকে।
উন্নয়ন: দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।জনগণে স্বস্তি: মানুষ নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে। মানুষ একটা সুন্দর রাষ্ট্র চায় মানুষ চায় শান্তিতে বসবাস তাই রাজনীতিবীদ তার চিন্তায় এবং চেতনায় সহনশীলতা এবং একে অন্যের প্রতি সম্মান বোধ নিয়ে কথা বলা বা আচরণ হতে হবে। সম্প্রীতি বজায় রেখে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। যদি রাষ্ট্র ব্যার্থ হয় তাহলে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থায় মানুষ চলে যাবে আবার ও পতিত ফ্যাসিবাদ প্রবেশ করতে পারে তা তো সবার জন্যে কাম্যতা নয়? মনে রাখতে হবে ১৭ বছর আমরা ছিলাম এক অন্ধকার জাহিলিয়াত যুগে সেখানে আমাদের ছিলনা কোন বাকস্বাধীনতা ছিলনা ভোটের অধিকার। ছাত্রজনতা আর রাজনৈতিক সমষ্টি মিলে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মাধ্যমে জুলুমের অবসান হয়ে আমরা একটা আশাজাগানিয়া রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি। জুলাই আগষ্ট বিপ্লবের রক্তের ক্ষতচিহ্ন এখনো শুকায়নি এখনো শহীদ মাতাদের করুন বুকফাটা আত্মনাদ কানে বাসে। এই কথা মাথায় রেখে সবাই সবার সর্বোচ্চ সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।
রাজনীতিতে ভাষার প্রয়োগ কেমন হবে ঃ
রাজনীতিতে ভাষার প্রয়োগ হওয়া উচিত মার্জিত, দায়িত্বশীল, শিষ্টাচারপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী। ভাষা কেবল প্রতিপক্ষকে আক্রমণ বা ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার নয়, এটি সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার ও পরিবর্তনের মাধ্যম।
আদর্শ রাজনৈতিক ভাষার বৈশিষ্ট্যশালীনতা ও শিষ্টাচার: ব্যক্তিগত আক্রমণ, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বা অবমাননাকর শব্দ এড়িয়ে চলা।সত্য ও স্বচ্ছতা: সত্যকে গোপন করা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বদলে স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত বার্তা দেওয়া।সহযোগিতা ও ঐক্য: বিভেদ তৈরির পরিবর্তে মানুষকে একত্রিত করার ভাষা ব্যবহার করা।দায়বদ্ধতা: জনগণের প্রতি সম্মান রেখে সংযত ও মার্জিত বাক্য উচ্চারণ করা।ভাষার অপপ্রয়োগের নেতিবাচক প্রভাবরাজনৈতিক সহিংসতা ও সামাজিক দূরত্ব বৃদ্ধি পায়।সাধারণ মানুষের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়।
সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।রাজনীতিতে শব্দের সঠিক ও পরিশীলিত ব্যবহার একটি সুন্দর ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ভাষার মার্জিত ব্যবহার হল রাজনীতি এবং ব্যক্তির আসল রুপ।
আপনি অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলেন তাতে কাহারও আপত্তি থাকার কথা নয়।
আপনি রাষ্ট্রীয় মতভেদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করুন তাতে আপত্তি থাকার কথা নয়।
আমি ব্যক্তি চাঁদাজাজ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী রাষ্ট্রীয় তহবিল তসরুপ কারী ঘোষ বাণিজ্য কারী তাহাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন অবশ্য সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করবে। কিন্তু হিংসামূলক উদ্দেশ্য মূলক বক্তব্য ব্যক্তি উপর আঘাত হয় এমন বক্তব্য শুধু ঐক্য নষ্ট নয় গোটা সমাজ ব্যবস্থায় আঘাত সৃষ্টি করে। তাই সহনশীলতা মার্জিত ভাষা রাজনৈতিক আচরণ একজন ব্যক্তি বা রাজনীতিবীদের আচরণ হয়া উচিৎ।
মতিন বকশ, সমাজ কর্মী, সংবাদ কর্মী, সদস্য জেলা বিএনপি।

মতিন বকশ 


























