9:12 pm, Tuesday, 21 April 2026

তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহ সংকটে কমছে না ভোগান্তি

ডেস্ক রিপোর্ট :: বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হলেও রাজধানীতে জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বনশ্রী ফিলিং স্টেশন লিমিটেড, হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সকাল থেকেই বনশ্রী ফিলিং স্টেশন লিমিটেড ও হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ ছিল।

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। দুপুরে জ্বালানি বোঝাই গাড়ি পৌঁছালে পুনরায় বিক্রি শুরু হতে পারে।
হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পাম্প বন্ধ থাকলেও তেল নেওয়ার আশায় শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এই সারিতে ভোর থেকেই অপেক্ষা করছেন চালকরা।

কেউ কেউ আগের রাত থেকেই লাইনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এখানে এক মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল বলেন, তেল আসলে যেন আগে নিতে পারি, সেই আশায় অপেক্ষা করছি।

অন্যদিকে রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি চললেও সেখানে তেল নিতে চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি মূল সড়কেও যানজট সৃষ্টি করেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না।

এর আগে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (১৮ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তবে দাম সমন্বয়ের পরও সরবরাহ সংকট ও পাম্পে অচলাবস্থা থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক গ্রাহক ‘রেশনিং’ পদ্ধতির কারণে সীমিত পরিমাণ তেল পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা মেজবা উদ্দিন নামে এক গ্রাহক বলেন, সরকার দাম বাড়ালো সিন্ডিকেট ভাঙতে, কিন্তু তেল যদি না-ই পাওয়া যায় তবে এই দাম বাড়িয়ে লাভ কী? পর্যাপ্ত মজুত থাকলে পাম্পগুলো কেন বন্ধ?

তবে কেউ কেউ মনে করছেন, দাম বাড়ার ফলে যারা মজুতদার ছিল তাদের দৌরাত্ম্য কমবে। সাইফুল নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, দাম বাড়ায় এখন আর কেউ তেল জমিয়ে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ পাবে না। আশা করি দুই-একদিনের মধ্যে লাইন কমে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা দেশের বাজারেও বড় প্রভাব ফেলেছে। সরকার দাম সমন্বয় করে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও, সাধারণ গ্রাহকদের দাবি দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বন্ধ পাম্পগুলো দ্রুত চালু করা জরুরি। অন্যথায় এই দীর্ঘ লাইন আর জনভোগান্তি সহসাই কাটছে না।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

Popular Post

কুলাউড়ায় ভাঙাচোরা সড়কে মানুষের চরম ভোগান্তি

তেলের দাম বাড়লেও সরবরাহ সংকটে কমছে না ভোগান্তি

Update Time : 10:34:55 am, Sunday, 19 April 2026

ডেস্ক রিপোর্ট :: বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হলেও রাজধানীতে জ্বালানি সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে অনেক পেট্রোল পাম্পে তেল না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও সাধারণ গ্রাহকরা।

রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বনশ্রী ফিলিং স্টেশন লিমিটেড, হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সকাল থেকেই বনশ্রী ফিলিং স্টেশন লিমিটেড ও হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ ছিল।

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত তেল বিক্রি বন্ধ রয়েছে। দুপুরে জ্বালানি বোঝাই গাড়ি পৌঁছালে পুনরায় বিক্রি শুরু হতে পারে।
হাজিপাড়া সিএনজি ফিলিং স্টেশনে পাম্প বন্ধ থাকলেও তেল নেওয়ার আশায় শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। প্রায় আধা কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এই সারিতে ভোর থেকেই অপেক্ষা করছেন চালকরা।

কেউ কেউ আগের রাত থেকেই লাইনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
এখানে এক মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রাজ্জাক জুয়েল বলেন, তেল আসলে যেন আগে নিতে পারি, সেই আশায় অপেক্ষা করছি।

অন্যদিকে রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন পেট্রোল পাম্পে তেল বিক্রি চললেও সেখানে তেল নিতে চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি মূল সড়কেও যানজট সৃষ্টি করেছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না।

এর আগে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার (১৮ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তবে দাম সমন্বয়ের পরও সরবরাহ সংকট ও পাম্পে অচলাবস্থা থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক গ্রাহক ‘রেশনিং’ পদ্ধতির কারণে সীমিত পরিমাণ তেল পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

রাজারবাগ সার্ভিস স্টেশন পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে আসা মেজবা উদ্দিন নামে এক গ্রাহক বলেন, সরকার দাম বাড়ালো সিন্ডিকেট ভাঙতে, কিন্তু তেল যদি না-ই পাওয়া যায় তবে এই দাম বাড়িয়ে লাভ কী? পর্যাপ্ত মজুত থাকলে পাম্পগুলো কেন বন্ধ?

তবে কেউ কেউ মনে করছেন, দাম বাড়ার ফলে যারা মজুতদার ছিল তাদের দৌরাত্ম্য কমবে। সাইফুল নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, দাম বাড়ায় এখন আর কেউ তেল জমিয়ে বেশি দামে বিক্রির সুযোগ পাবে না। আশা করি দুই-একদিনের মধ্যে লাইন কমে যাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা দেশের বাজারেও বড় প্রভাব ফেলেছে। সরকার দাম সমন্বয় করে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও, সাধারণ গ্রাহকদের দাবি দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বন্ধ পাম্পগুলো দ্রুত চালু করা জরুরি। অন্যথায় এই দীর্ঘ লাইন আর জনভোগান্তি সহসাই কাটছে না।