12:45 am, Tuesday, 30 June 2026

২৮ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনলে বাজেট ঘাটতি থাকবে না: শফিকুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট : গত সাড়ে ১৭ বছরে দেশ থেকে পাচার হওয়া ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই পাচার হওয়া অর্থের মাত্র ৯ ভাগের এক ভাগ যদি ফিরিয়ে আনা যায়, তবে বাজেটে কোনো ঘাটতি থাকবে না।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাজেটে কোনো স্পষ্ট গাইডলাইন নেই। শুধু টাকা নয়, যারা এই লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত সেই কালপ্রিটদেরও ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, ৫-৭ জন বড় ডাকাতের হাতে গত ১৫ বছর দেশ লুণ্ঠিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ডাকাত তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে এমওইউ সই করে দ্রুত এই সম্পদ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

জুলাই-জুন নয়, ক্যালেন্ডার ইয়ার অনুযায়ী অর্থবছরের প্রস্তাব
বাজেট আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ার কারণে মে-জুন মাসে তাড়াহুড়ো করে অর্থ ছাড় করা হয়। ওই সময় বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকায় ৪২ শতাংশ কাজ শেষের দিকে দায়সারাভাবে হয়। এতে অপচয় ও লুটপাটের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে যায়।’

তিনি আরও প্রস্তাব করেন, প্রতি তিন বা চার মাস অন্তর বাজেটের ইভ্যালুয়েশন বা মূল্যায়ন রিপোর্ট সংসদে পেশ করা উচিত। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার হবে।

‘ভোলা সেতু পুরো দেশের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে’
জামায়াত আমির বলেন, দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা ভোলা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাওয়া ভোলাবাসীর অধিকার। এই জেলায় যে অপার প্রাকৃতিক সম্ভাবনা রয়েছে, প্রস্তাবিত সেতু নির্মিত হলে তা শুধু ভোলার নয় বরং গোটা দেশের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে। তাই ‘নিয়ামতের খনি’ ভোলাকে আর উপেক্ষিত না রেখে এই স্বপ্নের সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা ভোলা অন্য কোনো জেলার সঙ্গে স্থলভাগে সংযুক্ত নয়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাওয়া ভোলাবাসীর নাগরিক অধিকার। ভোলায় যে প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে এই সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এই স্বপ্নের সেতু বাস্তবায়ন হলে তা শুধু ভোলাবাসীর নয়, বরং সারাদেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।’

তিনি আরও বলেন, ভোলা একটি নিয়ামতের খনি, একে আর উপেক্ষিত রাখা ঠিক হবে না। দক্ষিণ জনপদের উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধির স্বার্থে ভোলার এই স্বপ্নের সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।

Tag :
About Author Information

Sirajul Islam

কমলগঞ্জে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

২৮ লাখ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনলে বাজেট ঘাটতি থাকবে না: শফিকুর রহমান

Update Time : 08:38:32 am, Monday, 29 June 2026

ডেস্ক রিপোর্ট : গত সাড়ে ১৭ বছরে দেশ থেকে পাচার হওয়া ২৮ লক্ষ কোটি টাকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই পাচার হওয়া অর্থের মাত্র ৯ ভাগের এক ভাগ যদি ফিরিয়ে আনা যায়, তবে বাজেটে কোনো ঘাটতি থাকবে না।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাজেটে কোনো স্পষ্ট গাইডলাইন নেই। শুধু টাকা নয়, যারা এই লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত সেই কালপ্রিটদেরও ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, ৫-৭ জন বড় ডাকাতের হাতে গত ১৫ বছর দেশ লুণ্ঠিত হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ডাকাত তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে এমওইউ সই করে দ্রুত এই সম্পদ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

জুলাই-জুন নয়, ক্যালেন্ডার ইয়ার অনুযায়ী অর্থবছরের প্রস্তাব
বাজেট আলোচনায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ার কারণে মে-জুন মাসে তাড়াহুড়ো করে অর্থ ছাড় করা হয়। ওই সময় বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থাকায় ৪২ শতাংশ কাজ শেষের দিকে দায়সারাভাবে হয়। এতে অপচয় ও লুটপাটের দুয়ার উন্মুক্ত হয়ে যায়।’

তিনি আরও প্রস্তাব করেন, প্রতি তিন বা চার মাস অন্তর বাজেটের ইভ্যালুয়েশন বা মূল্যায়ন রিপোর্ট সংসদে পেশ করা উচিত। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং জনগণের ট্যাক্সের টাকার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার হবে।

‘ভোলা সেতু পুরো দেশের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে’
জামায়াত আমির বলেন, দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা ভোলা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাওয়া ভোলাবাসীর অধিকার। এই জেলায় যে অপার প্রাকৃতিক সম্ভাবনা রয়েছে, প্রস্তাবিত সেতু নির্মিত হলে তা শুধু ভোলার নয় বরং গোটা দেশের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দেবে। তাই ‘নিয়ামতের খনি’ ভোলাকে আর উপেক্ষিত না রেখে এই স্বপ্নের সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের সর্বদক্ষিণের জেলা ভোলা অন্য কোনো জেলার সঙ্গে স্থলভাগে সংযুক্ত নয়। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা পাওয়া ভোলাবাসীর নাগরিক অধিকার। ভোলায় যে প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে এই সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এই স্বপ্নের সেতু বাস্তবায়ন হলে তা শুধু ভোলাবাসীর নয়, বরং সারাদেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।’

তিনি আরও বলেন, ভোলা একটি নিয়ামতের খনি, একে আর উপেক্ষিত রাখা ঠিক হবে না। দক্ষিণ জনপদের উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধির স্বার্থে ভোলার এই স্বপ্নের সেতু দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক।