12:07 am, Wednesday, 24 June 2026

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট :: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপতৎপরতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সব সময় তৎপর রয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।

সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি বলেন, সভা-সমাবেশ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এর মাধ্যমে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রুখতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাসদস্যদের বেসামরিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব সময়ই সতর্ক থাকতে হয়। বিভিন্ন জেলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ের মতো কার্যক্রমের চেষ্টা দেখা গেছে। এতে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাসদস্যদের আইনের আওতায় বেসামরিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যাতে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেনা মোতায়েনকে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার কখনো বিজিবি, কখনো সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে থাকে।

প্রায় দেড় বছর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব জেলায় নাশকতা বা অপতৎপরতার চেষ্টা হয়েছে, সেসব এলাকাতেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কিছু মহল সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের এক সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পরে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কোনো সংসদ সদস্যের সন্তানের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা নেই।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেখানে এক হিন্দু নারীর আলাদা প্রদেশ চাওয়ার বক্তব্যের প্রসঙ্গও এসেছে।

তিনি বলেন, এটা তার মুখ ফসকে বলা কথা হতে পারে। তাকে যেন সেই বার্তাটি দেওয়া হয়। বক্তৃতা দেওয়ার সময় অনেকেই অতিউৎসাহী হয়ে এমন কিছু কথা বলে ফেলেন।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

মৌলভীবাজারে মৃত্যুদাবীর চেক হস্তান্তর করলো সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Update Time : 10:14:25 am, Monday, 22 June 2026

ডেস্ক রিপোর্ট :: কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অপতৎপরতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হয়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সব সময় তৎপর রয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।

সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি বলেন, সভা-সমাবেশ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এর মাধ্যমে গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের অপতৎপরতা রুখতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ধরনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাসদস্যদের বেসামরিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সব সময়ই সতর্ক থাকতে হয়। বিভিন্ন জেলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ের মতো কার্যক্রমের চেষ্টা দেখা গেছে। এতে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। তাই সব বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাসদস্যদের আইনের আওতায় বেসামরিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যাতে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলা করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সেনা মোতায়েনকে পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার কখনো বিজিবি, কখনো সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়ে থাকে।

প্রায় দেড় বছর মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব সেনাবাহিনীকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার পরিস্থিতির কোনো সম্পর্ক নেই।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব জেলায় নাশকতা বা অপতৎপরতার চেষ্টা হয়েছে, সেসব এলাকাতেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কিছু মহল সক্রিয় রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের এক সাবেক সংসদ সদস্যের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পরে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কোনো সংসদ সদস্যের সন্তানের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা নেই।

তিনি জানান, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এ কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেখানে এক হিন্দু নারীর আলাদা প্রদেশ চাওয়ার বক্তব্যের প্রসঙ্গও এসেছে।

তিনি বলেন, এটা তার মুখ ফসকে বলা কথা হতে পারে। তাকে যেন সেই বার্তাটি দেওয়া হয়। বক্তৃতা দেওয়ার সময় অনেকেই অতিউৎসাহী হয়ে এমন কিছু কথা বলে ফেলেন।