8:08 am, Sunday, 19 April 2026

৩০ দিনের মধ্যে আবারও তামিমের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে: চিকিৎসক

ডেস্ক রিপোর্ট : আপাতত সুস্থ আছেন তামিম। কথা বলতে পারছেন, খাবারও গ্রহণ করছেন। দিন দুয়েকের মধ্যে বাসায় যেতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে সুস্থ হয়ে ফিরলেও ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছেন না তামিম ইকবাল। তার পরিবারের ইতিহাস ঘেঁটে চিকিৎসক জানালেন, ভবিষ্যতে ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক এ অধিনায়ক।
গত সোমবার (২৪ মার্চ) সাভারে ডিপিএলের ম্যাচ খেলতে গিয়ে বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম।
পরবর্তীতে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় তার। এরপর গাজীপুরের কেপিজে হাসপাতালের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসেন এ ক্রিকেটার। তার দুদিন পর তাকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে।
সেখানকার কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তালুকদার বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) তামিমের শারীরিক অবস্থার কথা জানাতে গিয়ে তার ভবিষ্যত ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘তার (তামিমের) পরিবারের ইতিহাসটা খারাপ। তাদের পরিবারের রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার প্রবণতা আছে। ওইটা তার হয়েছে। তার ব্লক ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। তার উপর রক্ত জমাট বেঁধে সম্পূর্ণ হার্ট অ্যাটাকটা হয়েছে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ সে এখন নিরাপদ। ইনশা-আল্লাহ সে ভালো করবে। কিন্তু হার্টঅ্যাটাকের পরে ওর যে জটিলতা হয়েছিল, এ চিকিৎসাটা না পেলে ৩০ দিনের মধ্যে আবার এটা হয় এবং ৫০ শতাংশ রোগী মারা যায়। এখন যেহেতু আধুনিক চিকিৎসা পেয়েছে, এ ঝুঁকিটা অনেক কমে গেছে। কিন্তু আমাদের দিকনিদের্শনা যেটা, প্রথমবার হার্ট অ্যাটাক হওয়া রোগীদের খুবই সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে ভবিষ্যতে। তাদের এটা হওয়ার প্রবণতা আবার থাকতে পারে, ব্লক নাও হতে পারে।’
ভবিষ্যতে ঝুঁকি থেকে বাঁচতে তামিমকে লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি খাবার, ডিসিপ্লিনেও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘ওকে (তামিম) নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে, ফলোআপে থাকতে হবে। লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে। ডায়েট, ডিসিপ্লিন আর ঔষধে অনিয়ম করা যাবে না। তামিমের টিম, পরিবার এবং তামিম নিজেকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। শুধু আমরা চিকিৎসা দিলেই হবে না। সবকিছু মেনে চলতে হবে।’

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ার হাওরে বোরো ধান কাটার মহোৎসব

৩০ দিনের মধ্যে আবারও তামিমের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আছে: চিকিৎসক

Update Time : 07:34:05 am, Saturday, 29 March 2025

ডেস্ক রিপোর্ট : আপাতত সুস্থ আছেন তামিম। কথা বলতে পারছেন, খাবারও গ্রহণ করছেন। দিন দুয়েকের মধ্যে বাসায় যেতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে সুস্থ হয়ে ফিরলেও ঝুঁকিমুক্ত হচ্ছেন না তামিম ইকবাল। তার পরিবারের ইতিহাস ঘেঁটে চিকিৎসক জানালেন, ভবিষ্যতে ফের হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক এ অধিনায়ক।
গত সোমবার (২৪ মার্চ) সাভারে ডিপিএলের ম্যাচ খেলতে গিয়ে বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তামিম।
পরবর্তীতে ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় তার। এরপর গাজীপুরের কেপিজে হাসপাতালের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসেন এ ক্রিকেটার। তার দুদিন পর তাকে নিয়ে আসা হয় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে।
সেখানকার কার্ডিওলজি বিভাগের সিনিয়র চিকিৎসক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তালুকদার বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) তামিমের শারীরিক অবস্থার কথা জানাতে গিয়ে তার ভবিষ্যত ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘তার (তামিমের) পরিবারের ইতিহাসটা খারাপ। তাদের পরিবারের রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার প্রবণতা আছে। ওইটা তার হয়েছে। তার ব্লক ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশ। তার উপর রক্ত জমাট বেঁধে সম্পূর্ণ হার্ট অ্যাটাকটা হয়েছে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ সে এখন নিরাপদ। ইনশা-আল্লাহ সে ভালো করবে। কিন্তু হার্টঅ্যাটাকের পরে ওর যে জটিলতা হয়েছিল, এ চিকিৎসাটা না পেলে ৩০ দিনের মধ্যে আবার এটা হয় এবং ৫০ শতাংশ রোগী মারা যায়। এখন যেহেতু আধুনিক চিকিৎসা পেয়েছে, এ ঝুঁকিটা অনেক কমে গেছে। কিন্তু আমাদের দিকনিদের্শনা যেটা, প্রথমবার হার্ট অ্যাটাক হওয়া রোগীদের খুবই সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে ভবিষ্যতে। তাদের এটা হওয়ার প্রবণতা আবার থাকতে পারে, ব্লক নাও হতে পারে।’
ভবিষ্যতে ঝুঁকি থেকে বাঁচতে তামিমকে লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আনার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি খাবার, ডিসিপ্লিনেও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
শাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘ওকে (তামিম) নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে, ফলোআপে থাকতে হবে। লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে হবে। ডায়েট, ডিসিপ্লিন আর ঔষধে অনিয়ম করা যাবে না। তামিমের টিম, পরিবার এবং তামিম নিজেকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। শুধু আমরা চিকিৎসা দিলেই হবে না। সবকিছু মেনে চলতে হবে।’